জাতীয় সংবাদ

প্রথমবারের মতো সংসদ নির্বাচনে ভোট দিলেন কারাবন্দিরা

প্রবাহ রিপোর্টঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন কারান্তরীণ ব্যক্তিরা। যা দেশের ইতিহাসে প্রথম। পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে বন্দিরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। পাশাপাশি অংশ নিচ্ছেন গণভোটেও।ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করা ৫ হাজার ৯৯০ কারাবন্দির মধ্যে শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন ৪ হাজার ৬৭ জন বন্দি। এর মধ্যে কারাগারে থাকা একাধিক সাবেক মন্ত্রী-এমপিসহ অর্ধশত ভিআইপি বন্দিও রয়েছেন।শনিবার শেষ দিনে নিবন্ধন করা বাকি ১ হাজার ৯২৩ জন বন্দি পোস্টাল ব্যালটে ভোট না দিলে তাদের ভোট বাতিল হয়ে যাবে বলে জানিয়েছে কারা সূত্র।সূত্র বলছে, জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীর তৎকালীন উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, আনিসুল হক, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদসহ ৩৯ জন ভিআইপি বন্দি ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছিলেন। তাদের মধ্যে ২২ জন রাজনৈতিক নেতা, ১১ জন সাবেক সচিব, পাঁচজন পুলিশ কর্মকর্তা ও একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। তারা সবাই কেরানীগঞ্জের বিশেষ কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।কারাগারের সাংগঠনিক কাঠামোতে ঢাকা বিভাগ দুটি ভাগে বিভক্ত। কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারসহ ১০টি কারাগার ঢাকা বিভাগ-১-এর আওতাভুক্ত। গাজীপুরের কাশিমপুরের চারটি কারাগারসহ ১০টি কারাগার ঢাকা বিভাগ-২-এর আওতাধীন। ঢাকা বিভাগ-১-এর আওতায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ১ হাজার ৫৮ জন, বিশেষ কারাগারে ৮৯ জন, ফরিদপুর জেলা কারাগারে ৫২ জন, নারায়ণগঞ্জে ৮৮ জন, মুন্সিগঞ্জে ২৭ জন, রাজবাড়ীতে ৯৬ জন, মাদারীপুরে ২৬ জন, গোপালগঞ্জে ৩৩ জন ও শরীয়তপুরে সাতজন নিবন্ধন করেছেন। সব মিলিয়ে এ বিভাগে ভোট দেবেন ১ হাজার ৪৭৬ বন্দি। ঢাকা বিভাগ-২-এর আওতায় কাশিমপুর-১-এ ১৬১ জন, কাশিমপুর-২-এ ১৪১ জন, কাশিমপুর মহিলা কারাগারে ৬০ জন, হাই সিকিউরিটি কারাগারে ৬২৯ জন, টাঙ্গাইলে ৮১ জন, কিশোরগঞ্জ-১-এ ১৫ জন, গাজীপুরে ৩৪ জন, নরসিংদীতে ২৮ জন ও মানিকগঞ্জে ৩৪ জন নিবন্ধন করেছেন। সব মিলিয়ে এ বিভাগে নিবন্ধনের সংখ্যা ১ হাজার ১৮৩। এর বাইরে চট্টগ্রাম বিভাগে নিবন্ধন করা বন্দির সংখ্যা ১ হাজার ২ জন, খুলনা বিভাগে ৬৮০, রংপুর বিভাগে ৩১৫, রাজশাহী বিভাগে ৬৮৯, বরিশাল বিভাগে ২৪৫, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৫৫ ও সিলেটে ভোট দিতে নিবন্ধন করেছেন মোট ৫৬৮ বন্দি।কারা অধিদপ্তরের সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন) জান্নাত-উল-ফরহাদ বলেন, মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে ভোটের কার্যক্রম। যারা নিবন্ধন করেছেন তাদের প্রত্যেককে একটি প্যাকেটে তিনটি করে খাম দেওয়া হচ্ছে। প্যাকেটে নির্দেশাবলিসহ একটি খামে রয়েছে ব্যালট পেপার, অন্য খামে “হ্যাঁ” অথবা “না” ভোটের (গণভোট) ব্যালট পেপার। বড় একটি খামে এ দুই ব্যালট পেপার ঢুকিয়ে আঠা লাগিয়ে দিতে হবে। এ আঠা লাগানোর পর খাম ছেঁড়া ছাড়া খোলা সম্ভব নয়। খামে ভরে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেবেন বন্দিরা। কারা কর্তৃপক্ষ সেগুলো পোস্ট অফিসে পাঠাবেন। ডাক বিভাগ এক্সপ্রেস ব্যবস্থায় খামগুলো নির্বাচন কমিশনে পাঠাবে। এরপর নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় জমা পড়া ভোটের সংখ্যা যুক্ত করবে।তিনি বলেন, শনিবার পর্যন্ত নিবন্ধন করা বাকি ১ হাজার ৯২৩ বন্দি পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন।কারা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, গত ৩ ফেব্রুয়ারি ১ হাজার ৫২১ জন বন্দি, পরদিন ৯৮৮ জন বন্দি, ৫ ফেব্রুয়ারি ১ হাজার ১৩৮ জন বন্দি এবং শুক্রবার ৪২০ বন্দি পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন।উল্লেখ্য, দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম কারাগারে থাকা বন্দিদের ভোটাধিকার প্রয়োগের ব্যবস্থা করেছে সরকার। নির্বাচন কমিশনের অ্যাপে কারা কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় বন্দিরা তিন সপ্তাহ ধরে অনলাইনে নিবন্ধনপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। ৫ জানুয়ারি এই নিবন্ধন শেষ হয়েছে। সেদিন দেশের ৭৫টি কারাগারে ৮৬ হাজার বন্দি ছিলেন। তাদের মধ্যে ৫ হাজার ৯৯০ জন বন্দি নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে ত্রুটিপূর্ণ ৩৮০টি আবেদন বাতিল করা হয়েছে। বাকি বন্দিরা আবেদন করেননি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button