জাতীয় সংবাদ

সংস্কার, পুনর্গঠন ও বৈষম্যহীন সমাজের প্রতিশ্রুতি গণসংহতি আন্দোলনের ইশতেহারে

প্রবাহ রিপোর্ট : শিক্ষা, অর্থনীতি, জনপ্রশাসনসহ নানা খাতে সংস্কারের মধ্য দিয়ে জাতি পুনর্গঠন করে ‘বৈষম্যহীন সমাজ’ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহার ঘোষণা করেছে গণসংহতি আন্দোলন। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটে থাকা দলটি বলছে, দেশ শাসনের সুযোগ পেলে তারা সার্বভৌমত্বকে প্রাধান্য দিয়ে নাগরিকদের অধিকার, মর্যাদা, সুরক্ষা নিশ্চিত করা; প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষা; নারীর ক্ষমতায়ন ও রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং নতুন অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক বন্দোবস্ত গড়ে তোলার মাধ্যমে ‘ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের’ উদ্যোগ নিতে চায়। রোবরার দুপুরে রাজধানীর হাতিরপুলে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ইশতেহার ঘোষণা করেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও দলের নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল। তিনি দাবি করেন, গণসংহতি আন্দোলনের এই ইশতেহার কেবল কিছু “প্রতিশ্রুতির সমাহার নয়”, বরং এটি “ভবিষ্যৎ রাজনীতির দিশা।” রুবেল বলেন, “বাংলাদেশকে নতুন করে গঠন করার যে সম্ভাবনা হাজির হয়েছে, তাকে বাস্তবায়নের পথনকশা (এই ইশতেহার)। এখানে আমরা গুরুত্ব দিয়েছি একটা সত্যিকারের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায়, যেখানে রাজনৈতিক অধিকারের পাশাপাশি সম্পদের বণ্টনেও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে এবং একটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অনুশীলনের মাধ্যমে দুর্নীতি দূর করে সুশাসন কায়েম করা হবে। “আমরা গুরুত্ব দিয়েছি এদেশের শ্রমিক কৃষক শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় জাতি, ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি, লিঙ্গের ভিত্তিতে যে বৈষম্য, সেই বৈষম্যের অবসানের বিষয়ে। বাংলাদেশের অর্থনীতির একটা রূপান্তরের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক খাতে নিয়ে এসে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করায় গুরুত্ব দিয়েছি।” ইশতেহারে নতুন কর্মসংস্থান তৈরিতে অর্থনীতির উৎপাদনশীল রূপান্তর, কৃষকের স্বার্থ রক্ষা করে কৃষির বিকাশ, সব শিশুর জন্য নিরাপদ সৃজনশীল বিকাশ নিশ্চিত করতে শিক্ষা ব্যবস্থাসহ জাতীয় আয়োজনে ভবিষ্যৎমুখী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ, সবার জন্য সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা, ‘চিকিৎসার অভাবে কেউ মারা যাবে না’-এই নীতির ভিত্তিতে সার্বজনীন স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার কথাও বলেন গণসংহতি আন্দোলনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক। নারীর রাজনৈতিক অধিকার ও ক্ষমতায়ন, নারীর সমমর্যাদা অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বাংলাদেশের প্রকৃতিকে সুরক্ষায় সমস্ত অর্থনৈতিক কর্মকা-ে প্রকৃতির সুরক্ষার প্রশ্নটিকে প্রাধান্য দেওয়া, নদী, খাল, বনভূমি, দখল ও দূষণ মুক্ত করা, প্রকৃতির ন্যায্য হিসসা আদায়, প্রকৃতি উপযোগী নগরায়নে অগ্রাধিকারের কথাও বলা হয়েছে গণসংহতি আন্দোলনের ইশতেহারে। জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও নীতি সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তা ও অগ্রগতি নিশ্চিত করা, বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর পরিচয়ের স্বীকৃতি, বৈচিত্র্যসহ নিজস্ব সংস্কৃতির বিকাশ, প্রতিবন্ধীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, তরুণ জনগোষ্ঠীর বিকাশ ও সুযোগের পরিসর বৃদ্ধি, প্রবাসী বাংলাদেশিদের অধিকার, মর্যাদা, সুরক্ষা এবং দেশের উৎপাদনশীল রূপান্তরে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে সেখানে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটভুক্ত গণসংহতি আন্দোলনের ১৭ জন প্রার্থী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। রুবেল বলেন, “আমরা অঙ্গীকার করছি, নির্বাচনে জয়ী হলে আমাদের প্রত্যেক জনপ্রতিনিধি জাতীয় সংসদে পরিবর্তনের এই কর্মসূচিগুলোকেই বারংবার তুলে ধরবেন। এই কর্মসূচিগুলোর আলোকে জনগণের সকল স্বার্থকে রক্ষায় আমরা মরণপন সংগ্রাম করে যাব।” তিনি বলেন, গণসংহতি আন্দোলন তাদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকা-ের ধারাবাহিকতাতেই একটি ‘ভিন্ন বাংলাদেশের’ সম্ভাবনা জনগণের সামনে তুলে ধরতে চায়। “আমাদের এই ইশতেহারে একদিকে যেমন আছে শ্রমিক, কৃষক, মধ্যবিত্ত, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশা, লিঙ্গ পরিচয়ের মানুষদের নিয়ে আমাদের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার প্রতিফলন। তেমনি আছে বাংলাদেশ নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞ, লেখক, বুদ্ধিজীবী পরিকল্পনাবিদদের ভাবনার সাথে মিথস্ক্রিয়ার প্রভাব। “গত কয়েক দশকের রাজনৈতিক পরিক্রমায় বাস্তব প্রয়োজনের সাপেক্ষে কোনো কোনো বিষয়ে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছে, কিন্তু মূলনীতির জায়গায় আমরা এক জায়গায় স্থির আছি; আর তা হল বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থের বাইরে আমাদের আর কোনো স্বার্থ নেই।” রুবেল বলেন, “সংবিধানে আমরা মুক্তিযুদ্ধ এবং জুলাই অভ্যুত্থানে জনগণের আকাক্সক্ষার প্রতিফলন চাই। আমরা চাই একটা সমৃদ্ধ উৎপাদনশীল বাংলাদেশ গড়তে, যেখানে তরুণরা নিজেরা উদ্যোক্তা হবেন কিংবা মনের মত কাজ করতে পারবেন। “শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার রক্ষা পাবে, কৃষক তার পণ্যের ন্যায্য মজুরি পাবেন। নারীর জন্য দেশটা নিরাপদ হবে। রাষ্ট্র সকলের জন্য মানসম্মত চিকিৎসা ও শিক্ষা নিশ্চিত করবে “ তিনি বলেন, “আমরা চাই এমন দেশ যেখানে চিকিৎসক, কৃষিবিদ, শিক্ষক, প্রকৌশলী সকলে তার নিজ নিজ পেশায় বাধাহীন বিকাশ অর্জন করতে পারবেন। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতিটি ছেলেমেয়ে ভাববে এই দেশটা আমার। আমি যা চাই তা হতে পারব।”
কর্মসংস্থান ও শিল্পায়ন
কর্মসংস্থান ও শিল্পায়ন যে ‘খুবই গুরুত্বপূর্ণ’, সে কথা তুলে ধরে আবুল হাসান রুবেল বলেন, “২৪ এর গণঅভ্যুত্থান থেকে শুরু করে বাংলাদেশে যতগুলো অভ্যুত্থান হয়েছে, যতগুলো আন্দোলন হয়েছে, তার একটা বড় কারণ হচ্ছে এখানে মানুষের কর্মসংস্থানের অভাব। এখানে যে ধরনের উন্নয়ন হয়েছে সেই ধরনের উন্নয়নের ভেতরে দেখা যাবে, একটা কর্মসংস্থানবিহীন উন্নয়ন হয়েছে। “এই কর্মসংস্থানবিহীন বড় বড় প্রকল্পের যে উন্নয়ন, এই প্রকল্পের উন্নয়ন এদেশের মানুষের ভাগ্যকে বদলাতে পারেনি। বরং কতিপয় লোকের হাতে অর্থ ক্ষমতা এগুলো কুক্ষিগত করেছে।” তিনি বলেন, “আমরা একটা বিরাট পরিকল্পনা হাজির করতে চাই। যে পরিকল্পনার মাধ্যমে বাংলাদেশে কর্মসংস্থানের বিকাশ হবে। অনানুষ্ঠানিক খাতকে আনুষ্ঠানিক খাতে নিয়ে আসা এবং বাংলাদেশের শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থানের নতুন জায়গা তৈরি করে বাংলাদেশকে একটা ট্রিলিয়ন ডলারের ইকোনমিতে পরিণত করার পরিকল্পনা আমরা দ্রুতই বাস্তবায়ন করতে চাই। “যেটার মাধ্যমে আসলে বাংলাদেশ সামনে এগিয়ে যেতে পারবে। বিদ্যমান যে বখরাতন্ত্র, সেই বখরাতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশকে একটা উৎপাদনশীল ভিত্তির উপরে দাঁড় করাতে চাই। আমরা শিক্ষা থেকে শুরু করে সমস্ত খাতকেই আসলে এটার উপযোগী করে সাজিয়ে তুলতে চাই।”
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ
নির্বাচনি ইশতেহারে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বাজার বুঝে নিয়ন্ত্রণ, নীতির পরিবর্তন ও সুশাসন নিশ্চিত করতে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে গণসংহতি আন্দোলন। রুবেল বলেন, “এই যে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে, তার একটা গুরুত্বপূর্ণ কারণ হচ্ছে পথে পথে যে চাঁদাবাজি হয়, মার্কেটে যে চাঁদাবাজি হয়, সেটার প্রভাব আসলে দ্রব্যমূল্যে পড়ছে। আজকে কৃষক ফসলের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না। কিন্তু আমাদের এখানে যারা আমরা শহরে তা কিনে খাচ্ছি তাদের অনেক বেশি মূল্য দিতে হচ্ছে। “এটাকে পরিবর্তন করতে হলে আমাদের যে কোনো কৃষি পণ্যের সর্বোচ্চ এবং সর্বনি¤œ মূল্য ঠিক করতে হবে।” সিন্ডিকেট ভেঙে বাজারে প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে দ্রব্যমূল্য ‘কমে আসতে বাধ্য’ বলে মনে করেন গণসংহতি আন্দোলনের এই নেতা। দুর্নীতির ফলে বাংলাদেশে বিপুল পরিমাণে অর্থের অপচয় ও পাচার হচ্ছে মন্তব্য করে রুবেল বলেন, “এটা সামাল দিতে একটা বিস্তৃত পরিকল্পনা দরকার। এইবার দুর্নীতি দমনেও আমরা বেশ কিছু প্রস্তাবের বিষয়ে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছি। কিন্তু তারপরেও দুর্নীতির আরো অনেকগুলো ক্ষেত্র আছে।” ইশতেহারে দুর্নীতিরোধে দুর্নীতি দমন কমিশনকে শক্তিশালী করা, ব্যাংক কোম্পানি আইনের সংশোধন করে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে একই পরিবারের চারজন সদস্যের পরিচালক পদে থাকার বিধান বাতিল করা, ডিজিটাল টেন্ডার প্রক্রিয়া চলু করে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে গণসংহতি আন্দোলন।
‘সমমর্যাদার ভিত্তিতে’ অন্যান্য রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক
গণসংহতি আন্দোলনের নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল বলেন, তার দল আন্তর্জাতিকভাবে ‘কারো সঙ্গে শত্রুতা’ সৃষ্টি করতে চায় না। “কিন্তু আমরা আমাদের মর্যাদা, আমাদের সার্বভৌমত্ব, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে কোন ধরনের হস্তক্ষেপ অন্য কেউ যাতে করতে না পারে সেটা প্রতিষ্ঠা করব। আমরা সমমর্যাদার ভিত্তিতে অন্যান্য রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কিত হব। “বাংলাদেশের কৌশলগত ভূরাজনৈতিক অবস্থানের সুবিধাকে ব্যবহার করে একটা স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতিকে আমরা আমাদের জায়গায় নিয়ে যাব।” তিনি বলেন, গণসংহতি আন্দোলন পররাষ্ট্রনীতিকে ‘গতিশীল, আধুনিক ও যুগোপযোগী করে’ অর্থনৈতিক কূটনীতি, সাংস্কৃতিক কূটনীতির বিষয়েও নজর রাখতে চায়।
শিক্ষা সংস্কার
ইশতেহারে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা, শিক্ষকদের আলাদা বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন, শিক্ষার ব্যবস্থাপনায় আমলাতন্ত্রের নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে শিক্ষকদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা ও শিক্ষার মানোন্নয়নে মাধ্যমে শিক্ষাখাত সংস্কার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে গণসংহতি আন্দোলন। রুবেল বলেন, “শিক্ষার মান বাংলাদেশে দিনের পর দিন কমে যাচ্ছে। এ বিষয়ে আসলে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজন। দেশের সমস্ত জায়গায় বিশ^বিদ্যালয় করা হয়েছে যে বিশ^বিদ্যালয়ের অনেকগুলোরই আসলে মান রক্ষা করার সক্ষমতা নাই। ফলে যেসব বিশ^বিদ্যালয় মান রক্ষা করতে পারছে না সেগুলোকে কারিগরি শিক্ষার জন্য রূপান্তর করব। “বিশ^বিদ্যালয় শিক্ষাকে একটা নিবিড় জ্ঞান অনুশীলন এবং গবেষণার ক্ষেত্র হিসেবে যাতে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা যায় সে বিষয়ে আমরা নজর দেব।”
‘নিরময় নয়, প্রতিরোধের স্বাস্থ্যনীতি’
রোগের নিরাময় নয় বরং রোগ হওয়া থেকে প্রতিরোধ করাই গণসংহতি আন্দোলনের স্বাস্থ্যনীতির মূল লক্ষ্য হবে বলে তুলে ধরেন আবুল হোসেন রুবেল। তিনি বলেন, “সেই জায়গায় আমরা পরিবেশ এবং খাদ্যকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করি। পরিবেশ এবং খাদ্যের জায়গায় যদি আমরা উন্নত করতে পারি, তাহলে আসলে আমাদের রোগ হওয়া থেকে প্রতিরোধ করাটা সহজতর হবে।” স্বাস্থ্য খাতের অবকাঠামোগুলোর কাজে লাগাতে যোগ্য ডাক্তার, নার্স ও টেকনোলজিস্ট নিয়োগ এবং হাকিমি, আয়ুর্বেদী, কবিরাজি ইত্যাদি প্রাকৃতিক ব্যবস্থাগুলো নিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও তিনি বলেন।
কৃষি আধুনিকায়ন
ইশতেহারে গণসংহতি আন্দোলন বলছে, “আমরা মনে করি কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের দাম যেভাবে নির্ধারণ করা হলে পেশা হিসেবে কৃষি আকর্ষণী হয় সেটা নিশ্চিত করা জরুরি। কৃষকের উৎপাদন খরচ কমানোর জন্য পানি, সার, বীজ, বালাইনাশক, যন্ত্রপাতিসহ প্রতিটি কৃষি উপকরণের মুনাফার সর্বোচ্চ হার নির্ধারণ করা দরকার।” দলটি প্রধান কৃষিপণ্যগুলোর সর্বোচ্চ মূল্য এমনভাবে নির্ধারণ করতে চায়, যেন শহরের বাসিন্দারা সুলভ মূল্যে তা কিনতে পারেন। ইশতেহারে বলা হয়েছে, “নিরাপদ ও বিষমুক্ত কৃষিকে প্রণোদনা প্রদানের মাধ্যমে ধীরে ধীরে সেটিকে কৃষকের জন্য আকর্ষণীয় করে তুলতে হবে। তরুণদের কৃষিতে আকৃষ্ট করার জন্য শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ এবং সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। “কৃষি সমবায়ের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদনকে সহজ করা এবং বাজার উৎপাদন ও বিপণনে ক্ষুদ্র কৃষকের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা দরকার। কৃষি গবেষণাকে প্রাধান্য দেওয়া কৃষি গবেষণা উন্নয়ন এবং গবেষকদের আমলাতন্ত্রের নিয়ন্ত্রণমুক্ত করা জরুরি।” পাহাড়, সমতল, উপকূল-প্রতিটি প্রতিবেশগত অঞ্চল ভেদে কৃষির আলাদা আলাদা পরিকল্পনা করার কথাও ইশতেহারে বলেছে গণসংহতি আন্দোলন। অন্যদের মধ্যে দলের সদস্য সচিব ও দলের রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য দেওয়ান আব্দুর রশিদ নীলু, ঢাকা-১২ আসনের প্রার্থী ও রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য তাসলিমা আখতার, ঢাকা-৩ আসনের প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় সদস্য বাচ্চু ভূঁইয়া, কেন্দ্রীয় নেতা আমজাদ হোসেন, বেলায়েত শিকদার, অঞ্জন দাসসহ অনেকে ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button