নির্বাচন-পরবর্তী সংঘাত : বাগেরহাটে বিভিন্ন স্থানে হামলা-ভাঙচুর, আহত ৩৫

প্রবাহ রিপোর্ট : বাগেরহাটের বিভিন্ন স্থানে নির্বাচন-পরবর্তী হামলা-পাল্টা হামলা, ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ৩৫ জন আহত হয়েছেন। ভোট গণনা শেষে বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকায় পাল্টাপাল্টি হামলায় এসব ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
হামলা-পাল্টা হামলায় বাগেরহাট সদর, মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলায় অন্তত ১৫টি বসতবাড়ি ভাঙচুর ও তছনছ করেছে প্রতিপক্ষরা। এ নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতের স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রায় প্রতিটি ঘটনায় বিএনপি ও জামায়াতের পক্ষ থেকে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করা হচ্ছে। বাগেরহাট সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের মান্দ্রা গ্রামে ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি কারি মোল্লা, জামায়াত কর্মী জাহাঙ্গীর শেখ, ইয়াকুব আলী হাওলাদার ও মশিউর রহমানসহ ৫-৬ জনের বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গভীর রাতে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল লোক এ ঘটনা ঘটায়।
এদিকে, এ ঘটনার জেরে শুক্রবার সকালে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিরাজুল ইসলামের বাড়িসহ বেশ কয়েকজন বিএনপি কর্মীর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। বিএনপির অভিযোগ, জামায়াতের সমর্থক আনোয়ারুল হাওলাদার ও সুমন হাওলাদারের নেতৃত্বে হামলার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বাগেরহাট সদর উপজেলার বারইপাড়া বাজারে কয়েকটি দোকান বন্ধ করে দিয়েছেন স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ।
এদিকে, কচুয়া উপজেলার গোপালপুর শহীদ আসাদ স্মৃতি মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর প্রতিপক্ষের মারধরে আসাদ মোল্লা, মোশারেফ শেখ ও শফিক মীর নামে বিএনপির তিন কর্মী আহত হয়েছেন।
আহতদের অভিযোগ, স্বতন্ত্র প্রার্থী এমএএইচ সেলিমের (ঘোড়া প্রতীক) সমর্থক মিজান শেখের নেতৃত্বে কয়েকজন আসাদ মোল্লা ও মোশারেফকে মারধর করেন। শরীফ শিকদার ও সজীব শিকদার মারধর করেন শফিক মীরকে। এ ছাড়া, কচুয়ার বাধাল বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় জামায়াত সমর্থকদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের বিরুদ্ধে।
এদিকে, মোরেলগঞ্জ-শরণখোলায় বিএনপির পরাজিত প্রার্থীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, মারধর ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন ওই আসনের বিজয়ী প্রার্থী মো. আব্দুল আলীম।
তিনি বলেন, দুই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, মারধর ও হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। এতে তাদের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। দাঁড়িপাল্লার পক্ষে কাজ করার কারণে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তালা দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তিনি প্রশাসনকে দ্রুত এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। অন্যথায় বিপরীত কিছু ঘটলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে।
নির্বাচনে জেলার চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে বাগেরহাট-১, ২ ও ৪ এই তিনটি আসনে জামায়াতের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। আর বাগেরহাট-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী জয় পেয়েছেন।
বাগেরহাট জেলা জামায়াতের আমির মো. রেজাউল করিম বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে পরাজিত ও বিজয়ী প্রার্থীর সমর্থকরা জেলার বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতা করছে। আমাদের নেতাকর্মীদের মারধর, বাড়িঘরে হামলা ও হুমকি দিচ্ছে। যা মোটেই কাম্য নয়। আমরা আমাদের নেতাকর্মীদের সংযত থাকতে বলেছি। এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।
তবে বাগেরহাট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এটিএম আকরাম হোসেন তালিম বলেন, আমরা সবাইকে শান্ত থাকতে বলেছি। নির্বাচন হয়ে গেছে, সবাই মেনে নিয়েছে। এখন সংঘাতের কোনো কারণ নেই। এগুলোর সঙ্গে আমাদের দলের কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতিটি ঘটনায় প্রশাসনকেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাই।
জানতে চাইলে বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. হাসান চৌধুরী বলেন, বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ আসছে। ভাঙচুরসহ কিছু বিশৃঙ্খলার ঘটনাও ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে। যেকোনো অপরাধের বিষয়ে আমাদের জিরো টলারেন্স। যেসব ঘটনা ঘটেছে, জড়িতদের ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।



