জাতীয় সংবাদ

জাতীয় সংসদের ইতিহাসে জামায়াত হবে চতুর্থ বৃহত্তম বিরোধী দল

প্রবাহ রিপোর্টঃ জাতীয় সংসদের ইতিহাসে চতুর্থ বৃহত্তম দল হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সংসদীয় দলের সভায় দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমানকে বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে। নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের হচ্ছেন বিরোধী দলীয় উপনেতা। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম হতে পারেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ। মঙ্গলবার ১১ দলীয় জোটের এমপিরা একসঙ্গে বৈঠক করলেও এনসিপি পৃথক সংসদীয় দল গঠনের কথা ভাবছে বলে জানা গেছে। বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত নয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত জোট মোট ৭৭টি আসনে জয়ী হয়েছে। এককভাবে জামায়াতে ইসলামী ৬৮ আসনে, এনসিপি ৬, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২ এবং খেলাফত মজলিস ১টি আসনে জয়লাভ করে। ১৯৯৬ সালের (জুন) সপ্তম সংসদ নির্বাচনে ১১৬ আসন নিয়ে এককভাবে বৃহত্তম বিরোধী দল ছিল বিএনপি। এর আগে ১৯৯১ সালে পঞ্চম সংসদের বিরোধী দল আওয়ামী লীগের আসন ছিল ৮৮টি। ১৯৮৬ সালে বিরোধী দলে বসা আওয়ামী লীগের ৭৬টি আসন ছিল। সে হিসেবে ৬৮টি আসন নিয়ে এবার জামায়াত এককভাবে চতুর্থ বৃহত্তম বিরোধী দল হতে যাচ্ছে।১৯৭৩ সালে গঠিত দেশের প্রথম সংসদে বিরোধী দলের এমপি ছিলেন সাতজন। ১৯৭৯ সালে দ্বিতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের আসন ছিল ৩৯টি, বিরোধী দলীয় নেতা ছিলেন আসাদুজ্জামান। ১৯৮৬ সালে তৃতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ছিলেন শেখ হাসিনা। ১৯৮৮ সালে বিএনপি-আওয়ামী লীগ বিহীন একতরফা নির্বাচনে গঠিত চতুর্থ সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা ছিলেন আ স ম আবদুর রহমান। সম্মিলিত বিরোধী দলের ১৯টি আসন ছিল। ১৯৯১ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেশে নির্দলীয় সরকার ব্যবস্থার অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে জয়ী দল বিএনপি ১৪০ আসন পায়। আওয়ামী লীগ ৮৪ আসনে জিতে বিরোধী দল হয়। তখন বিরোধী দলীয় নেতা ছিলেন শেখ হাসিনা। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে গঠিত স্বল্প মেয়াদী ষষ্ঠ সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা ছিলেন কর্নেল রশিদ। একই বছরের ১২ জুনের নির্বাচনে গঠিত সপ্তম সংসদে খালেদা জিয়া বিরোধী দলীয় নেতা হন। অষ্টম সংসদে (২০০১) শেখ হাসিনা বিরোধী দলীয় নেতা হওয়ার সময় দলটির আসন ছিল ৬২টি। নবম সংসদের (২০০৮) বিরোধী দল বিএনপির আসন ছিল ৩০টি। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে (২০১৪) দলটি অংশ নেয়নি। ৩৪ আসন নিয়ে বিরোধী দল হয় জাতীয় পার্টি। নেতা হন রওশন এরশাদ। ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে (‘রাতের ভোট’ হিসেবে খ্যাত) বিরোধী দলীয় নেতা হন হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। আসন ছিল ২২টি। তার মৃত্যুর পর আবারও বিরোধী দলীয় নেতা হন রওশন এরশাদ। ‘ডামি নির্বাচন’ খ্যাত দ্বাদশ (২০২৪) সংসদে ১১ আসন নিয়ে বিরোধী দলের নেতা হন জাতীয় পার্টির জি এম কাদের।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button