জাতীয় সংবাদ

আহলান সাহলান মাহে রমাদান

রমজান রহমতের পঞ্চম রোজা। রোজা মুসলমানদের ধর্মীর ৫টি স্তম্ভের একটি। আজ রহমতের পঞ্চম রোজা। ফারসি শব্দ রোজার আরবি অর্থ হচ্ছে সওম, বহুবচনে সিয়াম। সওম বা সিয়ামের বাংলা অর্থ বিরত থাকা। ইসলামী শরীয়তে সওম হল আল্লাহর নির্দেশ পালনের উদ্দেশে নিয়তসহ সুবহে সাদিকের শুরু থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও স্ত্রী সহবাস থেকে বিরত থাকার নামই সওম বা রোজা। রমজান মাসের ৩০ দিনের রোজার ৩০টি ফজিলত রয়েছে। দৈনিক এশিয়া বাণী পাঠকের জন্য প্রতিদিন রমজানের ফজিলত সম্পর্কে জানানো হয়। ৫ম রমজানের ফজিলত সর্ম্পকে হাদিসে এসছে, এদিন রোজা রাখলে ‘মক্কা নগরীর মসজিদে হারামে নামাজ আদায়ের সাওয়াব দেওয়া হয়।
৫ম রোজার দোয়া : উচ্চারণ : আল্লাহুম্মাঝআ’লনি ফিহি মিনাল মুসতাগফিরিন ; ওয়াঝআ’লনি ফিহি মিন ই’বাদিকাস সালিহিনাল ক্বানিতিন; ওয়াঝআ’লনি ফিহি মিন আউলিয়াইকাল মুক্বাররাবিন; বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমিন। অর্থ : হে আল্লাহ! এই দিনে আমাকে ক্ষমা প্রার্থনাকারীদের অন্তর্ভূক্ত করুন। আমাকে শামিল করুন আপনার সৎ ও অনুগত বান্দাদের কাতারে। হে আল্লাহ! মেহেরবানী করে আমাকে আপনার নৈকট্যলাভকারী বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করুন। হে দয়াবানদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দয়াবান। পরিশেষে…আল্লাহ তাআলা রমজানে মাসের রোজা পালন, ইবাদাত-বন্দেগি ও দোয়া ইস্তিগফারের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহকে ক্ষমা করে তাঁর আনুগত্যশীল বান্দারে মধ্যে শামিল হওয়ার তাওফিক দান করুন। হুজুর সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিভিন্ন হাদিসে রোজা রাখার ফজিলত ঘোষণা করেছেন। সেসব ফজিলতের হাদিস অসংখ্য। এখানে কয়েকটি ফজিলতের কথা উল্লেখ করা হলো। হুজুর সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিভিন্ন হাদিসে রোজা রাখার ফজিলত ঘোষণা করেছেন। ১. হযরত আবু হুরাইরা রাজিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। হুজুর সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন,রোজা হলো ঢাল। (অর্থাৎ জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচার ঢাল) সুতরাং কেউ যেনো নির্লজ্জ কাজ ও মূর্খপনা কথা না বলে। যদি কেউ তার সাথে ঝগড়া করতে আসে বা তাকে গালি দেয়, তখন যেনো সে বলে দেয় আমি রোজাদার। আমার সত্তার কসম! রোজাদারের মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহ তাআলার কাছে মেশকের সুঘ্রাণ থেকেও বেশি উৎকৃষ্ট। কারণ, সে আমার জন্য তার খাবার, পানীয় ও শারীরিক চাহিদা ছেড়ে দিয়েছে। (সুতরাং) রোজা আমার জন্য আর আমিই সেটির প্রতিদান দেবো। (বুখারি শরিফ: হাদিস- ১৭৯৫)
২. হযরত সাহল রাজিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। হুজুর সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, জান্নাতে রায়য়ান নামে একটি দরজা আছে। কেয়ামতের দিন রোজাদাররা উক্ত দরজা দিয়ে (জান্নাতে) প্রবেশ করবে। তারা ছাড়া অন্য কেউ উক্ত দরজা দিয়ে (জান্নাতে) প্রবেশ করতে পারবে না। (কেয়ামতের দিন) রোজাদাররা কোথায় এই বলে ডাকা হবে। রোজাদাররা দাঁড়াবে। তারা ছাড়া অন্য কেউ উক্ত দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। যখন তারা উক্ত দরজা দিয়ে (জান্নাতে) প্রবেশ করবে, তখন সেটিকে বন্ধ করে দেয়া হবে। কিছুতেই অন্য কেউ আর প্রবেশ করতে পারবে না। (বুখারি শরিফ: হাদিস- ১৭৯৭)। বস্তুত, ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে আত্মশুদ্ধির যে সুযোগ বছরের এ মাসটিতে মুমিনের জন্য থাকে, তা সারাবছর আর কখনো পাওয়া যায় না। তাই তো প্রত্যেকের উচিত বেশি বেশি ক্ষমা প্রার্থনার মাধ্যমে নাজাতের পথ প্রশস্ত করা। আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে রমজানের ওসিলায় মাফ করুন। রহমত দান করুন। আমিন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন
Close
Back to top button