জাতীয় সংবাদ

ডিজিএফআইয়ের নতুন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল কায়ছার রশীদ চৌধুরী

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) নতুন মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মেজর জেনারেল কায়ছার রশীদ চৌধুরী। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সেনানিবাসের সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে তাকে মেজর জেনারেল পদমর্যাদার র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অত্যন্ত মেধাবী, তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন ও চৌকস একজন সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে সর্বমহলে সুপরিচিত মেজর জেনারেল কায়ছার রশীদ চৌধুরী। তিনি দেশে ও বিদেশে নিজ যোগ্যতা, প্রশিক্ষণ এবং পেশাদারির প্রমাণ দিয়েই দেশের অন্যতম গোয়েন্দা সংস্থার মহাপরিচালক পদে আসীন হয়েছেন। ২৯তম বিএমএ লং কোর্সের দ্বিতীয় সেরা ক্যাডেট হিসেবে কমিশন লাভ করেন মেজর জেনারেল কায়ছার রশীদ চৌধুরী। বর্তমানে তিনি তার কোর্সের প্রথম কর্মকর্তা। সামরিক প্রশিক্ষণে তিনি কখনোই দ্বিতীয় হননি বলে তার সহকর্মীরা জানিয়েছেন। তার রয়েছে দেশ-বিদেশের নানা সম্মানজনক সামরিক কোর্স সম্পন্ন করার অভিজ্ঞতা। তিনি বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্য থেকে মোট দুইবার অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে স্টাফ কোর্স সম্পন্ন করেছেন। এ ছাড়া তিনি তুরস্ক থেকে আর্টিলারি বেসিক কোর্স এবং পাকিস্তান থেকে গানারি স্টাফ কোর্স সম্পন্ন করেন। দীর্ঘ সামরিক জীবনে তিনি নানা গুরুত্বপূর্ণ পদে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। পার্বত্য চট্টগ্রামে তিনি আর্টিলারি ব্রিগেডের ব্রিগেড মেজর (বিএম) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ ছাড়া তিনি ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজে (ডিএসসিএসসি) তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রশিক্ষক (ডিরেক্টিং স্টাফ) এবং প্রধান প্রশিক্ষক (চিফ ইনস্ট্রাক্টর) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। স্কুল অব আর্টিলারিতেও তিনি ৩ মেয়াদে প্রশিক্ষক হিসেবে নিজ যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেছেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে মেজর জেনারেল কায়ছার রশীদ চৌধুরীর রয়েছে অনবদ্য ভূমিকা। ২০১৯ সালে তিনি জাতিসংঘ সদর দপ্তরে যোগ দেন। সেখানে কর্মরত থাকা অবস্থায় তার নিরলস প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ শীর্ষ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে সম্মান অর্জন করে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করে। তার পুরো কার্যকালেই বাংলাদেশ এই শীর্ষস্থান ধরে রাখে। শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য ডেপ্লয়মেন্ট বা নতুন সুযোগ সৃষ্টিতে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। অক্লান্ত পরিশ্রম এবং মেধার জন্য তিনি জাতিসংঘ মহাসচিবের সামরিক উপদেষ্টার বেশ আস্থাভাজন ছিলেন। তার এক সহকর্মী (সাবেক সেনা কর্মকর্তা) স্মৃতিচারণা করে বলেন, বিএমএ-তে তার ফার্স্ট টার্ম করপোরাল ছিলেন কায়ছার রশীদ, যার হাত ধরে সেনাবাহিনীতে তার পথচলা শুরু হয়েছিল। বুট পরা থেকে শুরু করে জীবনের প্রথম স্যালুট করাÍসবকিছুই তিনি এই কর্মকর্তার কাছ থেকে শিখেছিলেন। তিনি আরো উল্লেখ করেন, প্রশিক্ষণ, অপারেশন ও প্রশাসন সর্ব ক্ষেত্রেই মেজর জেনারেল কায়ছার তার যোগ্যতার প্রমাণ রেখেছেন। ডিজিএফআইয়ের হাল ধরার জন্য এমন মেধাবী ও যোগ্য কর্মকর্তাকে বাছাই করায় তিনি সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান। অন্যান্যদের মতে, বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারই প্রমাণ করে যে, মেধা ও পেশাদারির ওপর ভিত্তি করেই ডিজিএফআইয়ের মতো একটি স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার মহাপরিচালক হিসেবে তাকে এই গুরুদায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী ও দেশের জন্য ফলপ্রসূ হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button