ইরানের ৩১ প্রদেশের ২০টিতেই হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল

# হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিলো ইরান : ইউরোপ আমেরিকার সব দেশের মাথায় হাত, বিশ্ব অর্থনীতিতে মহা প্রলয়ের শঙ্কা #
# যুক্তরাষ্ট্রের ১৪ ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইরান : যুক্তরাষ্ট্রের ২শ সামরিক সদস্য হতাহত #
# ইসরায়েলের কেন্দ্রস্থলে ইরানের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
# ইরানে স্কুলে ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮৫
# হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রাসাদ পুরোপুরি ধ্বংস ঃ
প্রবাহ রিপোর্ট ঃ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চালানো হামলায় ইরানের ৩১টি প্রদেশের মধ্যে ২০টিরও বেশি প্রদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শনিবার ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার এই তথ্য জানিয়েছে। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মুখপাত্র মোজতবা খালেদি বলেছেন, ‘‘এখন পর্যন্ত ২০টিরও বেশি প্রদেশ হামলার শিকার হয়েছে।’’ ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, ইরানে ইসরায়েলি ও মার্কিন হামলার সঙ্গে জড়িত সব স্থাপনা এখন ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সশস্ত্র বাহিনীর ‘‘বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে’’ পরিণত হবে। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেছেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সেই সব স্থানকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করছে, যেখান থেকে মার্কিন ও ইহুদিবাদী ইসরায়েলের অভিযান পরিচালিত হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের প্রতিরক্ষা কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত সব স্থাপনাও আমাদের লক্ষ্যবস্তুর অন্তর্ভুক্ত। এদিকে, দক্ষিণ ইরানে একটি স্কুলে ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৮৫ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন খবর দিয়েছে। দেশটির মিনাব কাউন্টির গভর্নর বলেছেন, আজ সকালে একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ে ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এতে এখন পর্যন্ত ৮৫ জন শিক্ষার্থী নিহত ও আরও ৬০ জন আহত হয়েছে। গত কয়েক মাস ধরে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলা ছায়াযুদ্ধ সরাসরি সংঘাতে রূপ নিয়েছে। শনিবারের এই বড় ধরনের হামলার পর ইরান বলেছে, তারা হামলার কঠোর জবাব দেবে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ইরানের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে এবং তারা কেবল ইসরায়েল নয়, বরং হামলায় সহায়তাকারী মার্কিন ঘাঁটিগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিলো ইরান ঃ তেল পরিবহনের অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেভাল মিশন এসপাইডেসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড জানিয়ে দিয়েছে ‘হরমুজ দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করতে দেওয়া হবে না।’ তেল রপ্তানির জন্য বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুট হলো হরমুজ প্রণালী। এটি উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর সবচেয়ে বড় তেল উৎপাদনকারীদের জন্য তেল রপ্তানির পথ। এখান দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় তেল পাঠায় সৌদি আরব, ইরান, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত। সরু এ সামুদ্রিক পথটি ওমান উপসাগর এবং আরব সাগরকে যুক্ত করেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ কর্মকর্তা বলেছে, ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে হরমুজ প্রণালী বন্ধের ব্যাপারে কোনো নির্দেশ দেয়নি।
ইরান দীর্ঘ সময় ধরে বলে আসছে যদি তাদের ওপর কোনো ধরনের হামলা হয় তাহলে তারা হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ১৪ ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইরান ঃ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ১৪টি ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইরান। দেশটির বার্তাসংস্থা তাসনিম নিউজ শনিবার সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে। সূত্রটি বলেছেন, কিছু দেশে যুক্তরাষ্ট্রের একের অধিক ঘাঁটি রয়েছে। ফলে সেসব দেশের আলাদা আলাদা স্থানে হামলা হয়েছে। একটি দেশের শুধুমাত্র একটি ঘাঁটিতেই হামলা সীমাবদ্ধ ছিল না। এদিকে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড জানিয়েছে, তাদের সেনারা যুক্তরাষ্ট্রের এমএসটি যুদ্ধজাহাজে হামলা চালিয়েছে। এতে জাহাজটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এ তথ্য অস্বীকার করেছে। বিপ্লবী গার্ড বলেছে, সামনে যুক্তরাষ্ট্রের আরও সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে।
ইরানে স্কুলে ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮৫ ঃ ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের একটি স্কুলে ইসরায়েলের হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮৫ জনে দাঁড়িয়েছে। শনিবার ইসরায়েলের ওই হামলায় আরও কয়েকডজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে বলে দেশটির সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। দেশটির বিচার বিভাগের পরিচালিত সংবাদমাধ্যম মিজান অনলাইন বলছে, মিনাব শহরের বালিকা স্কুলে ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮৫ জনে পৌঁছেছে। এছাড়া হামলায় আহত শিক্ষার্থীদের সেখানকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মিনাব শহরের সরকারি কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেদমেহের বলেছেন, ইসরায়েল স্কুলটিতে সরাসরি হামলা চালিয়েছে। হামলার সময় সেখানে ১৭০ জনের বেশি শিক্ষার্থী ছিল। সেখানে এখনও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় নিহতের সংখ্যা আর বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। শনিবার সকালের দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চালানো হামলায় ইরানের ৩১টি প্রদেশের মধ্যে ২০টিরও বেশি প্রদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার এই তথ্য জানিয়েছে। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মুখপাত্র মোজতবা খালেদি বলেছেন, ‘‘এখন পর্যন্ত ২০টিরও বেশি প্রদেশ হামলার শিকার হয়েছে।’’ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, একাধিক মন্ত্রী ও সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নিশানা করে ওই হামলা চালানো হয়।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, ইরানে ইসরায়েলি ও মার্কিন হামলার সঙ্গে জড়িত সব স্থাপনা এখন ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সশস্ত্র বাহিনীর ‘‘বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে’’ পরিণত হবে। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেছেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সেই সব স্থানকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করছে, যেখান থেকে মার্কিন ও ইহুদিবাদী ইসরায়েলের অভিযান পরিচালিত হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের প্রতিরক্ষা কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত সব স্থাপনাও আমাদের লক্ষ্যবস্তুর অন্তর্ভুক্ত। হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রাসাদ পুরোপুরি ধ্বংস ঃ দখলদার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রাসাদ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। আজ শনিবার সকালে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র আকস্মিক হামলা চালায় তেহরানে। এ সময় প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা ও মন্ত্রীদের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। স্যাটেলাইটে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, খামেনির প্রাসাদটি ধসে পড়েছে। এটির চারপাশ কালো হয়ে গেছে। এতে বোঝা যাচ্ছে সেখানে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। মার্কিন-ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়ে আছড়ে পড়লো মরুভূমিতে। মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানি হামলায় অন্তত ২০০ সামরিক সদস্য হতাহত ঃ ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে চালানো তাদের হামলায় অন্তত ২০০ সামরিক সদস্য নিহত ও আহত হয়েছেন।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) এ তথ্য জানানো হয়। রেভল্যুশনারি গার্ডের জনসংযোগ দপ্তর থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ইরান যে হামলা চালিয়েছে, তাতে অন্তত ২০০ জন সামরিক সদস্য নিহত ও আহত হয়েছেন।” বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়েছে, “হামলার সময় বেশ কিছু মার্কিন ও ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র তাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়ে ইরাক ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মরুভূমি এবং জনবসতিপূর্ণ এলাকায় আছড়ে পড়েছে।” ইসরায়েলের কেন্দ্রস্থলে ইরানের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঃ তেল আবিব ও হাইফায় জারি সতর্কতা মধ্য ইসরায়েলের জনবহুল এলাকা লক্ষ্য করে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইসরায়েলের অন্তত দুটি স্থানে সরাসরি আঘাত হেনেছে। হামলার পরপরই ঘটনাস্থলগুলোতে জরুরি উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। শনিবার সকাল থেকেই ইসরায়েলি ভূখ- লক্ষ্য করে বিরতিহীনভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে তেহরান। বিশেষ করে উপকূলীয় শহর তেল আবিব এবং হাইফাতে বারবার সাইরেন বাজিয়ে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হচ্ছে। হামলার আশঙ্কায় ওই এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী।



