ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ইরানের হামলা

নেতানিয়াহুর ‘পরিণতি অস্পষ্ট’!
প্রবাহ ডেস্ক : ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং ইসরাইলি বিমানবাহিনীর কমান্ডারের অবস্থানে ইরানের খাইবার ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে দাবি করা হয়েছে। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কথাও বলা হয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, লক্ষ্যভিত্তিক ও আকস্মিক এ হামলার কথা ঘোষণা দিয়েছে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ হামলার পর নেতানিয়াহুর পরিণতি এখন ‘অনিশ্চয়তার মেঘে আচ্ছন্ন’। তবে ইসরাইলি প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনও কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
গেল শনিবার ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর সামরিক আগ্রাসন চালানোর পর এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান অধিকৃত ভূখ-ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে শুরু করে।
তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, ইরান এ পর্যন্ত ইসরাইল এবং যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক ঘাঁটিগুলোর বিরুদ্ধে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ১০টি ধাপ সম্পন্ন করেছে। সূত্র: তাসনিম নিউজ এসেন্সি
তেল আবিবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় এবং হাইফা বন্দরে ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও সামরিক বাহিনীর কার্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। এই হামলায় নেতানিয়াহুর ভাগ্যে কী ঘটেছে তা ‘অনিশ্চয়তায় ঘেরা’ বলে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমের খবরে জানানো হয়েছে।
বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর বিবৃতির বরাত দিয়ে ইরানি বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ এজেন্সি বলেছে, ইহুদিবাদী শাসকগোষ্ঠীর অপরাধী প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং তাদের বিমানবাহিনীর প্রধান কার্যালয়কে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ওই হামলায় ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি খাইবার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর ভাগ্যে কী ঘটেছে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
নেতানিয়াহু ও বিমানবাহিনীর প্রধান কার্যালয়ে এই হামলার বিষয়ে আর কোনও বিস্তারিত তথ্য জানায়নি আইআরজিসি।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির সাংবাদিকরা বলেছেন, সোমবার (২ মার্চ) জেরুজালেমের আকাশে একের পর এক নতুন বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এর আগে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ইরান থেকে ছোড়া নতুন ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানায়।
এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলেছে, কিছুক্ষণ আগে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ইসরায়েলি ভূখ-ের দিকে ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে। হুমকি মোকাবিলায় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো সক্রিয় রয়েছে।
এদিকে, সাইপ্রাসে একটি ব্রিটিশ বিমানঘাঁটি এবং সৌদি আরবের একটি তেল স্থাপনায় হামলার পর ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ভন ডার লিয়েন ওই অঞ্চলজুড়ে সার্বভৌম ভূখ-ে ইরান এবং তার প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর হামলার নিন্দা জানিয়েছেন।
ব্রাসেলসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ফন ডার লিয়েন বলেন, আমাদের উত্তেজনা প্রশমন এবং সংঘাত ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, ওই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অভিযানে ইরানে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৫৫ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার থেকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানজুড়ে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে।
ইরান একেবারে প্রথম দিন থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার, কুয়েত, সৌদি আরব ও ইরাকসহ অন্যান্য দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে আসছে ইরান। উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের পাল্টা হামলার তৃতীয় দিনে সোমবারও কুয়েতে মার্কিন দূতাবাস থেকে কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে এবং কোনও হতাহতের ঘটনা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। সূত্র: এএফপি, মেহের নিউজ



