জাতীয় সংবাদ

ফের পুরোদমে শুরু হচ্ছে প্রবাসীদের ভোটার করার কাজ

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর আবারও প্রবাসীদের ভোটার করার কাজ পুরোদমে শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইতোমধ্যে আগে জমা পড়া আবেদনগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য মাঠ কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইসি কর্মকর্তারা জানান, ভোটের আগে ১১টি দেশে বসবাসরত প্রবাসীদের ভোটার কার্যক্রম চালু ছিল। প্রক্রিয়াধীন ছিল ওমান, দক্ষিণ আফ্রিকা, মালদ্বীপ ও জর্ডান। এছাড়া বাহরাইন, সিঙ্গাপুর, ফ্রান্স ও স্পেনেও বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা ছিল।
ভোটের আগে ১১টি দেশে প্রায় ১৫ হাজার ৮৭৭ জন প্রবাসী ভোটার হয়েছেন। আবেদন জমা পড়েছিল প্রায় ৫০ হাজার। এনআইডি পেয়েছেন ১৩ হাজার ৯৯০ জন। যেসব দেশে ইতোমধ্যে ভোটার কার্যক্রম চালু ছিল সেগুলো, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, ইতালি, কুয়েত, কাতার, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র (নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন, মায়ামি ও লস অ্যাঞ্জেলেস)। আগে প্রক্রিয়াধীন থাকা দেশগুলোতে ঈদের পর কার্যক্রম শুরু হতে পারে। ইসির এনআইডি শাখার পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনের আগে যেসব দেশে কার্যক্রম শুরুর কথা ছিল, সেগুলোতে শিগগিরই শুরু হতে পারে। তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। যেসব দেশে কার্যক্রম চালু রয়েছে, সেখানে প্রবাসীরা আগের মতোই অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। ইসির কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, কোনো প্রবাসী অনলাইনে আবেদন করার পর সংশ্লিষ্ট দূতাবাসে গিয়ে চোখের আইরিশ ও ১০ আঙুলের ছাপ দিতে হয়। পরে সংশ্লিষ্ট ভোটারের উপজেলার নির্বাচন কর্মকর্তার মাধ্যমে তথ্য যাচাই করা হয়। তথ্য সঠিক হলে আবেদন অনুমোদন করে এনআইডি প্রিন্ট করে দূতাবাসে পাঠানো হয়। সেখান থেকে প্রবাসী তার এনআইডি সংগ্রহ করতে পারেন। ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ভোটের আগেই আমরা নতুন করে আরও কয়েকটি দেশে কার্যক্রম শুরু করতে চেয়েছিলাম। তবে তা সম্ভব হয়নি। ঈদের পর এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে কোন কোন দেশ প্রস্তুত রয়েছে তা যাচাই করা হবে। আগে যেসব দেশে কার্যক্রম শুরু হয়েছিল, সেগুলোতে কাজ পুরোদমে চলবে। প্রবাসীদের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ঃ বিদেশে বসে ভোটার হতে অনলাইনে পূরণকৃত আবেদনপত্র (ফরম-২(ক)), মেয়াদসম্বলিত বা মেয়াদোত্তীর্ণ বাংলাদেশি পাসপোর্ট/এনআইডিধারী তিন নাগরিকের প্রত্যয়ন, অনলাইন জন্ম নিবন্ধন ও পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি সংশ্লিষ্ট দূতাবাসে জমা দিতে হবে। চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিশেষ ৫৬টি উপজেলা/থানার নাগরিকদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ‘বিশেষ তথ্য ফরম’, শিক্ষা সনদ, বাবা-মায়ের এনআইডি, প্রয়োজনে মৃত্যু সনদ, ড্রাইভিং লাইসেন্স বা টিআইএন (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে), দ্বৈত নাগরিকত্ব সনদ, নিকাহনামা ও স্বামী-স্ত্রীর এনআইডি, নাগরিকত্ব সনদ এবং ইউটিলিটি বিলের কপি জমা দিতে হবে। বাধ্যতামূলক নয়,এমন কাগজপত্র নিবন্ধন কেন্দ্রে জমা দিতে না পারলে প্রবাসীরা দেশে অবস্থানরত আত্মীয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে পারবেন। সব তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে সঠিকতা পাওয়া গেলে আবেদন অনুমোদন করে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং এনআইডি সংশ্লিষ্ট দূতাবাসে পাঠানো হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন
Close
Back to top button