জাতীয় সংবাদ

ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং: ২ সাবেক উপদেষ্টার বিচার বিভাগীয় তদন্ত চায় জামায়াত

# রাজধানীতে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল #

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’র মাধ্যমে জনগণের রায় পাল্টে দেওয়ার অভিযোগে অন্তর্র্বতী সরকারের সাবেক দুই উপদেষ্টাকে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির অভিযোগ, সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও ড. খলিলুর রহমান এই প্রক্রিয়ায় জড়িত ছিলেন। শুক্রবার (৬ মার্চ) দুপুরে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে ঢাকা মহানগরী জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশে এ দাবি জানানো হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াত মবের রাজনীতি করে না, মবতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। জামায়াত নিয়মতান্ত্রিক, আদর্শিক ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনে সারাদিন উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষে ভোট গণনা থেকে ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে। নির্বাচন-পরবর্তী তিন সপ্তাহের ব্যবধানে তারা নিজেরাই এখন এসব স্বীকার করছেন। সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সাবেক উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান মিডিয়ার সামনে স্বীকার করেছেন যে তারা জামায়াতকে ‘মেইনস্ট্রিম’ হতে দেননি। তার এই বক্তব্য প্রমাণ করে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সহযোগিতায় ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে। অন্যদিকে বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সাবেক উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানের সমালোচনা করে জামায়াতের সেক্রেটারি বলেন, অন্তর্র্বতী সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানকে অপসারণের দাবি জানিয়েছিল বিএনপি। অথচ পরে তিনি নিজের চেয়ার ধরে রাখতে ‘লন্ডন মেকানিজম’ করেন। বিএনপি সরকার গঠন করেই তাকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বানিয়েছে। অতীতের কোনো নির্দলীয় সরকারের উপদেষ্টা নির্বাচন-পরবর্তী সরকারে যুক্ত হননি। এটি স্পষ্ট প্রমাণ করে যে নির্বাচনটি ছিল অন্তর্বর্তী সরকার ও ‘ডিপ স্টেটে’র ইঞ্জিনিয়ারিং করা।
তিনি অবিলম্বে সাবেক এই দুই উপদেষ্টাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান। জুলাই সনদ ও সংবিধান সংস্কার ঃ জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার আদালতের দোহাই দিয়ে ষড়যন্ত্র করছে, এমন দাবি করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী দলগুলো স্বীকারোক্তি দিয়েছে যে তারা এটি বাস্তবায়ন করবে। গণভোটেও জনগণ এর পক্ষে রায় দিয়েছে। এখন আদালতের দিকে দায় চাপিয়ে দেওয়া সরকারের ষড়যন্ত্র। বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা সংবিধান সংস্কার পরিষদ সংবিধানে নেই এই যুক্তি দেখিয়ে শপথ নেননি। কিন্তু যে সংবিধানের দোহাই দিচ্ছেন, সেখানে তো অন্তর্বর্তী সরকার ব্যবস্থা নেই। তাহলে ওই সরকারের অধীনে নির্বাচনও অবৈধ। জনগণকে ধোঁকা না দিয়ে সংসদের প্রথম অধিবেশন থেকেই সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি। ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামাল হোসেন এমপি এবং উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ইয়াছিন আরাফাত। এ সময় ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন, মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নানসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট থেকে শুরু হয়ে পল্টন মোড় ঘুরে বিজয়নগর মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন
Close
Back to top button