জাতীয় সংবাদ

প্রচণ্ড বিস্ফোরণে আবারো কেঁপে উঠল তেল আবিব

# ইরানের হামলায় ফের পিছু হটল মার্কিন রণতরী #
# ৭শ’র বেশি মার্কিন সেনা গুরুতর আহত #
# খুররমশাহর-৪: ইরানি এক ক্ষেপণাস্ত্রেই ‘৮০’ ওয়ারহেড, বিভ্রান্ত ইসরায়েল #

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ হামলা আর পাল্টা হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল-ইরান। এবার ইরানের ভয়াবহ হামলার শিকার হয়েছে ইসরায়েল। ইরানের হামলায় তেল আবিবসহ ইসরায়েলের বিভিন্ন প্রান্তে গতকাল শুক্রবার সকালে বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। অপরদিকে ইরানের হামলায় ফের পিছু হটেছে মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিংকন। ক্ষেপনাস্ত্র হামলায় প্রথম দুই দিনেই ৬৫০জন মার্কিন সেনা গুরুতর আহত হয়। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের মার্কিন ঘাটিতে ক্ষেপনাস্ত্র হামলায় আরো দশজনের বেশি সেনা গুরুতর আহত হওয়ায় মার্কিন রণতরী পিছু হটতে বাধ্য হয়। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্র তিবেদনে এ তথ্য জানায়। ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র রুখে দিতে ইসরায়েলি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হওয়ার মধ্যেই এসব বিস্ফোরণ ঘটে। এদিকে ইসরায়েল বলেছে, ইরানের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে তারা ‘বড় পরিসরে’ বিমান হামলা শুরু করেছে। ইরানের সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের চলমান ‘অপারেশন ট্রু প্র মিস ৪’-এর ২১তম ধাপের অংশ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে। এবারের অভিযানে বিশেষভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে তেল আবিবের কেন্দ্রস্থলকে, যেখানে ইরানের অত্যাধুনিক ‘খেইবার’ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার সকাল থেকেই ইরান থেকে ছোড়া একাধিক রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র প্র তিহত করতে ইসরায়েলের আকাশ প্র তিরক্ষা ব্যবস্থা মরিয়া চেষ্টা চালায়। আকাশসীমার ওপর দিয়ে উড়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে মাঝপথে বাধা দেওয়ার (ইন্টারসেপ্ট) সময় পুরো তেল আবিব শহর জুড়ে বড় বড় বিস্ফোরণের শব্দ প্র তিধ্বনিত হয়। এই ঘটনার পর পর শহরজুড়ে সাইরেন বেজে ওঠে এবং আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছোটাছুটি শুরু করেন। আইআরজিসির তথ্যমতে, শুক্রবারের এই হামলাটি ছিল একটি সুপরিকল্পিত ও সমন্বিত সামরিক অভিযান। এতে কেবল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রই নয়, বরং একঝাঁক আত্মঘাতী ড্রোনও ব্যবহার করা হয়েছে। তেহরান দাবি করেছে, তাদের ছোড়া খেইবার ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্র তিরক্ষা ব্যবস্থার ফাঁক গলে তেল আবিবের কেন্দ্রস্থলের নির্দিষ্ট কিছু কৌশলগত স্থাপনায় আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে। ইরানের হামলায় পিছু হটল মার্কিন রণতরী ঃ ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তাদের ‘ট্রু প্রমিজ ৪’ অভিযানের প্রথম দুই দিনে ৬৫০ জনেরও বেশি মার্কিন সেনা হতাহত হয়েছে। আইআরজিসি মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী মোহাম্মদ নায়েনি বলেন, বাহরাইনের মার্কিন নৌসম্পদ এবং সামরিক সদর দপ্তরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ফলে রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন পিছু হটতে বাধ্য হয়। জেনারেল নায়েনি আরও নিশ্চিত করেন, ইরানি বাহিনী পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষতি করেছে। এক ঘটনায়, ইরানি বাহিনী একটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত করলে ১৬০ জন মার্কিন সেনা নিহত বা আহত হন। এছাড়া ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের ফলে মার্কিন নৌবাহিনীর এমএসটি যুদ্ধ সহায়তা জাহাজও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আইআরজিসি জানায়, ইরানি নৌবাহিনী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে চারটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। যা চাবাহার উপকূল থেকে প্র ায় ২৫০–৩০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল। হামলার পর জাহাজটি দক্ষিণ-পূর্ব ভারত মহাসাগরের দিকে সরে যায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইহুদিবাদী সরকারের চলমান আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইরানের প্র তিক্রিয়া হিসেবে অপারেশন ‘ট্রু প্রমিজ ৪’ পরিচালিত হচ্ছে। আইআরজিসি বলেছে, এই অভিযানের মাধ্যমে ইরানি সেনারা তাদের সামরিক ক্ষমতা প্রমাণ করেছে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক প্র ভাব কমানোর লক্ষ্যে কার্যক্রম চালিয়েছে। সোর্স: তাসনিম নিউজ এজেন্সি। খুররমশাহর-৪: ইরানি এক ক্ষেপণাস্ত্রেই ‘৮০’ ওয়ারহেড, বিভ্রান্ত ইসরায়েল ঃ ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাত বিধ্বংসী মোড় নিয়েছে। দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি হামলার ধারাবাহিকতায় ইরান এবার তাদের ভা-ারের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং বিধ্বংসী অস্ত্র ‘খুররমশাহর-৪’ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল প্র য়োগ করেছে বলে দাবি করেছে। শুক্রবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরআইআরজিসি তাদের ‘অপারেশন ট্রু প্র মিজ ফোর’-এর ১৯তম পর্যায়ে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে এই ভয়াবহ হামলা পরিচালনা করে। ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্র তিবেদন অনুযায়ী, এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্র ধান লক্ষ্যবস্তু ছিল ইসরায়েলের বাণিজ্যিক ও প্র শাসনিক কেন্দ্র তেল আবিব। বিশেষ করে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর এবং ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর ২৭ নম্বর স্কোয়াড্রন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে এই আক্রমণ চালানো হয়েছে। আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, ‘ইয়া হাসান ইবনে আলী’ সাংকেতিক নামে পরিচালিত এই অভিযানে খুররমশাহর-৪ ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সরাসরি নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে। ইসরায়েলের গর্ব হিসেবে পরিচিত সাত স্তরের অত্যাধুনিক আকাশ প্র তিরক্ষা ব্যবস্থা এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর গতিপথ রোধ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে বলে ইরান দাবি করেছে। ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন এবং ভারী এই ক্ষেপণাস্ত্রের সম্মিলিত আক্রমণ তেল আবিবের সুরক্ষা বলয় ভেদ করে শহরজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। প্র ত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতের পর ওই এলাকায় বড় ধরনের অগ্নিকা- ও কাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে নজিরবিহীন। খুররমশাহর-৪ বা ‘খাইবার’ ক্ষেপণাস্ত্রটি মূলত ২০২৩ সালে প্র কাশ্যে আনে ইরান। এটি দেশটির অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ অর্গানাইজেশনের দীর্ঘ গবেষণার ফসল। এটি পূর্ববর্তী সংস্করণগুলোর তুলনায় অনেক বেশি নির্ভুল এবং দ্রুতগতিসম্পন্ন। প্র ায় সাড়ে ১৩ মিটার লম্বা এবং দেড় থেকে দুই টন ওজনের এই ক্ষেপণাস্ত্রটি মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল হিসেবে পরিচিত হলেও এর ক্ষমতা অনেক দেশের আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের সমান। প্র তিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ক্ষেপণাস্ত্রটির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর অবিশ্বাস্য গতি। উৎক্ষেপণের পর এটি শব্দের চেয়ে প্র ায় ১৬ গুণ বেশি দ্রুত (ম্যাক ১৬) গতিতে লক্ষ্যবস্তুর দিকে ছুটতে পারে। মাত্র ১৫ মিনিটের সংক্ষিপ্ত প্র স্তুতিতেই এটি উৎক্ষেপণ করা যায়। এই মিসাইলের পাল্লা প্র ায় ৩ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। ফলে মধ্যপ্র াচ্যের যেকোনো প্র ান্ত থেকে ইসরায়েলের যেকোনো স্থানে আঘাত হানার সক্ষমতা রাখে এই অস্ত্রটি। খুররমশাহর-৪ ক্ষেপণাস্ত্রের আরেকটি মারাত্মক দিক হলো এর মাল্টিপল ওয়ারহেড (একাধিক বোমা) বহনের ক্ষমতা। একটি মাত্র ক্ষেপণাস্ত্র প্র ায় ১৮শ’ কেজি ওজনের বিস্ফোরক বহন করতে পারে। এই বিস্ফোরক লক্ষ্যবস্তুর কাছাকাছি পৌঁছালে ৮০টি ক্ষুদ্র অংশে বিভক্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে। এই ক্ষুদ্র ওয়ারহেডগুলো হাইপারসনিক গতিতে নিচে নেমে আসে যা আকাশ প্র তিরক্ষা রাডারের পক্ষে শনাক্ত করা বা মাঝপথে ধ্বংস করা প্র ায় অসম্ভব করে তোলে।
হামলার পাশাপাশি আইআরজিসি আরও দাবি করেছে , তারা বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কুয়েতে অবস্থিত অন্তত ২০টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতেও সফল আক্রমণ চালিয়েছে। ১৮তম পর্যায়ের সেই অভিযানে মার্কিন সেনারা তাদের ঘাঁটি ছেড়ে পালিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বেসামরিক হোটেলগুলোতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে বলে তেহরান দাবি করেছে। ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে তাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো প্র তিটি মার্কিন সেনার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্র য়োজনে আরও সুনির্দিষ্ট হামলা চালানো হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন
Close
Back to top button