হাদি হত্যার আসামিদের দেশে ফেরত আনার কাজ চলছে: আইজিপি

প্রবাহ রিপোর্টঃ ভারতে গ্রেফতার হাদি হত্যা মামলার আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেনকে দেশে ফেরাতে কূটনৈতিকভাবে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন আইজিপি আলী হোসেন ফকির। সোমবার (৯ মার্চ) পুলিশ সদর দফতরে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। আইজিপি আলী হোসেন ফকির বলেন, “শীর্ষ সন্ত্রাসীদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে, দ্রুত সময়ের মধ্যেই তাদের নাম প্রকাশ করা হবে। শুরু হবে দেশব্যাপী অভিযান।”সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, “জুলাই কারও ব্যক্তিগত সম্পদ নয়। পুলিশ ও রাজপথে ছিল। যারা মব সৃষ্টি করে নিজেদের ফায়দা লুটতে চায় তাদেরকেও তালিকা করে প্রতিহত করা হবে।” পুলিশের পোশাক নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, “সরকারের সিদ্ধান্তে পোশাক পরিবর্তন করা হবে।” কিশোর গ্যাং নির্মূলে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলারও আহ্বান জানান তিনি। এছাড়া সারা দেশে থানাগুলোকে ‘জিরো কমপ্লেইন’ বা অভিযোগশূন্য থানা হিসেবে গড়ে তোলার জন্য পুলিশ সদর কাজ করছে বলেও জানান তিনি। এর আগে শনিবার রাতে ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও সহযোগী আলমগীর হোসেন ভারতে গ্রেফতার হয়। পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁও সীমান্ত থেকে তাদের দুজনকে গ্রেফতার করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টিম-এসটিএফ। রবিবার ফয়সাল ও আলমগীরকে পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয় পশ্চিমবঙ্গের আদালত।শরিফ ওসমান বিন হাদি ছিলেন ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের অন্যতম মুখ। জুলাই আন্দোলনের পর তিনি রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম ইনকিলাব মঞ্চ গঠন করেন। তিনি সংগঠনটির আহ্বায়ক ও মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরদিন ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর দুপুর ২টার পর পর ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে ওসমান হাদিকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর দুপুরে ওসমান হাদিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।



