জাতীয় সংবাদ

অগ্নিঝরা মার্চ

সর্বস্তরে অসহযোগ আন্দোলন, ভুট্টোর সমঝোতার আহ্বান

অগ্নিঝরা মার্চের একাদশতম দিন। ১৯৭১ সালের ১১ মার্চ ছিল বৃহস্পতিবার। মার্চের প্রথম ১০ দিনের ঘটনাপ্রবাহে পাকিস্তান পিপলস পাটির চেয়ারম্যান জুলফিকার আলী ভুট্টো ক্ষুব্ধ বাঙালিদের অবস্থা বুঝতে পারছিলেন। ১১ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে একটি তারবার্তা পাঠিয়ে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি সমঝোতার আহ্বান জানান। সাম্প্রতিক ঘটনাবলিতে গভীর মর্মাহত জানিয়ে ভুট্টো বলেন, ‘আমরা আজ বিরাট সংকটের মুখোমুখি। দেশের ভবিষ্যৎ আজ অনিশ্চিত। যে কোনো মূল্যের বিনিময়ে দেশকে রক্ষা করতেই হবে।’ করাচিতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্বীকার করে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ মুজিবুর রহমানই কার্যত এখন বাংলার সরকার। সেখানে সব সরকারি কর্মচারী এবং সচিবরা তার নির্দেশ পালন করছেন।’ এদিকে গণঐক্য আন্দোলনের নেতা এয়ার মার্শাল (অব.) আসগর খান করাচিতে সাংবাদিকদের বলেন, খুব দ্রুত পটপরিবর্তন হচ্ছে। দেশকে বিচ্ছিন্নতার হাত থেকে রক্ষা করতে হলে যথাশিগগির ব্যবস্থা নিতে হবে। আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ মুজিবুর রহমানই কার্যত এখন ঢাকার সরকার। সেখানে সব সরকারি কর্মচারী এবং সচিবরা তার নির্দেশ পালন করছেন। ঢাকায় কেবল সামরিক সদর দপ্তরে পাকিস্তানি পতাকা উড়ছে। তিনি আরও বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের হাতে অবিলম্বে ক্ষমতা ছাড়া না হলে দেশের দুই অংশকে এক রাখা কোনোভাবেই সম্ভব হবে না। বাঙালির অধিকার আদায় না করে পাকিস্তানকে ‘এক রাখা’ সম্ভব নয়। এদিন স্বাধীন বাংলার দাবিতে অবিচল সর্বস্তরের মানুষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশ অনুযায়ী সরকারের সঙ্গে সব ধরনের অসহযোগিতা অব্যাহত রাখে। বঙ্গবন্ধু আহূত অসহযোগ আন্দোলনে শরিক হয়ে হাইকোর্টের বিচারপতি ও প্রশাসনের সচিবসহ সারা বাংলার সরকারি ও আধাসরকারি প্রতিষ্ঠানের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী তাদের অফিস বর্জন করেন। একই সঙ্গে সচিবালয়, মুখ্য সচিবের বাসভবন, প্রধান বিচারপতির বাসভবনসহ সব সরকারি এবং আধা-সরকারি ভবন ও বাসগৃহে স্বাধীন বাংলার পতাকা উড়তে থাকে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button