জাতীয় সংবাদ

ইরানের বিপ্লবী গার্ড’র ‘সবচেয়ে তীব্র ও শক্তিশালী’ অভিযান শুরু

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ‘সবচেয়ে তীব্র ও শক্তিশালী’ সামরিক অভিযান শুরু করেছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, তারা তেল আবিবের দক্ষিণে অবস্থিত হায়েলা স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্রে দ্বিতীয়বারের মতো হামলা চালিয়েছে। এ ছাড়া বির ইয়াকুব, পশ্চিম জেরুজালেম ও হাইফার বিভিন্ন সামরিক স্থাপনাকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ইরাকের ইরবিলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি এবং বাহরাইনের মানামায় যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরেও ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সশস্ত্র বাহিনী ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর থেকে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দেশটির ইতিহাসের অন্যতম ‘সবচেয়ে তীব্র ও শক্তিশালী’ সামরিক অভিযান শুরু করেছে। ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইআরজিসি হায়েলা স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্রে দ্বিতীয়বারের মতো হামলা চালিয়েছে। এ কেন্দ্র তেল আবিবের দক্ষিণে অবস্থিত। এছাড়া ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তুতে রয়েছে বির ইয়াকুব, পশ্চিম জেরুজালেম এবং হাইফার বিভিন্ন সামরিক স্থাপনাও। বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, ইরাকের ইরবিলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি এবং বাহরাইনের মানামায় যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরেও আইআরজিসি ব্যাপক সামরিক অভিযান চালিয়েছে। এই হামলার মাধ্যমে ইরান নিজেদের প্রতিরক্ষা ক্ষমতা প্রদর্শন করতে চাচ্ছে এবং প্রতিপক্ষকে জোরালো সতর্কবার্তা দিয়েছে। সাম্প্রতিক এই অভিযানকে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনার নতুন মাত্রা হিসেবে দেখছেন। তারা বলছেন, এই ধরনের লক্ষ্যবস্তু হামলা কেবল সামরিক কর্মকা- নয়, বরং রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করার মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহার করা হচ্ছে। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সামরিক অভিযান চলমান থাকবে এবং প্রতিপক্ষকে জোরালোভাবে সতর্ক করা হবে। তবে তারা হামলার সময়সীমা বা পরিধি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই হামলার বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের স্থিতিশীলতা এবং বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা পরিস্থিতি প্রভাবিত হতে পারে। আইআরজিসির সাম্প্রতিক হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংঘাতের ফলে সামরিক সহিংসতার পাশাপাশি মানবিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবও বেড়ে যেতে পারে। এদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন এবং আল-জাজিরা আইআরজিসির হামলার তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে এবং পরিস্থিতি মনিটর করতে নিয়মিত প্রতিবেদনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই শক্তিশালী অভিযান কেবল সামরিক শক্তি প্রদর্শন নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করার জন্যও কার্যকর হতে পারে। তথ্যসূত্র : সিএনএন, আল-জাজিরা, ফার্স নিউজ এজেন্সি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button