জাতীয় সংবাদ

কিডনি প্রতিস্থাপনের নামে তুরস্কে নিয়ে জিম্মি : প্রতারিত শতাধিক বাংলাদেশি

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ তুরস্কে কিডনি প্রতিস্থাপনের প্রলোভন দেখিয়ে শতাধিক বাংলাদেশিকে প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। তুরস্কভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান ‘টার্কিশডক’–এর নাম ভাঙিয়ে ভুয়া ওয়েবসাইট খুলে রোগীদের বিদেশে পাঠিয়ে জিম্মি করে অর্থ আদায়ের অভিযোগে চক্রটির পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৪। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাজধানীর মিরপুরে র‌্যাব-৪ ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি জানান সংস্থাটির কোম্পানি কমান্ডার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এন রায় নিয়তি। গ্রেপ্তাররা হলেন: দিনাজপুরের নুরুজ্জামান রাজু (৩৬), মোহাম্মদ তরিকুল (৩০), সালমান ফারসি (৩৫), বরগুনার মাসুম বিল্লাহ (৪৩) ও টাঙ্গাইলের ওয়ালিদ মিয়া (২৬)। র‌্যাব জানায়, ২০২৩ সালে ঢাকার গুলশানে অফিস নিয়ে তুরস্কভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান ‘টার্কিশডক’ কার্যক্রম শুরু করে। সেখানে বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন নুরুজ্জামান রাজু। ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠানটি কার্যক্রম বন্ধ করে দিলে রাজু একই স্থানে অফিস খুলে আসল প্রতিষ্ঠানের হুবহু নকল ‘টার্কিশডকবিডি’ নামে একটি ওয়েবসাইট চালু করেন এবং প্রতারণা শুরু করেন। চক্রটি কিডনি প্রতিস্থাপন, আইভিএফসহ বিভিন্ন চিকিৎসার প্রলোভন দেখিয়ে রোগীদের তুরস্কে পাঠাত। সেখানে নিয়ে জিম্মি করে বিভিন্ন অজুহাতে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হতো বলে জানিয়েছে র‌্যাব। টার্কিশডকবিডি নামে ভুয়া প্রতিষ্ঠানের ওয়েব সাইটের স্ক্রিনশট ঃ র‌্যাবের দাবি, গত তিন বছরে এই চক্র শতাধিক রোগীকে তুরস্কে পাঠিয়ে প্রতারণা করেছে। নিরব নজরুল লিখন নামে এক ভুক্তভোগী জানান, তার মায়ের কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য রাজুর সঙ্গে ২৩ হাজার ডলারে চুক্তি করেন। পরে মাকে নিয়ে তুরস্কে গেলে ধাপে ধাপে প্রায় ৫০ লাখ টাকা নেওয়া হলেও কোনো অস্ত্রোপচার না করেই তাদের দেশে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, তুরস্কে গিয়ে প্রায় ৪০ হাজার ডলারের একটি কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয় এবং মোট প্রায় ৪৬ হাজার ডলার তার কাছ থেকে আদায় করা হয়। দেশে ফিরে টাকা ফেরত চাইলে রাজু বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিতে শুরু করে। একই ধরনের অভিযোগ করেছেন আরেক ভুক্তভোগী হাসান মাহমুদ। তিনি বলেন, তার ভাইয়ের কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য ২৩ হাজার ডলারে চুক্তি করা হলেও পরে তাদের কাছ থেকে প্রায় ৮০ হাজার ডলার নেওয়া হয় এবং আরও ১০ হাজার ডলার দাবি করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে কে এন রায় নিয়তি বলেন, আসল প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট নকল করে ভুয়া প্রতিষ্ঠান খুলে রোগীদের আস্থা অর্জন করত এই চক্র। এরপর তুরস্কে নিয়ে গিয়ে বিভিন্ন অজুহাতে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করত। তিনি বলেন, “এ পর্যন্ত প্রায় ১৫ জন ভুক্তভোগী আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তদন্তে আরও অনেক প্রতারণার ঘটনা সামনে আসতে পারে।” জব্দকৃত মালামাল ঃ র‌্যাব জানিয়েছে, প্রতারণার অর্থ দিয়ে মূলহোতা রাজু ঢাকায় গাড়ি ও বাড়ি করেছেন বলেও প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। বিদেশে চিকিৎসার জন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করার পরামর্শ দিয়েছে র‌্যাব-৪। একইসঙ্গে ‘টার্কিশডকবিডি’ নামে ভুয়া প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতারণার শিকার কেউ থাকলে থানায় বা র‌্যাবের কাছে অভিযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button