প্রথম ভাষণেই প্রতিশোধের হুংকার ইরানের নতুন নেতার

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন ছেলে মোজতবা খামেনি। গত রোববার ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’র সম্মতিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) প্রথমবারের মতো জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন তিনি। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এই ভাষণে জাতীয় ঐক্যের ডাক দেওয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিশোধের হুংকার দিয়েছেন মোজতবা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এক যৌথ হামলায় ইরানের দীর্ঘকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও তার পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য নিহত হন। এই হত্যাকা-ের পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গত রোববার ইরানের অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টসের সম্মতিতে মুজতবা খামেনিকে তার বাবার স্থলাভিষিক্ত করা হয়। ভাষণে মোজতবা খামেনি স্পষ্ট জানান, শত্রুপক্ষকে চাপে রাখতে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুট ‘হরমুজ প্রণালী’ বন্ধ রাখা হবে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে থাকা সব মার্কিন ঘাঁটি অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, অন্যথায় এসব ঘাঁটিতে হামলা অব্যাহত থাকবে। প্রতিবেশীদের সঙ্গে বন্ধুত্বের কথা বললেও মার্কিন সামরিক উপস্থিতির বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না বলেও তিনি সাফ জানিয়ে দেন। আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রশংসা করে মোজতবা খামেনি বলেন, ইয়েমেনের প্রতিরোধ যোদ্ধারা তাদের দায়িত্ব পালন করে যাবে এবং ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোও ইসলামিক বিপ্লবকে রক্ষায় সহায়তা করতে প্রস্তুত। এছাড়া কঠিন সময়ে দেশ ভাগ বা বিদেশি আধিপত্য রুখে দেওয়ার জন্য তিনি ইরানি সামরিক বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন। এদিকে আল জাজিরার তেহরান প্রতিনিধি তৌহিদ আসাদি জানিয়েছেন, মোজতবা খামেনি হরমুজ প্রণালীকে দরকষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে যুদ্ধের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দিতে পারেন। তবে ভাষণে ঐক্যের ডাক দিলেও নতুন এই নেতার নিয়োগ নিয়ে ইরানের সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভক্তি স্পষ্ট। মূলত গত ডিসেম্বরে শুরু হওয়া অর্থনৈতিক সংকট ও বিক্ষোভের জেরে জনমনে এক ধরনের অসন্তোষ বিরাজ করছে। আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি দীর্ঘ ৩৭ বছর ইরান শাসন করার পর গত মাসের হামলায় নিহত হন, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে বড় ধরনের যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছে।



