বিমানের ৬ ক্রুর সবাই নিহত : মার্কিন সামরিক বাহিনী

# ইরানে কুদস দিবসের মিছিলে লাখো মানুষ : ফিলিস্তিন ও নতুন সর্বোচ্চ নেতার প্রতি অকুন্ঠ সমর্থন #
প্রবাহ রিপোর্ট ঃ যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) শুক্রবার ঘোষণা করেছে যে, বৃহস্পতিবার ইরাকে বিধ্বস্ত হওয়া জ্বালানি সরবরাহকারী (রিফুয়েলিং) বিমানের সব ক্রুর মৃত্যু হয়েছে। এক্স (সাবেক টুইটার)-এ এক পোস্টে সেন্টকম জানিয়েছে, ‘পশ্চিম ইরাকে বিধ্বস্ত হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের একটি কেসি-১৩৫ জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানের ছয় ক্রু সদস্যের সবার মৃত্যু এখন নিশ্চিত করা হলো।’ সামরিক বাহিনী এর আগে এই বিমানের চার ক্রু সদস্যের মৃত্যুর কথা ঘোষণা করেছিল। বাকি দুইজনের জন্য উদ্ধার অভিযান অব্যাহত ছিল, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তাদেরও জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ পেন্টাগনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি এক বাক্যে যুদ্ধের ভয়াবহতা ফুটিয়ে তুলে বলেছেন, ‘যুদ্ধ মানেই নরক। যুদ্ধ মানেই বিশৃঙ্খলা।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা গতকাল আমাদের কেসি-১৩৫ ট্যাঙ্কারের মর্মান্তিক বিধ্বস্তের ঘটনায় দেখেছি…, খারাপ জিনিস ঘটতে পারে।’ নিহত সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তারা সবাই আমেরিকান হিরো এবং আমি যেমনটা করি, আমরা সবাই ডোভারে সেই হিরোদের স্বাগত জানাব এবং তাদের আত্মত্যাগ আমাদের এই মিশনের সংকল্পে আরও দৃঢ় করবে।’ কেসি-১৩৫ স্ট্রাটোট্যাঙ্কার বিমানটি মাঝআকাশে অন্য একটি বিমানের সঙ্গে সংঘর্ষের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পশ্চিম ইরাকে বিধ্বস্ত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত অন্য বিমানটি ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করেছে, যার লেজের অংশের কিছু অংশ নিখোঁজ। সেন্টকম এই দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে। অপরদিকে ইরানের রাজধানী তেহরানে ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে আয়োজিত বার্ষিক আল-কুদস দিবসের মিছিলে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রাথমিকভাবে এক নারীর নিহতের খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) জুমার নামাজের পর হাজার হাজার মানুষের অংশগ্রহণে মুখরিত ফেরদৌসী চত্বরে এই বিস্ফোরণ ঘটে বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন। বিস্ফোরণের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া না গেলেও, প্রত্যক্ষদর্শীরা একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। এর আগে, ইসরায়েল ওই এলাকা খালি করার হুমকি দেয়। হুমকি দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই এই ঘটনা ঘটে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রেস টিভি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার ফলে ছিটকে আসা স্প্লিন্টারের আঘাতে এক নারী নিহত হয়েছেন। এদিকে, আল জাজিরা অ্যারাবিক তেহরানে বিক্ষোভকারীদের একটি সমাবেশের মাত্র কয়েক মিটার দূরে বিমান হামলার খবর দিয়েছে। তবে, হামলাটি ঠিক কোথায় হয়েছে বা এতে আরও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা এখনও পরিষ্কার নয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান হামলা সত্ত্বেও তেহরান এবং অন্যান্য শহরে কুদস দিবসের স্মরণে বিপুল সংখ্যক মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। বিক্ষোভকারীরা ‘ইসরায়েল নিপাত যাক’ এবং ‘আমেরিকা নিপাত যাক’ স্লোগান দেন। তারা ইরানের পতাকা এবং ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের ছবি বহন করছিলেন এবং জেরুজালেম ও ফিলিস্তিনি জনগণের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় স্লোগান সম্বলিত ব্যানার প্রদর্শন করছিলেন। তেহরানের সমাবেশে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি আলি লারিজানিসহ সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেন। লারিজানি দাবি করেন, ইসরায়েল ভয়ের কারণে কুদস দিবসে বোমা ফেলছে। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘ইসরায়েল ভয়ের কারণে কুদস দিবসে বোমা ফেলছে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবগত নন যে ইরানিরা একটি শক্তিশালী, সচেতন এবং সংকল্পবদ্ধ জাতি।’ তেহরান থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক তৌহিদ আসাদি জানান, এই সমাবেশ কেবল ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশের জন্য ছিল না, বরং এটি ছিল দেশে চলমান হামলার প্রতি ইরানিদের ক্ষোভ প্রকাশের একটি মুহূর্ত। তিনি বলেন, ‘এটি একটি দ্বিবিধ বার্তাৃ এই প্রদর্শনীতে যোগদানকারী মানুষের মধ্যে তীব্র আবেগ কাজ করছে কারণ দেশটি আমেরিকান এবং ইসরায়েলিদের হামলার শিকার হচ্ছে।’ উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে ইরান প্রতি বছর পবিত্র রমজান মাসের শেষ শুক্রবার আল-কুদস দিবস পালন করে আসছে। বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খামেনি এই দিনটি ঘোষণা করেছিলেন, যা আন্তর্জাতিকভাবে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন এবং ইসরায়েলি দখলের বিরোধিতার প্রতীক হিসেবে পালিত হয়। এবার যুদ্ধ সত্ত্বেও প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান জনগণকে বিপুল সংখ্যায় রাস্তায় নেমে শত্রুদের হতাশ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানে এ পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৪৪৪ জন নিহত এবং ১৮ হাজার ৫৫১ জন আহত হয়েছেন।



