জাতীয় সংবাদ

হামলার প্রতিশোধেই মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন ব্যাংকে হামলা : ইরান

# ইরানি হামলায় ‘সৌদি আরবে ৫টি মার্কিন সামরিক রিফুয়েলিং বিমান’ ক্ষতিগ্রস্ত #

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন ব্যাংকের শাখায় ইরানের হামলা ছিল মূলত প্রতিশোধমূলক। শনিবার ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) মুখপাত্র সরদার নাইনি এই মন্তব্য করেছেন। দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজকে তিনি বলেছেন, আমাদের দুটি ইরানি ব্যাংকে শত্রুপক্ষের (যুক্তরাষ্ট্র) হামলার জবাবে আমেরিকান ব্যাংকের শাখাগুলোতে ওই হামলা চালানো হয়েছে। সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, শত্রুপক্ষ যদি একই ধরনের কর্মকা-ের পুনরাবৃত্তি ঘটায়, তাহলে এই অঞ্চলে অবস্থিত সব আমেরিকান ব্যাংকের শাখা আমাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। দুবাই আন্তর্জাতিক ফিন্যান্সিয়াল সেন্টার এলাকায় পরপর দুটি হামলার ঘটনার পর দুবাইয়ে অবস্থিত সিটিগ্রুপ এবং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের মতো বড় মার্কিন আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কর্মীদের বাসা থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে, এমন পরিস্থিতিতে এইচএসবিসি ব্যাংক কাতারে তাদের সব শাখা বন্ধ করে দিয়েছে এবং ওই অঞ্চলে তাদের কর্মীদের জন্য বাসা থেকে কাজ করার নীতি কার্যকর করেছে। অপরদিকে, ইরানের হামলায় সৌদি আরবের একটি বিমান ঘাঁটিতে থাকা মার্কিন বাহিনীর ৫টি রিফুয়েলিং এয়ারক্রাফট বা জ্বালানি ভরার বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ওই ৫টি বিমান পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি, এখন সেগুলোর মেরামতকাজ চলছে, অনামা মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে শুক্রবার এ খবর দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যমটি। তাদের এ প্রতিবেদনের বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে এ হামলা হয়েছে বললেও ক্ষেপণাস্ত্র না ড্রোনে বিমানগুলোর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সে বিষয়ে কিছু জানায়নি ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানো শুরু করলেও তেহরানও ইসরায়েলের বিভিন্ন শহর ও আশপাশের দেশগুলোতে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট নানান স্থাপনায় পাল্টা হামলা শুরু করে। ইসরায়েলের পর এখন পর্যন্ত ইরানের পাল্টা হামলার ঝাপ্টা সবচেয়ে বেশি গেছে বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতের ওপর দিয়ে। তুলনামূলকভাবে সৌদি আরবে কম হামলার খবর মিলেছে। তার মধ্যে কবে, কখন, কোন বিমান ঘাঁটিতে ৫ রিফুয়েলিং বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হল, তা জানায়নি ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল। এর আগে শুক্রবারই মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ইরাকে তাদের একটি কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাংকার বা রিফুয়েলিং এয়ারক্রাফট ভূপাতিত হওয়ার কথা জানায়। ওই ঘটনায় বিমানটিতে থাকা ৬ ক্রু’র সবাই নিহত হয়েছে বলেও পরে নিশ্চিত করে তারা।

তারও আগে ইরানে হামলার শুরুর দিকেই কুয়েতে তিনটি মার্কিন যুদ্ধ্ববিমান বিধ্বস্ত হয়। কুয়েতি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনার ভুলে ওই বিমানগুলো বিধ্বস্ত হয় বলে পরে দাবি করে কুয়েত ও যুক্তরাষ্ট্র।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button