জাতীয় সংবাদ

ছাত্রদলের নতুন কমিটি নিয়ে জোর আলোচনা, শীর্ষ নেতৃত্বে আসতে পারেন যারা

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ পহেলা মার্চ রাকিব-নাছির কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃত্বে কে আসতে যাচ্ছেন, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। নেতৃত্বে আসতে প্রার্থীরা ইতোমধ্যে তৎপরতা শুরু করেছেন। কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেদের দীর্ঘ লড়াই সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরা, নেতাকর্মীদের নিয়ে শোডাউন দেওয়াসহ আড্ডা-আলোচনায় তারা যুক্ত হচ্ছেন। কমিটির বিষয়ে আলোচনা চললেও কখন কমিটি ঘোষণা হতে পারে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। দলের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ঈদের আগে কমিটি হচ্ছে না, তা অনেকটাই নিশ্চিত। তবে ঈদের পরও খুব দ্রুতই কমিটি হতে পারে, এমন কোনো আভাস দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে পাওয়া যায়নি। সেক্ষেত্রে এটি কোরাবানীর ঈদের পর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। যদিও একাধিক পদপ্রত্যাশী আশা করছেন, রোজার ঈদের পরই কমিটি ঘোষণা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ পদ প্রত্যাশী এক প্রার্থী জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিটি কিছুটা প্রস্তুত রয়েছে। সেক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিটি কেন্দ্রীয় কমিটির আগেও ঘোষণা হতে পারে; একসঙ্গেও ঘোষণা হতে পারে। তিনি জানান, ছাত্রদলের একাধিক জেলা কমিটি কয়েকবছর ধরে ‘ঝুলে’ রয়েছে। এসব কমিটি ঘোষণা দেওয়ার জন্য বর্তমান কমিটি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন। সেক্ষেত্রে এসব কমিটি কীভাবে বা কোন ফরম্যাটে দেওয়া হবে, তা নিয়েও আলোচনা হবে। এক্ষেত্রে দলের সায় থাকলে এই কমিটির মেয়াদ আরও কিছুদিন বাড়তে পারে। তবে দলের অন্তত ৩ জন শীর্ষ পদপ্রত্যাশী জানিয়েছেন, বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কমিটি ঘোষণাসহ একাধিক ক্ষমতা ইতোমধ্যেই সীমাবদ্ধ করে ফেলা হয়েছে। ফলে তারা চাইলেও কমিটি দিয়ে যেতে পারবেন না। তাদেরকে এখন দায়িত্ব ছাড়তে হবে। দলীয় আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, রাকিব-নাছির কমিটিকে দল থেকে আরও কিছু সময় দেওয়া হতে পারে। যেহেতু এই কমিটি একইসঙ্গে শেখ হাসিনার শাসন, অন্তর্র্বতী সরকারের শাসন এবং বিএনপি সরকারের নির্বাচনে জয়লাভ দেখেছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংসদ নির্বাচনে হার ছাড়া অভ্যুত্থানের পর তারা মোটামোটি সফলভাবে সংগঠন চালাচ্ছে। ছাত্রসংসদে হারের পেছনে স্থানীয় বিএনপির ভূমিকাও রয়েছে। এসব বিবেচনায় নিয়ে তাদের আরও কিছু সময় রাখা হতে পারে। সেক্ষেত্রে কমিটি ঘোষণা কোরবানির পর যেতে পারে। দলের শীর্ষ পদপ্রত্যাশী একাধিক নেতা আশা করছেন, সংগঠনের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় এবং দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে ভূমিকা রাখা নেতাদেরই নতুন কমিটিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বিএনপির শীর্ষ পর্যায় থেকেও তাদের এমন প্রতিশ্রুতিই দেওয়া হয়েছে। তারা জানান, অতীতে যারা আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে সক্রিয় ছিলেন, তাদের দিয়ে কমিটি গঠন করা হলে তৃণমূলের নেতাকর্মীরাও সন্তুষ্ট হবেন। সংগঠন ও সাংগঠনিক অভিভাবক চাইলে যেকোনো সময় নতুন কমিটি ঘোষণা করা সম্ভব। এবছর ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি ২০০৮-০৯, ২০০৯-১০, ২০১০-১১, এবং ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষ থেকে দেওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। এই সেশনগুলো থেকে বিভিন্ন গ্রুপে সক্রিয় ছাত্রদল নেতারা শীর্ষ পদ পেতে চেষ্টা চালাচ্ছেন। ২০০৮-০৯ সেশন থেকে আলোচনায় আছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মঞ্জুরুল রিয়াদ। তিনি ইতোমধ্যে ক্যাম্পাসে নিজ গ্রুপের নেতাকর্মীদের নিয়ে মহড়া দিয়েছেন। ইফতার অনুষ্ঠান আয়োজন করেছেন। একই সেশন থেকে সহ-সভাপতি ইজাজুল কবির রুয়েলও প্রার্থী রয়েছেন। তিনি সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের গ্রুপের সঙ্গে রাজনীতি করেন। এছাড়া ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি খোরশেদ আলম সোহেল এবং ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সাফি ইসলাম আলোচনায় রয়েছেন। ২০০৯-১০ সেশন থেকে আলোচনায় আছেন যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি ২০১৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ভিপি পদে ছাত্রদলের প্যানেল থেকে নির্বাচন করেন। এছাড়া ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেনও পদপ্রত্যাশী। তিনিও মধুর ক্যান্টিনে আড্ডা ও ক্যাম্পাসজুড়ে মহড়া দিয়েছেন। এছাড়া হাসানুর রহমান, সালেহ মোহাম্মদ আদনান, আরিফুল ইসলাম আরিফ, মাসুদুর রহমান, বায়েজিদ হোসেন, আমানুল্লাহ আমান ও মইনুল ইসলাম জিসান এবং ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক শরীফ প্রধান শুভ আলোচনায় রয়েছেন।
এরমধ্যে আরিফুল ইসলাম ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমান কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক। বেশ আলোচনায় রয়েছেন আমানুল্লাহ আমান। তিনি দলের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে রয়েছেন। তিনিও কারা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button