ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞের সতর্কবার্তা: ‘যুদ্ধ হেরে যাওয়ার পথে যুক্তরাষ্ট্র’

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ আমেরিকা ফার্স্ট’ মতাদর্শের বিশিষ্ট জাতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষক ডেভিড পাইন ইরানের সাথে চলমান সংঘাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, সামরিক ক্ষয়ক্ষতি যা-ই হোক না কেন, ইরানের সামনে জয়লাভের একটি সহজ পথ খোলা রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাইন লিখেছেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তাদের এই স্বাধীনতা যুদ্ধে জেতার জন্য ইরানকে কেবল টিকে থাকতে হবে এবং যুদ্ধের শেষ পর্যন্ত টিকে থেকে শত্রুদের ওপর সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করতে হবে। এর মাধ্যমে তারা ট্রাম্পকে বাধ্য করবে তার এই ‘অজেয়’ বা অসম্ভব আগ্রাসী যুদ্ধ বন্ধ করতে।” পাইন তার বিশ্লেষণে অপ্রতিসম যুদ্ধকৌশলের ঝুঁকি নিয়ে সামরিক কৌশলবিদদের সতর্কবার্তার প্রতিধ্বনি করেছেন। তার মতে, বড় ধরনের স্থল আক্রমণ ছাড়া ইরানের সাথে সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব শেষ পর্যন্ত কোনো কাজে আসবে না। ভিয়েতনাম যুদ্ধের সাথে তুলনা টেনে পাইন বলেন, “যদি যুক্তরাষ্ট্র পাঁচ লাখ সেনা নিয়ে ইরানে স্থল আক্রমণ না করে, তবে তারা হয়তো প্রতিটি ছোটখাটো যুদ্ধে জয়ী হবে, কিন্তু ভিয়েতনামের মতো সামগ্রিক যুদ্ধে তারা হেরে যাবে।” সাবেক এই ট্রাম্প সমর্থক এরপর প্রেসিডেন্টের সামরিক অভিজ্ঞতা নিয়েও সমালোচনা করেন। পাইন লিখেন, “ট্রাম্প ভিয়েতনাম যুদ্ধ এড়াতে চারবার ড্রাফট (সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগ) এড়িয়ে গিয়েছিলেন। মনে হচ্ছে, সেখান থেকে তিনি সেই গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাটি কখনোই নেননি।” পাইন-এর এই মন্তব্য ট্রাম্পের নিজস্ব রাজনৈতিক বলয়ের মধ্যেই ইরানের সামরিক অভিযানের কার্যকারিতা নিয়ে ক্রমবর্ধমান সন্দেহের বহিঃপ্রকাশ। ট্রাম্প বারবার যে ধরনের সামরিক সংঘাত এড়িয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সেই মাত্রায় না গিয়ে লক্ষ্য অর্জন করা বর্তমান প্রশাসনের পক্ষে কতটা সম্ভব, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।



