কুরআনে হাফেজদের তিলায়াত গাজার আকাশ-বাতাস মুখরিত করছে

“গাজার এই হাফেজরা বিশ্বকে বার্তা দিচ্ছে যে, গাজা অপরাজেয়। আমাদের ঘরবাড়ি ধ্বংস করা গেলেও আমাদের আত্মা এবং বিশ্বাসের ভিত উপড়ে ফেলা সম্ভব নয়।”
প্রবাহ রিপোর্ট ঃ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ১৩ বছর বয়সী কিশোর আব্দুল রহমান আবু নিমর জানায়, যুদ্ধের ভয়াবহতার মাঝেই সে কুরআন হিফজ সম্পন্ন করেছে। সে বলে, “ইসরায়েলি হামলায় আমি আমার বাড়ি, চাচা এবং অনেক বন্ধুদের হারিয়েছি। কিন্তু এই তিলাওয়াতের আসর আমাকে সেই শোক ভোলার শক্তি দেয়।” গাজার ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত গাজার প্রায় ১,০০০ এর বেশি (প্রায় ৮৯ শতাংশ) মসজিদ সম্পূর্ণ বা আংশিক ধ্বংস হয়ে গেছে। তা সত্ত্বেও তাবু বা খোলা আকাশের নিচে অস্থায়ী মসজিদ তৈরি করে ধর্মীয় শিক্ষা ও তিলাওয়াত অব্যাহত রেখেছেন ফিলিস্তিনিরা। আয়োজক সংস্থা ‘দার আল-কুরআন অ্যান্ড সুন্নাহ ইনস্টিটিউট’-এর পরিচালক আহমেদ আল-সাফিন বলেন, “গাজার এই হাফেজরা বিশ্বকে বার্তা দিচ্ছে যে, গাজা অপরাজেয়। আমাদের ঘরবাড়ি ধ্বংস করা গেলেও আমাদের আত্মা এবং বিশ্বাসের ভিত উপড়ে ফেলা সম্ভব নয়।” তীব্র খাদ্য সংকট, তেলের অভাব আর প্রতিনিয়ত মৃত্যুর আশঙ্কার মাঝেও এই কুরআন তিলাওয়াতের আসর গাজাবাসীর মনে নতুন করে আশার আলো সঞ্চার করছে। সূর্যাস্তের সাথে সাথে পুরো কুরআন খতম করে এই হাফেজরা আবার ফিরে গেছেন তাদের অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে, তবে বুকে নিয়ে গেছেন এক নতুন মানসিক শক্তি।



