জাতীয় সংবাদ

ধর্ষণ রোধে সব মন্ত্রণালয়-সংস্থাকে সমন্বিত অ্যাকশনে যাওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রী’র

# কৃষকের মুখে হাসি না ফুটলে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয় #

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন মামলায় সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থা মিলে বিশেষ ড্রাইভ (পদক্ষেপ) দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে সব মন্ত্রণালয়কে সমন্বিত অ্যাকশনে যাওয়ার এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. নাসিমুল গনি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ছুটির দিনে বেলা ২টায় মন্ত্রিসভা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সচিবালয় ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেন, মন্ত্রিসভা সুয়োমুটো একটা ডিসিশন নিয়েছে যে, ধর্ষণ মামলা যেগুলো আছে বা এর আগে হয়েছে, এগুলোর জন্য একটা স্পেশাল ড্রাইভ নেওয়া সব মিনিস্ট্রি মিলে। যতদূর যাওয়া দরকার যাবে কিন্তু এগুলো সমাজ থেকে বন্ধ করার জন্য এবং এসব জিনিসগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত অ্যাকশন নেওয়ার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, যেকোনো মামলার বিষয়ে অনেকগুলো এজেন্সি জড়িত। এদের মধ্যে সমন্বয় করতে বলা হয়েছে। আন্তঃসংস্থা সমন্বয় বাড়ানো, জনসচেতনতা তৈরি এবং আইনি প্রক্রিয়ার প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে প্রতিটি জেলায় বিশেষ আদালতের কার্যক্রমও আরও জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে ঈদের সময় এ বিষয়টা নিয়ে কাজ করবেন। কোন প্রসঙ্গে এই নির্দেশনা দেওয়া হলো- জানতে চাইলে মন্ত্রীরা বলছেন সচিব বলেন, সরকারের কতগুলো অগ্রাধিকার আছে। তারমধ্যে এটা পড়েছে। তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বৈঠকে এটা নিয়ে আলোচনা করার। ২৫৬ হাফেজের মিলনমেলা, গাজায় ধ্বংসস্তূপের মাঝেও প্রতিধ্বনিত হচ্ছে পবিত্র কুরআনের সুর। ইসরায়েলি ড্রোনের একটানা গুঞ্জন আর চারপাশের ধ্বংসস্তূপের মাঝেই গাজার আকাশ-বাতাস মুখরিত হয়ে উঠেছে পবিত্র কুরআনের তিলাওয়াতে। দীর্ঘ দুই বছরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ আর মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যেও ফিলিস্তিনিদের মনোবল যে ভাঙেনি, তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন গাজার একদল কুরআন হাফেজ। সোমবার (১৬ মার্চ) দক্ষিণ গাজার খান ইউনুসের ক্ষতিগ্রস্ত আল-শাফি মসজিদে সমবেত হয়েছিলেন ২৫৬ জন হাফেজ। তাদের লক্ষ্য ছিল সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত এক বসাতেই পুরো কুরআন তিলাওয়াত করা। ‘সাফওয়াত আল-হুফফাজ’ বা ‘সেরা হাফেজদের সম্মেলন’ শীর্ষক এই আয়োজনটি এখন গাজাবাসীর কাছে কেবল ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং প্রতিরোধের এক আধ্যাত্মিক প্রতীকে পরিণত হয়েছে। সাদা পোশাক পরিহিত এই হাফেজদের সারিতে ছিলেন ৫১ বছর বয়সী মোহাম্মদ আল-কিরানাউই। ছোটবেলায় দৃষ্টিশক্তি হারানো এই হাফেজ বলেন, “কুরআনই আমার সারজীবনের শ্রেষ্ঠ সঙ্গী। যুদ্ধের কারণে বাস্তুচ্যুত হওয়া বা মসজিদ ধ্বংস হওয়া কোনো কিছুই আমাকে তিলাওয়াত থেকে দূরে রাখতে পারেনি। আজ আমি এখানে এসেছি আমার হারানো দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তে পাওয়া এই মহিমান্বিত উপহারকে হৃদয়ে ধরে রাখতে।” অপরদিকে কৃষকের মুখে হাসি না ফুটলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সচিবালয়ে ‘কৃষক কার্ড’ নিয়ে এক পর্যালোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কৃষকদের দোরগোড়ায় সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও প্রণোদনা সরাসরি পৌঁছে কৃষক কার্ড চালুর উদ্যোগ নেন তিনি। সভায় কৃষকদের জীবনমান উন্নয়ন এবং কৃষিখাতে আধুনিকায়নের কৃষক কার্ড চালুর অগ্রগতিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘কৃষিই বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। কৃষকের মুখে হাসি না ফুটলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।’ তিনি বলেন, ‘কৃষক কার্ড চালুর মূল উদ্দেশ্য হলোÍপ্রকৃত কৃষকরা যেন সার, বীজ, কীটনাশক এবং সরকারি আর্থিক সহায়তা কোনো ধরনের মধ্যস্বত্বভোগীর হয়রানি ছাড়াই সরাসরি পান, তা নিশ্চিত করা। দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্ভুল ডেটাবেজ তৈরির কাজ সম্পন্ন করে কৃষকদের হাতে এই স্মার্ট কার্ড তুলে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। সংশ্লিষ্টরা বলছে, ডিজিটাল ‘ফার্মার্স কার্ড বা কৃষক কার্ড’-এর মাধ্যমে কৃষকরা সহজেই কৃষি ঋণ, সেচ সুবিধা, ফসল বিমা এবং সরকারি ভর্তুকি গ্রহণ করতে পারবেন। এ ছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়াও এই কার্ডের মাধ্যমে অনেক সহজ ও স্বচ্ছ হবে। পর্যালোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হয়, ইতোমধ্যে সারাদেশের প্রকৃত কৃষকদের তথ্য সংগ্রহের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। পাইলট প্রকল্প হিসেবে দেশের কয়েকটি জেলায় খুব শিগগিরই এর বিতরণ শুরু হবে এবং আগামী মৌসুমের আগেই দেশব্যাপী এই কার্ড কৃষকদের হাতে তুলে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কৃষিখাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারের এই ‘কৃষক কার্ড’ উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে দেশের কৃষি ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে এবং কৃষকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button