‘এখন খেলাকেই পেশা বানানো যাবে’, ভাতা পেয়ে খুশি খেলোয়াড়রা

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হলো জাতীয় ক্রীড়াবিদদের জন্য মাসিক ভাতা চালুর মাধ্যমে। দীর্ঘদিন ধরে ক্রিকেটের বাইরে থাকা খেলোয়াড়দের আর্থিক অনিশ্চয়তা দূর করার লক্ষ্যে সরকার এবার তাদের জন্য নির্দিষ্ট বেতন কাঠামো চালু করেছে। যার আওতায় প্রথম ধাপে ১২৯ জন ক্রীড়াবিদকে সম্মানী দেওয়া হয়েছে। ক্রিকেটারদের আর্থিক স্বচ্ছলতার বিপরীতে অন্য খেলাগুলোর খেলোয়াড়রা এতদিন নানা সংকটে ছিলেন। জীবিকা নির্বাহের জন্য অনেককেই খেলার পাশাপাশি অন্য পেশায় যুক্ত থাকতে হতো। এই বাস্তবতায় নতুন ভাতা কাঠামো চালু হওয়ায় ক্রীড়াবিদদের মধ্যে স্বস্তি ও আশার সঞ্চার হয়েছে। ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে মিশ্র বিভাগে রৌপ্যজয়ী খই খই মারমা নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ‘আসলে ভাবতে পারিনি মাসে এত বেতন পাব। এটা প্রতিটি খেলোয়াড়ের জন্য খুশির ব্যাপার। একই ইভেন্টে তার সঙ্গী টেবিল টেনিস খেলোয়াড় জাভেদ আহমেদও এই উদ্যোগকে যুগান্তকারী বলে মনে করছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের অনেক দিনের চাওয়া ছিল পেশা হিসেবে খেলাকে নিতে চাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এটা ক্রীড়াঙ্গনের চেহারা বদলে দেবে। ক্রীড়াঙ্গনের ফলাফল বদলে দেবে। আমরা এটা এখন পেশা হিসেবে নিতে পারব। আগে পিছু টান ছিল। এই জায়গাটা এখন আর থাকছে না।’ জানা গেছে, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ নির্দিষ্ট সময় পরপর খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করবে। যারা প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফরম্যান্স দিতে ব্যর্থ হবেন, তারা ভাতার তালিকা থেকে বাদ পড়বেন এবং নতুনদের সুযোগ দেওয়া হবে। এতে ক্রীড়াঙ্গনে প্রতিযোগিতা বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ প্রসঙ্গে খই খই মারমা বলেন, ‘তিন চার মাস পর যেহেতু পরিবর্তন হবে ফলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হবে। আমরা যারা এই পর্যায়ে আসছি, আরো ভালো কিছু করার চেষ্টা করব।’ সম্প্রতি থাইল্যান্ডে কম্পাউন্ড দলগত বিভাগে স্বর্ণজয়ী আর্চারি দলের সদস্য হিমু বাছাড় এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যত অনিশ্চয়তায় কেউ আসতে চায় না। এখন ক্রীড়াবিদরা একটা ভাতার আওতায় আসায় অনেকেই তার পছন্দ অনুযায়ী খেলায় আসবে। বেশ দারুণ উদ্যোগ।’ নারী ফুটসাল দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুনও একই মত পোষণ করে বলেন, ‘এখন যে কেউ খেলাকে পেশা হিসেবে নিতে পারবে। তাকে খেলার পাশাপাশি অন্য কোনো চিন্তা করতে হবে না। পরিবারও তাদের সন্তানের ভবিষ্যত নিয়ে শঙ্কায় থাকবে না।’ এই ভাতার আওতায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ক্রীড়াবিদরাও অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। প্যারা অ্যাথলেট শহীদ উল্লাহ বলেন, ‘আমাদের জীবনযাপন অন্য রকম। চলাফেরা ও অনেক কিছুতেই খরচ বেশি। খেলার প্রতি আমাদের ভালোবাসা রয়েছে। সরকার আমাদের ভাতা দিচ্ছে এজন্য অত্যন্ত খুশি ও কৃতজ্ঞ। প্রধানমন্ত্রীর এমন উদ্যোগ সাধুবাদ জানাই।’ প্রথম ধাপে ১২৯ জন ক্রীড়াবিদ এই সুবিধা পেয়েছেন এবং শিগগিরই ক্রিকেট ছাড়া অন্যান্য সব ডিসিপ্লিনের জাতীয় খেলোয়াড়দের এই কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।



