জাতীয় সংবাদ

ইরানি হামলা থেকে বাঁচতে পালায় মার্কিন বৃহত্তম রণতরী জেরাল্ড আর ফোর্ড

# গোমর ফাঁস করলেন ট্রাম্প #
# এক ভিডিও বার্তায় ট্রাম্পকে বলতে শোনা যায়, ‘ইরান বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরীটিকে ১৭টি কোণ থেকে আঘাত করেছে। নিজেদের জীবন বাঁচাতে আমাদের পালাতে হয়েছিল সবকিছু শেষ হয়ে যাচ্ছিল।’

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ ইরানে আগ্রাসন জোরদার করতে মধ্যপ্রাচ্যে বিশ্বের বৃহত্তম যুদ্ধবিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড মোতায়েন করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। সেটি ভূমধ্যসাগর হয়ে সুয়েজ খাল অতিক্রম করে লোহিত সাগরে প্রবেশ করেছিল। আরব সাগরে মোতায়েনের পরিকল্পনা থাকলেও লোহিত সাগর থেকেই ফিরে যায় সমুদ্রের এই দানব। কারণ হিসেবে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছিল যে, রণতরীটির লন্ড্রি বিভাগে অগ্নিকা-ের কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। এ কারণে সেটি মেরামতের জন্য গ্রিসের বন্দর হয়ে ক্রোয়েশিয়ায় চলে গেছে। তবে সেটি ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে এক বক্তৃতায় গোমর ফাঁস করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার সেই বক্তব্য সম্বলিত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে। ভিডিওতে ট্রাম্প বলেন, জেরাল্ড আর ফোর্ডে ১৭ দিক থেকে আক্রমণ করেছিল ইরান। এ কারণে সেনাদের জীবন বাঁচাতে সেটি পালিয়ে যায়।
এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের এ যাবৎকালের সবচেয়ে উন্নত রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড বর্তমানে অকেজো হয়ে আছে। মার্কিন নৌবাহিনী জানায়, রণতরীটির লন্ড্রিতে আগুন লাগার কারণে মেরামতের জন্য গত শুক্রবার সেটি ক্রোয়েশিয়ায় নোঙর করে। তবে ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরানি বাহিনী সফলভাবে জাহাজটিকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে ১৭ বার আঘাত করেছে। এর অর্থ হলো, ফোর্ডের ৪ হাজার ৫০০ নাবিক আপাতত এই যুদ্ধের বাইরে থাকছেন। ভারতভিত্তিক আরেক সংবাদমাধ্যম নিউজ১৮-এর এক প্রতিবেদনেও একই তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। এই রিপোর্টের শিরোনাম করা হয়, ‘নিজেদের জীবন বাঁচাতে আমাদের পালাতে হয়েছিল’: মার্কিন বিমানবাহী রণতরীতে ‘১৭টি দিক’ থেকে ইরানি হামলার দাবি ট্রাম্পের।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইরান ১৭টি দিক থেকে ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডে হামলা চালিয়েছে, তবে পশ্চিম এশিয়া সংকটের মধ্যে এই দাবির কোনো প্রমাণ নেই উল্লেখ করে পেন্টাগন তার বক্তব্য নাকচ করে দিয়েছে। চলমান পশ্চিম এশিয়া সংকটের মধ্যে ট্রাম্প বলেছেন যে ইরান জেরাল্ড আর ফোর্ডের ওপর হামলা চালিয়েছে, যা পরবর্তীতে পেন্টাগন প্রত্যাখ্যান করেছে। এর আগে ট্রাম্প অভিযোগ করেছিলেন যে, এই বিমানবাহী রণতরীটি ইরানের সমন্বিত হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল এবং তিনি একে একটি ভয়াবহ সামরিক ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেন। ‘ন্যাশনাল হেরাল্ড’-এর একটি প্রতিবেদন অনুসারে, ট্রাম্প দাবি করেছেন যে জাহাজটি লক্ষ্য করে বিভিন্ন দিক থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছিল, যা তেহরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরীটিকে ১৭টি কোণ থেকে আঘাত করেছে। নিজেদের জীবন বাঁচাতে আমাদের পালাতে হয়েছিল সবকিছু শেষ হয়ে যাচ্ছিল।’ আরেক সংবাদমাধ্যম দ্য কুইন্ট জানায়, বিভ্রান্তিকর প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের বক্তৃতার ভিডিও শেয়ার করা হয়েছে। ‘ফিউচার ইনভেস্টমেন্ট ইনিশিয়েটিভ ইনস্টিটিউট’-এ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একটি বক্তৃতার ভিডিও বর্তমানে ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দাবি করা হচ্ছে, ট্রাম্প মার্কিন নৌবাহিনীর বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরীর বিরুদ্ধে ইরানের সামরিক অভিযান নিয়ে কথা বলছেন। ভিডিওগুলো এই ক্যাপশন দিয়ে শেয়ার করা হচ্ছে ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড বিমানবাহী রণতরীর বিরুদ্ধে ইরানের অভিযানের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেছেন: ‘ইরান ১৭টি দিক থেকে বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী আক্রমণ করেছে। আমাদের জীবন বাঁচাতে পালাতে হয়েছে। সবকিছু শেষ হয়ে গিয়েছিল’।’

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button