একসঙ্গে জন্ম, একসঙ্গেই মৃত্যু

প্রবাহ রিপোর্ট : ফরিদপুরের ট্রেনের ধাক্কায় তাইয়েব ও তাহমিদ (৪) নামে যমজ ভাই নিহত হয়েছে। বুধবার (০১ এপ্রিল) দুপুরে মধুখালী উপজেলার ভুষনা লক্ষণদিয়া রেলক্রসিং এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহতরা তাইয়েব ও তাহমিদ মধুখালী উপজেলার লক্ষণদিয়া গ্রামের আকাশ শেখ ও রিমা বেগম দম্পতির যমজ সন্তান। এদিকে যমজ ছেলে হারিয়ে পাগলপ্রায় বাবা-মা, সেইসঙ্গে কাঁদছে পাড়া-প্রতিবেশী, স্বজনরা। তাদের নির্মম মৃত্যুতে এলাকায় বইছে শোকের মাতম।
জানা যায়, বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে রাজবাড়ী থেকে ছেড়ে আসা গোপালগঞ্জের ভাটিয়াপাড়ার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল একটি লোকাল ট্রেন। এ সময় ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার ভূষনা-লক্ষণদিয়া রেলক্রসিং পার হয়ে তাইয়েব ও তাহমিদ রেলক্রসিংসংলগ্ন একটি দোকানে চকলেট কিনতে যায়। ঠিক তখনই ট্রেনের ধাক্কায় কয়েক ফুট দূরে ছিটকে পড়ে তারা। এতে ঘটনাস্থলেই দুজন মারা যায়।
স্থানীয়রা জানান, পাঁচ বছর আগে বিয়ে হয় আকাশ শেখ ও রিমা বেগমের। বিয়ের এক বছর পরই তাদের কোলজুড়ে আসে ফুটফুটে দুই শিশুপুত্র। সেই আনন্দ আর রঙিন স্বপ্ন স্থায়ী হলো না তাদের। চোখের সামনে একসঙ্গে দুই সন্তানের এমন মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন তারা।
দেখা যায়, যমজ সন্তানের নির্মম মৃত্যুতে আহাজারি থামছে না মা রিমা বেগমের। কোনো শান্তনাতেই তার চোখের পানি থামছে না। তিনি বিলাপ কর বলছেন, ‘ছেলেদের ফিরিয়ে দাও, এনে দাও।’ আর কান্না করতে করতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন ওই মা।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, ওই এলাকায় রেলক্রসিংটি অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। যেখান দিয়ে চার থেকে পাঁচটি গ্রামের বাসিন্দাদের যাতায়াত। আগেও একাধিক দুর্ঘটনায় অন্ততপক্ষে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে এই রেলগেটে। এ দুর্ঘটনায় অরক্ষিত রেলক্রসিংকে দায়ী করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির তাইজুর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসেছি এবং রেলওয়ে পুলিশকে জানানো হয়েছে। তারা পৌঁছালে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হবে।’



