জাতীয় সংবাদ

দেশে হাম পরিস্থিতি ভয়াবহ : মৃত্যু ১৫

রোববার থেকে শুরু হচ্ছে টিকাদান কর্মসূচি
৯ মাসের পরিবর্তে ৬ মাস বয়সী শিশুকে দেওয়া হবে টিকা

প্রবাহ রিপোর্ট : দেশে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। এ পর্যন্ত রাজশাহীসহ বিভিন্ন এলাকায় হামে আক্রান্ত হয়ে ১৫ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী। বুধবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য জানান। কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সহায়তায় ল্যাবরেটরিতে ৩৩টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।
পরীক্ষায় দেখা গেছে যে, ১৫ জনের মৃত্যুর সঙ্গে হামের সংক্রমণের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। এই মৃত্যুর ঘটনাগুলো রাজশাহী অঞ্চলে বেশি হওয়ায় সেখানে বিশেষ নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, যেসব শিশু এখনো টিকার আওতায় আসেনি বা নির্ধারিত ডোজ সম্পন্ন করেনি, তাদের মধ্যেই সংক্রমণ ও জটিলতার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে।
বিশেষ করে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হচ্ছে বলে স্বাস্থ্য বিভাগ সতর্ক করেছে। এই সংকট মোকাবিলায় সরকার ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
রোববার থেকে শুরু হচ্ছে টিকাদান কর্মসূচি : দেশে হাম পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেওয়ায় আগামী রোববার (৫ এপ্রিল) থেকে উপজেলা পর্যায়ে রোগটির টিকাদান কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান স্বাস্থ্য সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, বেশি আক্রান্ত এলাকায় আগে টিকা দেওয়া হবে। আগামী দুই দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট এলাকায় টিকা পৌঁছে যাবে। স্বাস্থ্যকর্মীদের সবধরনের ছুটি বাতিল করেছে সরকার।
সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল জানান, ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুরা এ টিকার আওতায় আসবে। সারাদেশে এই টিকার কার্যক্রম চলবে।
মন্ত্রী বলেন, ২১ দশমিক ৯ মিলিয়ন ডোসের টিকা দেওয়া হবে এই কার্যক্রমে। এক ডোজ করে টিকা পাবে প্রত্যেকটি শিশু। আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান গাভি (এঅঠও) থেকে এই টিকা ধার নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
সম্প্রতি দেশে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ—এই ছয় জেলায় হাম বেশি ছড়িয়েছে। ইতোমধ্যে সাত শতাধিক মানুষ হামে আক্রান্ত হয়েছে। মারা গেছে পঞ্চাশের বেশি।
হামের টিকাদানে অন্তর্র্বতী সরকারের গাফিলতি ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখন বিলম্ব না করে সরকারের ত্বরিত কর্মসূচি হাতে নেওয়া উচিত। গুরুত্ব না দিলে হাম ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি আছে। একজন রোগী ১৬ থেকে ১৮ জনের মধ্যে হাম ছড়াতে পারে।
দেশে হামের টিকা শিশুদের সাধারণত দুইভাবে দেওয়া হয়। দেশের প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টিকাকেন্দ্রে নিয়মিত এই টিকা দেওয়া হয়। গ্রামাঞ্চলে সরকারের মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরা এই টিকা দেন। সিটি করপোরেশন ও অন্যান্য শহর এলাকায় এই টিকা দেন সিটি করপোরেশনের টিকা কর্মীরা (ভ্যাকসিনেটর) এবং এনজিও কর্মীরা।
এর বাইরে কয়েক বছর পরপর জাতীয় ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে দেশব্যাপী কয়েক দিনের মধ্যে সব শিশুকে টিকা দেওয়া হয়। নিয়মিত কর্মসূচিতে ৯ মাস বয়সী শিশুকে হামের টিকার প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাস বয়সী শিশুকে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়। জাতীয় ক্যাম্পেইনের সময় ৯ মাস বয়স থেকে শুরু করে ১০ বছর বয়স পর্যন্ত সব শিশুকে টিকা দেওয়া হয়। দেশে সর্বশেষ জাতীয় ক্যাম্পেইন হয়েছিল ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে।
হামের টিকা ৯ মাসের পরিবর্তে ৬ মাস বয়সী শিশুকে দেওয়া হবে : এত দিন ৯ মাস বয়স পূর্ণ হলেই শিশুরা হামের টিকা পেত। তবে সংক্রমণের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় ক্যাম্পেইনে ৬ মাস বয়সী শিশুরাও এবার হামের টিকা নিতে পারবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সোমবার জাতীয় টিকাদান-সংক্রান্ত কারিগরি উপদেষ্টা গ্রুপের (নাইট্যাগ) সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. হালিমুর রশিদ।
তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ক্যাম্পেইনে নির্ধারিত বয়সের আগেও টিকা দেওয়া হয় এবং এ বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা রয়েছে। সেই অনুযায়ী ৬ থেকে ১০ মাস বয়সী শিশুদের ক্যাম্পেইনে হামের টিকা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে নাইট্যাগ। তবে নিয়মিত টিকাদানে ৯ মাসের আগে টিকা দেওয়া যাবে না।
নিয়মিত কর্মসূচিতে বয়সসীমা অপরিবর্তিত রাখার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার কোনো সুপারিশ নেই এবং এটি এখনো গবেষণাধীন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button