আশ্রয়ণ প্রকল্পে অনিয়ম : সিনিয়র সহকারী সচিব রুম্পার শাস্তি

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের ঘর নির্মাণে অনিয়ম ও দায়িত্বে অবহেলার কারণে সিনিয়র সহকারী সচিব রুম্পা সিকদারের বেতন দুই বছর বাঙবে না। বর্তমানে তিনি বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দাযড়ত্ব পালন করছেন। বুধবার (১ এপ্রিল) তাকে শাস্তি দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রুম্পা সিকদার ২০১৯ সালের ৮ জুলাই থেকে ২০২২ সালের ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ২০২১-২০২২ অর্থবছরের তৃতীয় পর্যায়ে ৩০২টি ঘর নির্মাণের জন্য ১ কোটি ৪৫ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ পান। এর মধ্যে মাটিভাঙ্গা (চর ষাটপাকিয়া) এলাকায় ১২৮টি ঘর নির্মাণের কথা ছিল। পরবর্তী সময়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউএনও মো. নজরুল ইসলামের সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, ওই ১২৮টি ঘরের মধ্যে ৫৫টি ঘর নির্মাণই করা হয়নি। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বিজন কৃষ্ণ খরাতীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি ঘরগুলো নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। পরে ঘর প্রতি ৩ লাখ ৪ হাজার টাকা হারে এবং পরিবহন ব্যয়সহ মোট ১ কোটি ৬৯ লাখ ৯৫ হাজার টাকা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবে জমা দিতে বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার তাকে নির্দেশ দেন। নির্দেশনা অনুযায়ী বিজন কৃষ্ণ খরাতী টাকা জমা দেন। প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, রুম্পা সিকদার তার দায়িত্বকালীন অনির্মিত ৫৫টি ঘর নির্মাণে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি। বরং বিজন কৃষ্ণ খরাতীর প্রস্তাবে পুরো অর্থের চেকে স্বাক্ষর করেন। এছাড়া ‘গৃহ প্রদান নীতিমালা, ২০২০’ অনুযায়ী ঘর নির্মাণের গুণগত মান নিশ্চিত করতেও ব্যর্থ হন, যা দায়িত্বে চরম অবহেলা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এ ঘটনায় ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩(খ) অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগে ২০২৪ সালের ৯ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়। অভিযোগের জবাব দাখিলের পর গত বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি ব্যক্তিগত শুনানি অনুষ্ঠিত হলেও তার বক্তব্য সন্তোষজনক হয়নি। পরে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, রুম্পা সিকদার ও বিজন কৃষ্ণ খরাতীর যৌথ স্বাক্ষরে ঘর নির্মাণের টাকা উত্তোলন করা হয়েছিল। কিন্তু ৫৫টি ঘর নির্মাণ না হলেও নলছিটি থেকে বদলির সময় তিনি এ অর্থের কোনো বিবরণ দাপ্তরিক নথিতে লিপিবদ্ধ করেননি। একজন ইউএনও হিসেবে কত টাকা উত্তোলন করা হয়েছে এবং তা কী উদ্দেশ্যে ব্যবহার হয়েছে, তার যথাযথ নথিপত্র সংরক্ষণ করা তার দায়িত্ব ছিল। তদন্তে তার প্রশাসনিক দক্ষতার অভাব ও দায়িত্বে অবহেলা প্রমাণিত হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়। সবশেষে অভিযোগ, জবাব, তদন্ত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পর্যালোচনা করে সরকার মনে করে, তার বিরুদ্ধে আনা ‘অসদাচরণ’ এর অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। ফলে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী তাকে ২ বছরের জন্য ‘বেতন বৃদ্ধি স্থগিত’ করার লঘুদ- দেওয়া হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়।



