১৯ দিনে মৃত্যু ৯৪, আক্রান্ত ৫৭৯২

২৪ ঘণ্টায় আরও ৩জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৯৪৭
হামের প্রাদুর্ভাবে স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল
প্রবাহ রিপোর্ট : দেশে গত ১৯ দিনে সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৫৭৯২ এবং মৃত্যু ৯৪ জনের। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় (২ এপ্রিল সকাল ৮টা থেকে ৩ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত) সারা দেশে নতুন করে ৯৪৭ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এনিয়ে সারা দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫,৭৯২ জনে, যার মধ্যে নিশ্চিতভাবে আক্রান্তের সংখ্যা ৭৭১ জন।
দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে মোট ৯ জনের নিশ্চিত মৃত্যু হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। এ ছাড়া সন্দেহজনক মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৪ জনে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চট্টগ্রাম বিভাগের কক্সবাজার জেলায় মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, জেলা পর্যায় থেকে সংগৃহীত তথ্যে ভুল থাকায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ৩ জন, লক্ষ্মীপুর থেকে ১ জন এবং চাঁদপুর থেকে ১ জন- মোট ৫টি মৃত্যুর ঘটনা জাতীয় রিপোর্ট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামে আক্রান্ত ১ জন রোগীর মৃত্যুর তথ্য বর্তমানে এ রিপোর্টে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আক্রান্তের সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে ঢাকা বিভাগ। বিভাগভিত্তিক নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যায় দেখা যায়: ঢাকায় ৩৫৮ জন, রাজশাহীতে ১৯৪ জন
চট্টগ্রামে ১০২ জন, খুলনায় ৪১ জন, বরিশালে ৩৮ জন, সিলেটে ১৯ জন, ময়মনসিংহে ১৪ জন এবং রংপুরে ৫ জন।
এর আগে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ৩ হাজার ৭৭৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ২ হাজার ৫২৭ জন।
২৪ ঘণ্টায় হামে আরও ৩ মৃত্যু, আক্রান্ত ৯৪৭ : দেশে হামের সংক্রমণ পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৯৪৭ জন। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্যে এ চিত্র উঠে এসেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২ এপ্রিল সকাল ৮টা থেকে ৩ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৯৪৭। এর মধ্যে নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা ৪২। একই সময়ে সন্দেহজনক মৃত্যু হয়েছে তিনজনের। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সন্দেহজনক মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৯৪।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ১৯ দিনে দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে মোট ৯৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৭৯২ জনে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ইতোমধ্যেই চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করেছে। পাশাপাশি আগামী রোববার থেকে দেশব্যাপী বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করার জোর প্রস্তুতি চলছে।
সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে এবং পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
হামের প্রাদুর্ভাবে স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল : দেশে শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের সব চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি অফিস আদেশ জারি করা হয়। এতে বলা হয়, আপদকালীন পরিস্থিতিতে নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা এবং হামের টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করার জন্য এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
আদেশ অনুযায়ী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং এর অধীনস্থ সব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের অর্জিত ছুটি ও নৈমিত্তিক ছুটি পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। অর্থাৎ আপাতত কেউ কোনো ধরনের ছুটি নিতে পারবেন না, জরুরি দায়িত্ব পালনে সবাইকে কর্মস্থলে উপস্থিত থাকতে হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমী স্বাক্ষরিত এই আদেশে আরও বলা হয়েছে, এটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে জারি করা হয়েছে এবং অবিলম্বে কার্যকর হবে।
দেশে হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় ইতোমধ্যে সরকার জরুরি টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই পরিস্থিতিতে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কার্যক্রম আরও গতিশীল করা এবং হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণে স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে।
এ সংক্রান্ত আদেশটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে এটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটেও প্রকাশের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।



