জাতীয় সংবাদ

বিচার নিশ্চিত না করলে সরকার ৫ বছর টিকতে পারবে না: নাহিদ

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জুলাই হত্যাকা-, শাপলা হত্যাকা-, পিলখানা হত্যাকা-সহ সব গুম-খুন এবং শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকা-ের বিচার অবিলম্বে নিশ্চিত করতে হবে। বিচার নিশ্চিত না করা হলে এই সরকার কোনোভাবেই পাঁচ বছরের মেয়াদ সম্পূর্ণ করতে পারবে না। মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাজধানীর বিজয়নগরে ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, নতুন সরকার গঠনের পর গত চার মাসে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) কোনো নতুন রায় দেখা যায়নি। কোনো নতুন তদন্ত প্রতিবেদনও এখন পর্যন্ত দাখিল হয়নি। এটি স্পষ্ট যে, যাকে চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তিনি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। অবিলম্বে তাকে পদত্যাগ করতে হবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নতুন ‘যোগ্য ও দায়িত্ববান’ ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানান এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি বলেন, এমন একজনকে দায়িত্ব দিতে হবে, যিনি আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচার সম্পন্ন করবেন এবং দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার সব ব্যবস্থা নিশ্চিত করবেন। নাহিদ বলেন, ‘গণহত্যার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ বিদায় নিয়েছে। আর সংস্কার বাস্তবায়ন না করার ফলে বিএনপি জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছে। এই দুই শক্তির বিরুদ্ধে আমাদের এখন সমানভাবে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।’ আওয়ামী লীগ একটি ফ্যাসিস্ট, গণহত্যাকারী এবং সন্ত্রাসবাদী সংগঠন মন্তব্য করে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ বলেন, আওয়ামী লীগ দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ববিরোধী সংগঠন, যার আশ্রয় হয়েছে দিল্লিতে। কারণ আওয়ামী লীগের শিকড় রয়েছে দিল্লিতে। আওয়ামী লীগ একটি ভারতীয় পার্টিতে পরিণত হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে এটি একটি ভারতীয় পার্টিই ছিল। আওয়ামী লীগের দেশে আসা ও রাজনীতি করার সুযোগ ৫ আগস্টেই শেষ হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, যারা সমঝোতা করছে, যারা নতুন করে আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে পুনর্বাসিত করার স্বপ্ন দেখছে, তাদের পরিণতিও আওয়ামী লীগের মতো হবে। তিনি আরও বলেন, বিচার নিশ্চিত করতে না পারায় আইনমন্ত্রী স্পষ্টভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যর্থ হয়েছেন। তথ্যমন্ত্রীও স্পষ্টভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি আওয়ামী লীগের সুশীল সমাজকে গণমাধ্যমে জায়গা দিচ্ছেন। এসব কিছুই বাংলাদেশের জনগণ দেখছে। সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতের আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির আহমদ আলী কাসেমী, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ প্রমুখ।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button