জাতীয় সংবাদ

কাতারের এলএনজি কেন্দ্রে বিস্ফোরণ: নিহত ১৩, আহত ৬৬

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ কাতারের বৃহৎ রাস লাফান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস কমপ্লেক্সে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ৬৬ জন আহত হয়েছেন। গত মার্চে ইরানি হামলার পর বন্ধ হয়ে যাওয়া কার্যক্রম পুনরায় চালুর সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। কাতার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোববার (২১ জুন) সন্ধ্যায় বারজান স্থানীয় গ্যাস সরবরাহ কেন্দ্রে বিস্ফোরণটি ঘটে। তারা এটিকে একটি ‘কারিগরি দুর্ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। সোমবার (২২ জুন) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে কাতারের জ্বালানি মন্ত্রী সাদ আল-কাবি হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, নিহত সবাই ভারত ও পাকিস্তানের নাগরিক। এটি কোনো নাশকতা বা বৈরী হামলার ঘটনা নয়, বরং একটি দুর্ঘটনা। মন্ত্রী বলেন, জরুরি রক্ষণাবেক্ষণের কারণে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর থেকে প্ল্যান্টটির উৎপাদন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ ছিল। মাত্র দুই দিন আগে এটি পুনরায় চালু করা হয়। তিনি আরও জানান, বিস্ফোরণের ফলে পরিবেশের কোনো ক্ষতি হয়নি এবং প্ল্যান্টটির রপ্তানি সক্ষমতাও অক্ষুণœ রয়েছে। তবে বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরের দোহার কেন্দ্রস্থলেও কম্পন অনুভূত হয়। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ইতোমধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া স্থাপনাগুলো থেকে পুনরায় তেল ও গ্যাস উৎপাদন শুরু করার ক্ষেত্রে যে জটিলতা রয়েছে, এই দুর্ঘটনা তা নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কাতার সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ে, কারণ দেশটির এলএনজি রপ্তানির জন্য বিকল্প কোনো রুট নেই। এলএনজি উৎপাদন কার্যক্রম পুনরায় চালু করা অত্যন্ত জটিল একটি প্রক্রিয়া। এতে তাপীয় ধাক্কা বা ‘থার্মাল শক’ এড়াতে ধীরে ধীরে শীতলীকরণ করতে হয়। গ্যাসকে মাইনাস ১৬২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ঠান্ডা করে তরলে রূপান্তরের এই প্রক্রিয়ায় শীতলীকরণ ধাপটি সবচেয়ে সংবেদনশীল। যে স্থাপনাটিতে বিস্ফোরণ ঘটেছে, সেই বারজান গ্যাস সরবরাহ কেন্দ্র রাস লাফান শিল্পনগরীর অংশ। এটি কাতারএনার্জির একটি বৃহৎ গ্যাস উৎপাদন ও রপ্তানি কেন্দ্র, যার বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা ৭৭ মিলিয়ন মেট্রিক টন। বারজান কেন্দ্রটি মূলত স্থানীয় শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ করে। পাশাপাশি এটি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসও উৎপাদন করতে সক্ষম। এর আগে গত মার্চে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় রাস লাফানের দুটি গ্যাস প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এতে কাতারের এলএনজি রপ্তানি সক্ষমতা প্রায় ১৭ শতাংশ কমে যায়। কাতারএনার্জির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ওই ক্ষতি পুরোপুরি মেরামত করতে তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে। যুদ্ধ চলাকালে প্রতিষ্ঠানটি তাদের সমুদ্রভিত্তিক ও স্থলভিত্তিক প্রক্রিয়াকরণ স্থাপনা থেকে প্রায় ১০ হাজার কর্মী সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছিল। তবে মার্চের সেই হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button