জাতীয় সংবাদ

গাইবান্ধায় তীব্র নদী ভাঙনে গৃহহীন ৮ শতাধিক পরিবার

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ টানাবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে গাইবান্ধায় সবগুলো নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এতে গাইবান্ধা সদরসহ সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার অন্তত ২৫টি পয়েন্টে দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন। ফলে গেল এক সপ্তাহে নদী তীরবর্তী অন্তত আট শতাধিক পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বসতভিটা, গাছপালাসহ ফসলি জমি। ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে নদী পাড়ের মানুষদের। মঙ্গলবার (৩০) দুপুর ১২টায় গাইবান্ধার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী যমুনা/ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি বিপৎসীমার ৭২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পানির উচ্চতা ২১ সেন্টিমিটার বেড়েছে। ঘাঘট নদীতে পানি বিপৎসীমার ১২৯ সেন্টিমিটার নিচে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পানির উচ্চতা ৩৯ সেন্টিমিটার বেড়েছে। করতোয়া নদীর পানি বিপৎসীমার ৩৬৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পানির উচ্চতা ৫৫ সেন্টিমিটার বেড়েছে। তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ৩৯ সেন্টিমিটার নিচে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পানির উচ্চতা ৩৭ সেন্টিমিটার কমেছে। সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভাঙন কবলিত এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে সুন্দরগঞ্জের কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের কালির খামার গ্রামের শখের বাজার, হরিপুর ইউনিয়নের চর চরিতাবাড়ী, রাঘব, চন্ডিপুর ইউনিয়নের উত্তর সীচা, কাপাসিয়া ইউনিয়নের লালচামার, কেরানির চর, মিন্টু মিয়ার চর ও বাদামের চর। এসব এলাকার অন্তত দুই শতাধিক পরিবারের বসতভিটা ও দেড় শতাধিক বিঘা আবাদি জমি নদীতে ইতোমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে। সুন্দরগঞ্জের কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মনজু মিয়া জানান, অত্র ইউনিয়নের ৩ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের লাল চামার ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কেরানীর চর ভয়াবহ ভাঙনের মুখে পড়েছে। অব্যাহত ভাঙনে অন্তত ২০০ পরিবার ভিটেমাটি হারিয়েছে। শতাধিক বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। অন্যদিকে, ফুলছড়ি উপজেলার ভাঙনকবলিত এলাকার মধ্যে রয়েছে কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের বালাসীঘাট, রসুলপুর, উড়িয়া ইউনিয়নের রতনপুর, ফজলুপুর ইউনিয়নের মধ্য ও দক্ষিণ খাটিয়ামারীর চর ও চর চৌমোহন। চর চৌমোহনে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে ইতোমধ্যে অন্তত দুই শতাধিক পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে চৌমোহন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শতশত বিঘা ফসলি জমি ও বিপুল সংখ্যাক গাছপালা। ঘরবাড়ি ও আসবাবপত্র অন্যত্র সরিয়ে নিতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ভাঙনের শিকার মানুষগুলো। অপরদিকে, জেলার সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামেও শুরু হয়েছে নদী ভাঙন। ফজলুপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান আনছার আলী ম-ল জানান, পানি বাড়ার শুরু থেকেই এই ইউনিয়নের অনেকগুলো এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। ইউনিয়নের মধ্য ও দক্ষিণ খাটিয়ামারীর চর ও চর চৌমোহনসহ বেশ কয়েটটি এলাকার অন্তত ৪০০ থেকে ৫০০ পরিবার নদী ভাঙনের কবলে পড়ে ভিটেমাটি হারিয়েছেন। উড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা কামাল পাশা জানান, নদীতে অব্যাহত পানি বৃদ্ধির কারণে রতনপুর এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য এলাকায় ভাঙনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সদর উপজেলার মোল্লারচর ইউনিয়নের সিধাইল এলাকার নদী ভাঙনে ইতোমধ্যে ২০টি পরিবার নদী ভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়েছেন। ভাঙনের মুখে আছে আরো অনেক পরিবার। সেখানকার একমাত্র সিধাইল কওমী মাদরাসাটিও রয়েছে ভাঙনের মুখে। সিধাইল কওমী মাদরাসার মুহতামিম হাসান আলী জানান, ভাঙনের মুখে ইতোমধ্যে মাদরাসার দুইটি ঘর অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দ্রুত আরও দুটি ঘর সরিয়ে নিতে না পারলে নদীগর্ভে বিলীন হবে। গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম জানান, নদ-নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সদরসহ চার উপজেলায় নদী তীরবর্তী প্রায় ২৫টি স্পটে ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙন ঠেকাতে সম্ভাব্য সবধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button