মমেক হাসপাতালে আগুন : ৬ জন নিহতের তথ্য নিয়ে ধোঁয়াশা

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের নতুন ভবনে অগ্নিকা-ের ঘটনায় ছয়জন নিহতের তথ্য নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। তবে নিহতের তথ্যের সত্যতা যাচাই-বাছাই চলছে বলে জানিয়েছেন জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনের সম্মেলন কক্ষে রুদ্ধদ্বার বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে সদর আসনের সংসদ সদস্য ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সহসভাপতি আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবীর সরকার, ডিআইজি জাহিদুল হাসান, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রুকুনোজ্জামান রোকন, জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান, পুলিশ সুপার কামরুল হাসান এবং হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জাকির হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এদিকে, অস্পষ্ট সূত্রের বরাতে দাবি করা হচ্ছে, আগুন লাগার সময় হুড়োহুড়িতে পদদলিত হয়ে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেনি। প্রশাসনসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, চলমান বৈঠক শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত ও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যেতে পারে। এর আগে সোমবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনের একটি লিফট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। অল্প সময়ের মধ্যে আগুন হাসপাতালের বিভিন্ন তলার কিছু অংশে ছড়িয়ে পড়ে। পরে ফায়ার সার্ভিসের টানা এক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর আগুনের সময় হুড়োহুড়ি করে নিচে নামতে গিয়ে পদদলিত হয়ে পর্যায়ক্রমে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে-এমন খবর ছড়িয়ে পড়ে। এতে বিষয়টি নিয়ে হাসপাতাল ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবীর সরকার ও ডিআইজি জাহিদুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, নিহতের তথ্যের সত্যতা অনুসন্ধানে যাচাই-বাছাই চলছে। বিস্তারিত পরে জানা যাবে। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্টোর অফিসার ডা. ঝন্টু সরকার জানান, দুর্ঘটনাকবলিত লিফটটি দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট এবং ময়লা-আবর্জনায় ভরা ছিল। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ময়মনসিংহ সদরের তিনটি ইউনিট ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটসহ মোট চারটি ইউনিট প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। হাসপাতালের আনসার ও পুলিশ সদস্যরা জানান, সিগারেটের আগুন অথবা বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় থাকা নষ্ট লিফট থেকে আগুনের লেলিহান শিখা অল্প সময়ের মধ্যে আটতলা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে বলে তারা জানান। এ সময় আগুন লাগার খবর পেয়ে আটতলা নতুন ভবনে থাকা রোগী, স্বজন, চিকিৎসক, নার্সসহ হাসপাতালের কর্মীরা হুড়োহুড়ি করে নিচে নেমে আসেন। এতে হাসপাতাল চত্বরে শত শত উৎসুক মানুষের ভিড় জমে যায়।



