ময়মনসিংহে জামায়াতের গণসংযোগে বিএনপির হামলার অভিযোগ, আহত ৫

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এক চেয়ারম্যান প্রার্থীর গণসংযোগে হামলার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার নিগুয়ারী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের অললি বাঁশতলী বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। জামায়াতের দাবি, হামলায় নিগুয়ারী ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে পুলিশ বলছে, গণসংযোগকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে। হামলা বা মারধরের বিষয়টি পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রত্যক্ষ করেনি। নিগুয়ারী ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি শফিকুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে একটি দল সোমবার সকালে ওই এলাকায় গণসংযোগে বের হয়। জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারা দাওয়াতি কার্যক্রম ও গণসংযোগ করছিলেন। অললি বাঁশতলী বাজার এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় বিএনপি কর্মী খুরশিদ, জসিম ও সুজন খানের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জন তাদের ওপর হামলা করেন। গফরগাঁও উপজেলা জামায়াতের আমির ইসমাঈল হোসেন সোহেল বলেন, জামায়াতের পাঁচ থেকে সাতজন নেতা-কর্মীকে নিয়ে ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে দাওয়াতি কাজ চলছিল। সেখানে ২০ থেকে ২৫ জন এসে হামলা করে। এতে কয়েকজন আহত হন। গুরুতর আহত দুজনকে পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হামলায় কারা নেতৃত্ব দিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেন। তাদের মধ্যে খোরশেদ, জসিম, সুজন খান ও মুমিনের নাম বলেন তিনি। ইসমাঈল হোসেন আরও অভিযোগ করেন, স্থানীয় যুবদল নেতা ও বিএনপির চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে গণসংযোগ করা ইয়াসিন খানের অনুসারীদের সঙ্গে জামায়াতের বিরোধ রয়েছে। তার দাবি, জামায়াত এলাকায় সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী হলে স্থানীয়ভাবে চলমান বিভিন্ন অবৈধ কর্মকা-ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া হতে পারে, এমন আশঙ্কা থেকেই জামায়াতের কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনার বিষয়ে তিনি একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতেও নিন্দা জানান। তিনি দাবি করেন, নিগুয়ারীতে এর আগেও জামায়াতের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশকে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। জেলা জামায়াতের আমির আবদুল করিম বলেন, গণসংযোগের সময় বিএনপির কর্মীরা হামলা চালিয়ে আমাদের নেতা-কর্মীদের আহত করেছেন। তিনি জানান, এ ঘটনায় পাগলা থানায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে। তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএনপি থেকে চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে এলাকায় গণসংযোগ করা মো. ইয়াসিন খান। তিনি বলেন, জামায়াতের ওপর হামলার কোনো ঘটনা আমাদের লোকজন করেনি। ইয়াসিনের দাবি, ঘটনার সময় তিনি সেখানে ছিলেন না এবং বিষয়টি সম্পর্কে তার জানা নেই। তিনি বলেন, আমি তো জানি না। আমি বলতে পারব যে আমি তাদের কোনো জায়গায় ছিলাম বা গিয়েছিলাম এ রকম কোনো কিছু কেউ বলতে পারবে? যদি বলতে পারে, তাহলে সামনাসামনি কথা হবে। ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগকে তিনি ‘প্রতিহিংসা’ বলে মন্তব্য করেন। ইয়াসিন খান এর আগে ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের সদস্য ছিলেন। ২০২৫ সালের ১৭ মার্চ নিগুয়ারী ইউনিয়নের তললী গ্রামের মেহেদী হাসান ওরফে রাকিব (২৫) হত্যার ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়। ইয়াসিনের দাবি, ওই হত্যা মামলাটি মিথ্যা ছিল এবং বর্তমানে তাকে দলের পদ ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে পাগলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, গণসংযোগকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়েছিল। বিএনপি সমর্থকদের অভিযোগ ছিল, গণসংযোগে জামায়াতের সঙ্গে আওয়ামী লীগের লোকজনও ছিলেন।
ওসি বলেন, জামায়াতের লোকজন আওয়ামী লীগের লোকজন নিয়ে সেখানে গণসংযোগ করতে গিয়েছিল এমন দাবি করেছে বিএনপি। পরে বিএনপির সমর্থক কিছু লোক বাধা দেয়। তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। পরে কয়েকজন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে তারা জানতে পেরেছেন। তবে ঘটনার সময় পুলিশ কাউকে মারধরের অবস্থায় দেখেনি। ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে কাউকে পায়নি। এখন শুনছি কয়েকজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।



