বাংলাদেশের খোঁজখবর রাখেন বিশ্বকাপজয়ী ওজিল

প্রবাহ স্পোর্টস ডেস্ক ঃ জার্মানির বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার মেসুত ওজিল। বাংলাদেশে জার্মানির অনেক সমর্থক। জার্মানির সমর্থক তো বটেই, অন্য দলের সমর্থকরাও মেসুত ওজিলের ভক্ত। তার ভদ্র মানবিক আচরণ ও মুসলিম জীবনযাপন অন্য সবার চেয়ে তাকে ভক্তদের চেয়ে আলাদা করে রাখে। সেই ওজিল আকস্মিকভাবে আজ বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সফরে আসেন। বিশ্বকাপজয়ী তারকা ওজিল বাংলাদেশে এসেছেন একেবারে নিভৃতে। ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেনের ফেসবুক পোস্টে অনেকে বিষয়টি জেনেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মেডিক্যাল সেন্টার উদ্বোধনে এক ঘণ্টার কম সময় ছিলেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি মধ্যমণি থাকলেও কোনো বক্তব্য দেননি অনুষ্ঠানে আবার মিডিয়াও কথা বলার সুযোগ পায়নি। ওজিলের অনুষ্ঠান শুরুর মিনিট পনেরো আগে শিক্ষার্থীরা জেনেছেন। এরপরও কেউ ক্লাস বা অন্য কাজ ফেলে মেডিক্যাল সেন্টার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন এক ঝলক ওজিলকে কাছ থেকে। কয়েকজন কাছাকাছি দূরত্বে ছবিও তুলতে পেরেছেন। ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন ও ভিপি সাদিক কায়েম অবশ্য খানিকটা কথা বলার সুযোগ পেয়েছেন ওজিলের সঙ্গে। ওজিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ত্যাগের পর ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম তার আগমনের প্রেক্ষাপট নিয়ে বলেন, ‘আজকে আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের উদ্বোধন ছিল। এই মেডিকেল সেন্টার দীর্ঘদিন ধরে অকার্যকর অবস্থায় ছিল। তো মেডিকেল সেন্টারের প্রায় ৩ কোটি টাকার কাজ হয়েছে। এই পুরো কাজটা স্পন্সর করেছে তুর্কি দাতব্য প্রতিষ্ঠান ‘টিকা’ (ঞওকঅ)। তো আজকে টিকার কান্ট্রি ডিরেক্টর এসেছেন, পাশাপাশি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের ছেলে বিলাল এরদোয়ান এসেছেন। মূলত বিলাল এরদোয়ানের সাথেই ওজিল এসেছেন।’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আসার আগেই সকালে একটি অনুষ্ঠান ছিল। সেই অনুষ্ঠানে অনেক তরুণের সঙ্গে ছিলেন কায়েম ও আরমানরা। বাংলাদেশ নিয়ে আগে থেকেই ওজিল ধারণা রাখায় খানিকটা বিস্মিত কায়েম, ‘আমার কাছে ইন্টারেস্টিং লেগেছে, এখানে বিলাল এরদোয়ান সে বাংলাদেশ সম্পর্কে খুব স্টাডি করে এসেছে এবং ওজিলও সে বাংলাদেশ সম্পর্কে স্টাডি করে এসেছে। এবং সে জিজ্ঞেস করছিল তোমাদের লাস্ট জুলাই রেভোলিউশন, জুলাই রেভোলিউশনে আবু সাঈদের কথা জিজ্ঞেস করেছে। তো সব মিলিয়ে মোটামুটি ওয়েল ইনফর্মড। তারা কাজ করতে চায় এবং আমিও বললাম ওজিলের বাংলাদেশে ব্যাপক ফ্যানবেজ আছে, খুব পছন্দ করি আমরা তাকে এবং তার খেলা, তার খেলার শৈল্পিকতা।’
বাংলাদেশের মানুষ অন্যতম ফুটবলপ্রেমী। সাদিক ও আরমান সেটা জানিয়েছেন। তিনিও বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন,’ফুটবল নিয়ে আমরা বলেছি আপনার ব্যাপক বাংলাদেশে ফ্যান আছে, আপনাকে খুব পছন্দ করে এবং আমরা চাই বাংলাদেশের যে ফুটবল এবং ফুটবল ইন্ডাস্ট্রিটা খুবই রাইজিং। তো আমরা যদি একসাথে কোলাবোরেশনে কাজ করতে পারি এবং আপনার জায়গা থেকে একটু নার্সিং করতে পারেন তাহলে এটা একটা অনন্য উচ্চতায় আমরা নিয়ে যেতে পারব। এবং সে তার জায়গা থেকে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং আশা করতেছি ইনশাআল্লাহ এই কমিউনিকেশনটা অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশের বাফুফে থেকেও তাদের সাথে কমিউনিকেশন করা হবে আশা করছি। এবং এই কমিউনিকেশনের মাধ্যমে আমরা একটা কালেক্টিভ কো-অপারেশনের মাধ্যমে বাংলাদেশের ফুটবল এবং ওভারঅল বাংলাদেশের গেমকে আমরা অনন্য একটা উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারব।’ ডাকসুর পক্ষ থেকে ওজিলকে স্যুভেনিয়ার দিয়েছে। গত চার মাসে ডাকসু যা করেছে সেগুলো তো দেওয়া হয়েছে, পাশাপাশি বাংলাদেশের সিম্বল গ্রাম বাংলার চিত্র উপহার দেওয়া হয়েছে। ওজিল আগামীকাল কক্সবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ইফতার করবেন। এরপর বাংলাদেশ ত্যাগ করতে পারেন বলেন জানা গেছে।



