তরুণ পাকিস্তান বনাম অভিজ্ঞ বাংলাদেশ

প্রবাহ স্পোর্টস ডেস্ক ঃ রিকি পন্টিং, মাইকেল ক্লার্কের অস্ট্রেলিয়া, ব্রেন্ডন ম্যাককালামের নিউজিল্যান্ড, ওয়েন মর্গ্যানের ইংল্যান্ড, ভিরাট কোহলি, রোহিত শার্মার ভারত- যারা ওয়ানডে ইতিহাসে নিজেদের ব্র্যান্ড বা ঘরানা প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছিল। তবে দীর্ঘদিন ধরে পছন্দের সংস্করণে ক্রিকেট খেলেও এখনও নিজেদের কোনো ‘ব্রান্ড’ দাঁড় করাতে পারেনি বাংলাদেশ। কোচ ফিল সিমন্স আগের দিনই বলে গেছেন, পাকিস্তানের বিপক্ষে এই সিরিজ দিয়ে ২০২৭ বিশ্বকাপের পথে যাত্রা শুরু করছে বাংলাদেশ দল। গতকাল একই কথা বললেন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজও। তবে বিশ্বকাপে তাকিয়ে এবং সরাসরি বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে ভাবনা ও পরিকল্পনার কথা বললেও তার কথাতে এবারও পাওয়া গেল না কোনো ঘারানার দিক-নির্দেশনা বা ব্রান্ডের খবর। বাংলাদেশি ব্র্যান্ডের ক্রিকেট নিয়ে নানা সময়েই নানা আলোচনা হয়েছে। মাঠের ক্রিকেটে তা ফুটে উঠেছে সামান্যই। যা একটু ছিল, তা এই ওয়ানডে সংস্করণেই। ২০১৫ বিশ্বকাপ থেকে পরের তিন-চার বছরে এই সংস্করণে যে সাফল্য ও সোনালী সময়, বড় কোনো ট্রফি জিততে না পারলেও স্মরণীয় কিছু সিরিজ জয় ও সাফল্য যা ধরা দিয়েছে, সেখানে একটা নিজস্বতা গড়ে তুলতে পেরেছিল তখনকার ওয়ানডে দল। বিশ্ব ক্রিকেটের বিচারে সেটি খুব নজরকাড়া না হলেও বাংলাদেশের জন্য ছিল কার্যকর। সফল হওয়ার জন্য সেই নিজস্বতাটুকু অপরিহার্য না হলেও খুবই জরুরি। কিন্তু আজ থেকে শুরু হতে যাওয়া পাকিস্তান সিরিজের আগে সেই প্রশ্নে মিরাজ শুধু বললেন তাদের লক্ষ্যের কথা, তুলে ধরলেন সেই গৎবাঁধা ভাবনাই, ‘অবশ্যই আমাদের একটা লক্ষ্য আছে। যেহেতু সামনে ওয়ানডে বিশ্বকাপ এবং একটা শুরু করতে হবে, আমরা বলেছি যে, আমাদের এখন থেকেই শুরুটা হয়েছে। আমরা অবশ্যই ওভাবে একটা পরিকল্পনা করেছি। আগে ওয়ানডে আমাদের জন্য অনেক ভালো একটা ফরম্যাট ছিল এবং আমরা অনেক সেরা ফলাফলও পেয়েছি।’ সেটি এখন দূর অতীত। সেই পঞ্চপা-বের বাংলাদেশ পালাবদলে আরো এগিয়ে যাওয়া থেকে পিছু হটেছে বললেও ভুল হবে না। সেই আক্ষেপ থাকলেও নতুন কিছুর ইঙ্গিত দিয়ে রাখলেন মিরাজ, ‘আমাদের একটা ভালো একটা প্যাটার্ন ছিল ওয়ানডেতে। বেশ কিছু অনেক সিনিয়র ক্রিকেটার ছিল, একসঙ্গে অনেকদিন খেলেছে, তারা প্যাটার্নটা ভালো বুঝতে পেরেছে। আমাদের এখন যারা আছে, তাদেরকে দায়িত্ব নিতে হবে এবং আমার কাছে মনে হয় যে, ওয়ানডে এমন একটা খেলা, যেখানে আসলে প্রত্যেক পরিস্থিতিতে মানিয়ে নিতে হবে এবং প্রতিটি পরিস্থিতি কীভাবে সামলাতে হবে, এটা সব ক্রিকেটারের জানাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাটসম্যানদেরকে বেশি দায়িত্ব নিতে হবে। আমরা ওভাবে পরিকল্পনা করছি এবং যেহেতু আমাদের শুরু হচ্ছে, আমরা চিন্তা করছি যে কীভাবে আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে পারি।’ নিজেদের ব্র্যান্ডের কথা বলতে না পারলেও একটি ভাবনা অবশ্য মোটামুটি পরিষ্কার করতে পারলেন মিরাজ। দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপ ভাবনায় রেখে স্পোর্টিং উইকেটেই খেলতে চায় বাংলাদেশ। সবশেষ ওয়ানডে সিরিজে মিরপুরে মন্থর ও টার্নিং উইকেট নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হয়েছিল বিস্তর। সেটির ব্যাখ্যাও এবার দিলেন মিরাজ। পাশাপাশি জানিয়ে দিলেন, বিশ্বকাপ পর্যন্ত বেশির ভাগ ম্যাচে তারা ‘ট্রু’ উইকেটে খেলবেন, ‘অবশ্যই ‘ট্রু’ উইকেটে খেলব আমরা। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে আমরা যেটা করেছিৃ এটা প্রত্যেক দলই কিন্তু হোম অ্যাডভান্টেজ নেয়। যেহেতু ওয়েস্ট ইন্ডিজ স্পিনে একটু দুর্বল, তাই আমরা হোম অ্যাডভান্টেজটা নেওয়ার চেষ্টা করেছি। এখন আমরা অবশ্যই চেষ্টা করব ‘ট্রু’ উইকেটে খেলতে এবং ব্যাটসম্যানরা যেন অনেক আত্মবিশ্বাস পায়, অনেক রান করতে পারে, এভাবেই আমরা চেষ্টা করব।’ প্রতিপক্ষ ও পরিস্থিতি বিবেচনায় ঘরের মাঠের সুবিধাও যে নেওয়া হতে পারে, সেটিও অবশ্য জানিয়ে রাখলেন অধিনায়ক, ‘বেশির ভাগ ম্যাচ আমরা যদি ‘ট্রু’ উইকেটে খেলতে পারি, আমাদের ভালো অভিজ্ঞতা হবে। পাশাপাশি এটাও মনে রাখতে হবে, আমাদের কিন্তু কোয়ালিফাইও করতে হবে (বিশ্বকাপে সরাসরি)। যাদের বিপক্ষে ঘরের মাঠের সুবিধা নিতে পারি, তাদের সঙ্গে অবশ্যই চেষ্টা করব নেওয়ার জন্য। আবার এটাও মাথায় রাখতে হবে যে, বেশির ভাগ ম্যাচ যাতে আমরা ‘ট্রু’ উইকেট এবং ভালো উইকেটে খেলতে পারি। হোম কন্ডিশন মানে যে এরকম নয় যে, আমরা অনেক বাজে উইকেটে খেলব। কখনোই নয়। আমরা ভালো উইকেটেই খেলব, ¯্রফে প্রয়োজনে যেন হোম অ্যাডভান্টেজ নিতে পারি।’ বাংলাদেশ যেখানে অভিজ্ঞ নিয়েও প্যাটার্ণের খোঁজে হিমশিম সেখানে পাকিস্তান নিজেদের অভিজ্ঞ তারকাদের বাদ দিয়েই খেলতে এসেছে বাংলাদেশে। সবশেষ ওয়ানডে সিরিজে রান করেছেন বাবর আজম, রানে ছিলেন সাইম আইয়ুবও। কিন্তু টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ব্যর্থ হওয়া এই দুই ব্যাটারকে বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে রাখেনি পাকিস্তান। দলটির নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কিত সংস্কৃতির আরেকটি নতুন উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছিল একে। তবে অধিনায়ক শাহীন আফ্রিদি জানালেন, কাউকে বাদ দেওয়া নয়, তাদের লক্ষ্য ছিল তরুণদের বাজিয়ে দেখা। বাংলাদেশের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ৫০ ওভারের সংস্করণে না খেলা ক্রিকেটার আছেন ছয়জন। এর মধ্যে পাঁচজনই বিশেষজ্ঞ ব্যাটার, অন্যজন অলরাউন্ডার। ওয়ানডে না খেললেও টি-টোয়েন্টি খেলে ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিষ্ঠিত শাহিবজাদা ফারহান। তবে আব্দুল সামাদ, গাজী ঘোরি, শাইমাল হোসেইন, মাজ সাদাকাত ও সাদ মাসুদকে সব দিক থেকেই বলা যায় অনভিজ্ঞ। আজ প্রথম ওয়ানডেতে তিনজনের অভিষেক নিশ্চিত করেছেন শাহীন। ফারহান ও মাজের সঙ্গে হয়তো শাইমালও সুযোগ পেতে পারেন। টি-টোয়েন্টিতে প্রশ্নবিদ্ধ ব্যাটিং পারফরম্যান্সে বাবর সমালোচিত হলেও তার ওয়ানডে রেকর্ড ঝলমলে। ১৪০ ওয়ানডের ক্যারিয়ারে ৬৫০১ রান করেছেন ৫৩.৭২ গড়ে। গত নভেম্বরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজে এক সেঞ্চুরি করেন তিনি।



