বিশ্বকাপ নিয়ে সিন্ডিকেটের হরিলুট : সম্প্রচার স্বত্ব কিনছে না বিটিভি

প্রবাহ স্পোর্টস ডেস্ক ঃ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো বিশ্বকাপের সরাসরি সম্প্রচার স্বত্ব এবার কিনছে না বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সম্প্রচার স্বত্ব কেনা থেকে পিছিয়ে এসেছে বিটিভি। সেই সঙ্গে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব কেনার পুরো প্রক্রিয়া তদন্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। রোববার যুগান্তরকে এসব তথ্য জানান তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। বাংলাদেশে বিশ্বকাপ ফুটবলের সম্প্রচার স্বত্বকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট কাজ করছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। ফুটবল বিশ্বকাপ এলেই মাঠের লড়াইয়ের বাইরে আরেকটি অদৃশ্য লড়াই শুরু হয়-কে আনবে সম্প্রচার স্বত্ব, কত দামে আনবে এবং শেষ পর্যন্ত বিটিভির কাছে তা কত দামে বিক্রি করবে। অভিযোগ রয়েছে, স্বত্ব কম দামে কিনে বিটিভির কাছে কয়েক গুণ বেশি দামে বিক্রি করা হয়। আর এই অতিরিক্ত অর্থের বড় অংশ ভাগাভাগি করে মধ্যস্বত্বভোগীরা। বিশ্বকাপ ফুটবলের সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রি করে ফিফা। তারা অঞ্চলভিত্তিক বিভিন্ন সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানের কাছে স্বত্ব বিক্রি করে। দক্ষিণ এশিয়ার জন্য আঞ্চলিক সম্প্রচার গ্রুপগুলো এই স্বত্ব কিনে নেয়। পরে তারা বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল বা শ্রীলংকার টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর কাছে সেই স্বত্ব বিক্রি করে। এ প্রক্রিয়ার মধ্যেই তৈরি হয় মধ্যস্বত্বভোগীদের একটি বলয়। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে কম দামে স্বত্ব কেনা হলেও বাংলাদেশে তা পৌঁছাতে পৌঁছাতে মূল্য কয়েক গুণ বেড়ে যায়। বাংলাদেশে বিশ্বকাপ ফুটবলের সবচেয়ে বড় দর্শক এখনো নির্ভর করে বিটিভির ওপর। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় বিশ্বকাপ মানেই বিটিভি। কেননা দেশের বহু মানুষ এখনো কেবল সংযোগ বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বাইরে। ফলে বিশ্বকাপের সময় বিটিভির ওপর চাপ থাকে যে কোনোভাবেই খেলা সম্প্রচার নিশ্চিত করার। আর এ সুযোগটাই কাজে লাগিয়ে আসছে ওই চক্র। ক্রীড়াসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক সম্প্রচার কোম্পানির কাছ থেকে কম দামে স্বত্ব কিনে পরে তা বিটিভির কাছে কয়েক গুণ দামে বিক্রি করে। ফলে বিটিভিকে শতকোটি টাকার বেশি ব্যয় করতে হয়। কিন্তু সেই অতিরিক্ত অর্থ কোথায় যায়, কীভাবে ভাগ হয়, তার হিসাব মেলে না। এই বিতর্কে সবচেয়ে বেশি আলোচিত নাম তমা গ্রুপ। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব বাংলাদেশে আনার ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা ছিল এই প্রতিষ্ঠানের। অথচ তমা গ্রুপ একটি কনস্ট্রাকশন ফার্ম। তাদের মূল ব্যবসা রেলপথ, সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণকাজ। কিন্তু হঠাৎ করেই তারা বিশ্বকাপ ফুটবলের মতো একটি আন্তর্জাতিক সম্প্রচার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল। ক্রীড়াঙ্গনের অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন, কীভাবে একটি নির্মাণ কোম্পানি আন্তর্জাতিক সম্প্রচার স্বত্বের ব্যবসায় প্রবেশ করল? ওই সময় তমা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতাউর রহমান ভূঁইয়া মানিক ছিলেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সহসভাপতি। একই সঙ্গে ফুটবল প্রশাসনের একজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা এবং একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার হিসাবে তার ভূমিকা শুরু থেকেই প্রশ্নের মুখে পড়ে। ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, একজন ফুটবল প্রশাসক যদি বিশ্বকাপ সম্প্রচার স্বত্ব আনার সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানের প্রধান হন, তাহলে সেখানে স্বার্থের সংঘাতের বিষয়টি অনিবার্যভাবে সামনে আসে। সূত্রগুলোর দাবি, কাতার বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব আন্তর্জাতিক বাজারে যে দামে পাওয়া গিয়েছিল, তার চেয়ে অনেক দামে বিটিভির কাছে তা বিক্রি করা হয়। বিভিন্ন সূত্রে বলা হচ্ছে, শতকোটি টাকার বেশি ব্যয়ে বিটিভি সেই স্বত্ব কিনেছিল। অথচ আন্তর্জাতিক বাজারে এর প্রকৃত মূল্য ছিল ২৮ কোটি টাকার কম। এই অতিরিক্ত অর্থই পরে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে ভাগাভাগি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।



