স্থানীয় সংবাদ

এবার কেসিসির চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী পেলেন শুদ্ধাচার পুরস্কার

সবাই বললেন এবার একটু ব্যতিক্রম হল

স্টাফ রিপোর্টার ঃ বড় বড় রাঘব বোয়ালদের পিছনে ফেলে এবার খুলনা সিটি কর্পোরেশনের শুদ্ধাচার পুরস্কার ২০২২-২০২৩ পেলেন একজন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারি। নাম তার আব্দুল জলিল খা। তিনি কেসিসির ভেটেরিনারি দপ্তরের কুকুর ধরা শ্রমিক। ডিজিটাল জগতে অদক্ষ ও স্বল্প শিক্ষিত এই মানুষটি বড় বড় মানুষের ভীড়ে নিজেকে সততা, দায়িত্বশীলতা ও কর্মনিষ্ঠার পরিচয় দিয়ে এই সাফল্য অর্জন করেছেন। সবাইকে চমকে দিয়ে তিনি এবার জিতে নিলেন এই বিরল পুরস্কার। প্রতি বছর কেসিসির সবগুলো শাখা থেকে মোট তিনজনকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত করা হয়। কেসিসি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেকের নিকট থেকে শুদ্ধাচার পুরস্কার ২০২২-২০২৩ গ্রহণ করেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (যুগ্মসচিব) লস্কার তাজুল ইসলাম। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বৃহস্পতিবার সকালে নগরভবনে কেসিসি’র কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মাঝে শুদ্ধাচার পুরস্কার ২০২২-২০২৩ প্রদান করেছেন। শুদ্ধাচার পুরস্কারের জন্য গঠিত কেসিসি’র যাচাই-বাছাই কমিটি মূল্যায়ন সূচক অনুযায়ী প্রাপ্ত নম্বর বিবেচনাপূর্বক এ পুরস্কার প্রদানের জন্য মনোনীত করেছে। সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (যুগ্মসচিব) লস্কার তাজুল ইসলাম, পূর্ত বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আজিজুন নাহার বেলা এবং ভেটেরিনারি দপ্তরের কুকুর ধরা শ্রমিক আব্দুল জলিল খা পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন। সিটি মেয়র মনোনীত কর্মকর্তা ও কর্মচারীর হাতে সনদ পত্র, সম্মাননা ক্রেস্ট ও এক মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ তুলে দেন। কেসিসি’র প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা সানজিদা বেগম, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা, চীফ প্লানিং অফিসার আবির উল জব্বার, ভেটেরিনারি অফিসার ড. পেরু গোপাল বিশ্বাসসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসহ সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শুদ্ধাচার চর্চায় উৎসাহ প্রদানের জন্য সরকার “শুদ্ধাচার পুরস্কার প্রদান নীতিমালা-২০১৭” প্রণয়ন করে। পরবর্তীতে সময়ের প্রয়োজনে শুদ্ধাচার পুরস্কার প্রদান নীতিমালা-২০১৭ পরিবর্তন, পরিবর্ধন, পরিমার্জন, সংশোধন ও সমন্বয় সাধনপূর্বক এটিকে আরো বেশী কার্যকর ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে শুদ্ধাচার পুরস্কার প্রদান সংশোধন নীতিমালা-২০২১ প্রণয়ন করা হয়। উল্লিখিত নীতিমালার আলোকে প্রতি অর্থবছরে এ পুরস্কার প্রদান করা হয়। পুরস্কার পেয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে আঃ জলিল খা বলেন, “আমার জীবনে এত বড় পুরস্কার এই প্রথম। মেয়রের মত এত বড় মানুষের কাছ থেকে পুরস্কার নেয়া আগে কখনও ভাগ্যে জোটেনি। মেয়রের হাত থেকে যখন পরস্কার নিতে যাই তখন আমি কাঁপছিলাম। পুরস্কারের কথা শুনে খুশিতে কেঁদে ফেলি। আমি নিয়মিত এবং সময় মত অফিসে আসা ও অফিস শেষে যাওয়া আমার সাধারণ নিয়ম। কখনও অফিস প্রধান অনুমতি ছাড়া অফিস ত্যাগ করার ইতিহাস আমার নেই। তারমত দায়িত্বশীল হয়ে অন্যারা এ বিরল পুরস্কার পেতে পারেন। তার জন্য তাদেরকে নিয়মিত সৎ ও নিষ্ঠার সাথে অফিসে দায়িত্ব পালনের আহবান জানান। ওই দপ্তরের প্রধান ভেটেরিনারি অফিসার ড. পেরু গোপাল বিশ্বাস বলেন, বিরল পুরস্কারপ্রাপ্ত আঃ জলিল খা চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারি হলেও দায়িত্বশীল। তিনি কখনও তার আদেশ নিষেধের বাইরে গিয়ে কাজ করেননি। সততার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। এমন কি অফিস টাইমের বাইরেও তাকে কোন দায়িত্ব দিলে আন্তরিকতার সাথে তিনি কাজ শেষ করার সমৃদ্ধ ইতিহাস জলিলের রয়েছে। সবাই প্রিয় এই জলিল একজন সাদা মনের মানুষ। কোন ছয় নয় বুঝে না। সেই বটিয়াঘাট উপজেলার চক্রাখালী এলাকা থেকে বাই সাইকেল যোগে প্রতিদিন অফিসে আসেন তিনি। অফিস শেষ করে আবার চলে যান। তার নামে নেই কোন বদনাম। তিনি সবার সাথে সম্মান দিয়ে হাসি মুখে কথা বলেন। তার দক্ষতা, সততা, দায়িত্বশীলতাই এই পুরস্কার পেতে সহায়তা করেছে বলে এই কর্মকর্তা মনে করেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button