স্থানীয় সংবাদ

মহেশ্বরপাশা সিএসডি’র ক্রেন উপড়ে পড়ার ঘটনায় ক্ষতিপুরণ দিয়েই দায় এড়িয়ে যাচ্ছেন ঠিকাদার কোম্পানি ম্যাক্সস

সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও কারণ উৎঘাটনে গঠিত হয়নি কোন তদন্ত কমিটি

স্টাফ রিপোর্টার ঃ ৩৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক খাদ্য সংরক্ষণাগার প্রকল্পটির টেকসই ও কাজের গুনগত মান নিয়েও অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন। গত বুধবার ২১ ফেব্রুয়ারি ভোর আনুমানিক ৫টা ২০ মিনিটে খুলনার দৌলতপুর মহেশ্বরপাশা (সিএসডি) খাদ্য গুদামের অভ্যন্তরে আধুনিক খাদ্য সংরক্ষণাগার বা স্টিল সাইলো নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত বিশাল আকৃতির ক্রেনটি পার্শ্ববর্তী খাদ্য গুদামে কর্মরত কর্মকর্তা /কর্মচারীদের আবাসিক এলাকায় উপড়ে পড়ে। ক্রেনটির বুম লম্বায় ৬০ মিটার ও এটির উচ্চতা ৫৬ মিটার। ক্রেনটির নির্মাণ বেজ দৈর্ঘ্য ৩ মিটার ও প্রস্থ ৩ মিটার এবং থিকনেস ১মিটার পাইল ক্যাপের উপরে ১০ টন ধারন ক্ষমতার বিশাল আকৃতির ক্রেনটি স্থাপন করা হয়েছিল। বিশাল আকৃতির এ ক্রেনটির বেজ পাইল ও পাইল ক্যাপ নির্মাণ ত্রুটির কারণে ক্রেনটি বেজ থেকে উপরে পড়তে পারে বলে অভিযোগ অভিজ্ঞ মহলের। প্রায় ১ সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও কারন উৎঘাটনে গঠিত হয়নি কোন তদন্ত কমিটি। নেয়া হয়নি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ম্যাক্সসের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা। আবাসিকের ক্ষতিপুরন দিয়েই দায় এরিয়ে যাচ্ছেন ঠিকাদার কোম্পানি ম্যাক্সস। মহেশ্বরপাশা আধুনিক খাদ্য সংরক্ষণাগার নির্মাণ প্রকল্পের টেকনিক্যাল সাইট দেখভালের জন্য নিয়োজিত অভিজ্ঞ প্রকৌশলী মাজেদুল ইসলাম বলেন, ক্রেনটি দুর্ঘটনা ঘটেছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের স্থাপনের ত্রুটির কারণে। ক্রেনটি পাইল ক্যাপ থেকে রড ছিড়ে উপড়ে গিয়েছে। নকশা যেভাবে করা ছিল তার সাথে ধারন ক্ষমতা বাহিরে চলে গেছে যে কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশ আধুনিক খাদ্য সংরক্ষণকার প্রকল্পের পরিচালক মোঃ রেজাউল করিম শেখ জানান, ক্রেনটি দুর্ঘটনার কারনে আমার নির্মাণ কাজে গতি কমে গেছে ও কর্ম ঘন্টা নষ্ট হচ্ছে । আমাদের কনসালটেন্ট টিম উক্ত ঘটনার বিষয়গুলো আমাকে রিপোর্ট করবেন। উক্ত ঘটনার সঠিক তদন্ত করে কাজের মান ও ক্রেন উপড়ে পড়ার ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে। উল্লেখ্য, গত বুধবার ২১ ফেব্রুয়ারি ভোর আনুমানিক ৫টা ২০ মিনিটে খুলনার দৌলতপুর মহেশ্বরপাশা (সিএসডি) খাদ্য গুদামের অভ্যন্তরে আধুনিক খাদ্য সংরক্ষণাগার বা স্টিল সাইলো নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত বিশাল আকৃতির ক্রেনটি পার্শ্ববর্তী খাদ্য গুদামে কর্মরত কর্মকর্তা /কর্মচারীদের আবাসিক এলাকায় উপড়ে পড়ে। ক্রেন পড়ার বিকট শব্দে ঘুমিয়ে থাকা লোকজন এবং শিশুদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কয়েকটি শিশু আতস্কে বমি করে বলে জানা যায়। ক্রেনটির বেজ থেকে উপরে পড়ে নির্মানাধীন সাইলোর দক্ষিণ দিকে বসতি এলাকার ২টি টিন সেট ঘর ও গাছের উপর গিয়ে পড়ে। এতে ক্রেনটির ১টি অংশ মাটির গভীরে ৩০ ফুট ঢুকে যায়। এতে ঘরে ঘুমিয়ে থাকা ১ জন নিরাপত্তা প্রহরী আহত হয় ও ১টি ছাগল মারা যায় এবং আধা পাকা টিনের ঘর, বড় বড় গাছপালা বিধস্ত হয় বলে জানান এলাকাবাসি। এ সময় বিকট শব্দে ঘুমিয়ে থাকা লোকজন এবং শিশুদের মধ্যে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। ক্রেনটির বুমের শেষাংশ যেয়ে পড়ে পুকুরের ভিতর। অল্পের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনার কবল থেকে প্রানে রক্ষা পেল ১৫ টি পরিবারের সদস্যরা। প্রত্যক্ষদর্শিরা জানিয়েছে ক্রেনের বুমে ইলেকট্রিক সংযোগ থাকায় পুকুরের মাছ ছটফট করতে থাকে। এ ঘটনায় বিদ্যুতের তারের উপরে পড়ার কারণে আবাসিক কোয়ার্টারের বেশ কয়েকটি ইলেকট্রিক ফ্রিজ ও টেলিভিশন নষ্ট হয়ে গিয়েছে এবং ঘরের নিচে চাপা পড়ে একটি ছাগল মারা গিয়েছে। আবাসিক কোয়ার্টারে থাকা কয়েকজন স্টাফ জানান, তারা এই ক্রেনটিকে এলাকার উত্তর পাশে রাখার জন্য কর্তৃপক্ষকে বলেছিলেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আমলে নেননি। খুলনা জেলার খাদ্য নিয়ন্ত্রণ মোঃ তাজুল ইসলাম বলেন,আধুনিক খাদ্য সংরক্ষণকার প্রকল্পের পরিচালক মহেশ^রপাশা খাদ্য গুদামে নির্মাণাধীন স্টিল সাইলোর ক্রেন দুর্ঘটনার বিষয়টি তদারকি করতে বলেছিলেন। আমি সরজমিনে গিয়ে দেখে এসেছি। আমাকে লিখিত ভাবে কোন দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। প্রকল্পের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠনের ম্যানেজার ওমর ফারুক জানান, গত বুধবার ২১ ফেব্রুয়ারি ক্রেন উপড়ে পড়ে যাওয়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যেই উদ্ধার করা হয়েছে। এটি একটি দুর্ঘটনা। এতে আমাদের রড় ধরনের ক্ষতি হয়ে গেছে। এ বিষয়টি কি কারনে হলো তা আমাদের নিজস্ব একটি টিম তদন্ত করে রবিবার রিপোট হেড অফিসে জমা দিয়েছি।কিন্তু কি কারনে ঘটল তা স্পষ্ট করে কিছু বলেননি। এ অঞ্চলের সচেতন মহলের দাবি খাদ্য অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষ উক্ত বিষয়ের সঠিক তদন্ত করে ব্যবস্থা নিলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের প্রানহানীর হাত থেকে রক্ষা পাবে এ দেশের সাধারন মানুষ।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button