বাগেরহাটে যৌতুকের দাবীকে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর ফাঁসির আদেশ

বাগেরহাট প্রতিনিধি ঃ বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় যৌতুকের দাবীকে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে বাসুদেব ওরফে বাপ্পি কর্মকার নামে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদন্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার বিকেলে বাগেরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক এস এম সাইফুল ইসলাম রায় দেন। একই সঙ্গে আসামিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। রায় ঘোষনার সময় আসামী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এই মামলার চার্জশীট ভুক্ত অপর ৪ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত না হওয়ায় তাদের খালাস প্রদান করেন বিজ্ঞ বিচারক। ফাঁসির আদেশপ্রাপ্ত আসামী বাসুদেব ওরফে বাপ্পি কর্মকার কচুয়া উপজেলার গজালিয়া গ্রামের বাবুল কর্মকারের ছেলে। আদালত সুত্রে মামলার সংক্ষিপ্ত বিবারণে জানা গেছে, পিরোজপুর উপজেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার চরকাছারিয়া গ্রামের সুবোধ কুমারের মেয়ে সেতু রানিকে আসামি বাসুদেব সহ কয়েকজন অপহরণ করে। পরে রানীকে বাসুদেব বিবাহ করে। পরবর্তীতে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করেন তারা। এরপর এলাকায় এসে বসবাস করতে থাকেন এবং স্বর্ণের ব্যবসা শুরু করেন। ব্যবসার কারনে বাসুদেব তার স্ত্রীকে বিভিন্ন সময়ে যৌতুকের জন্য চাপ দিতে থাকে এবং বিভিন্ন সময়ে টাকা গ্রহণ করে। গত ২০১৯ এর ৬ আগস্ট ৮ লাখ টাকা যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে বেধড়ক নির্যাতন করে। এতে সেতু রানী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বাগেরহাট জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃতদেহ সৎকারের পর সেতুর রানীর পিতা ৮ আগস্ট কচুয়া থানায় মামলা করতে গেলে থানা পুলিশ দীর্ঘদিন ঘুরিয়ে মামলা নিতে অপারগতা প্রকাশ করে। উপায়ন্তর না পেয়ে পরবর্তীতে একই বছরের ২ সেপ্টেম্বর নিহতের পিতা সুবোধ কুমার আদালতে মামলা করেন। এতে ৪ জনকে আসামি করা হয়। আদালতের নির্দেশে মামলাটি পিবিআই পুলিশ তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ৪ মার্চ ৭ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত রিপোর্ট পেশ করে। আদালত ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য শেষে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমানিত হওয়ায় আসামি বাসুদেব ওরফে বাপ্পি কর্মকারকে মৃত্যুদন্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন। অন্য আসামিদের অব্যাহতি দেন। মামলায় আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট শাহী আলম বাচ্চু এবং বাদি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন সরকারি কৌশলী সিদ্দিকুর রহমান খান।



