ইরান, গাজা, ইউক্রেন ঘিরে উত্তপ্ত থাকবে জাতিসংঘ অধিবেশন

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাতের উত্তেজনা নিয়েই নিউইয়র্কে শুরু হয়েছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশন। ইরান যুদ্ধ, গাজা পরিস্থিতি ও ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে এবারের অধিবেশনে বিশ্বনেতাদের মধ্যে তীব্র কূটনৈতিক মতপার্থক্য দেখা দিতে পারে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর উপস্থিতি অধিবেশনকে বাড়তি গুরুত্ব দিয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) শুরু হয়েছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক। এতে প্রায় ১৩০ জন রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। জাতিসংঘের এই অধিবেশন ২২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। অধিবেশনের প্রথম দিনই ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে ট্রাম্পের। রয়টার্স জানিয়েছে, জাতিসংঘে ভাষণ দেওয়ার পাশাপাশি যুক্তরাজ্য, ইউক্রেন, ডেনমার্ক, গ্রিনল্যান্ড ও উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করবেন তিনি। এসব আলোচনায় ইরান যুদ্ধ, ইউক্রেন পরিস্থিতি এবং ইয়েমেনে হুথিদের তৎপরতা গুরুত্ব পাবে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বুধবার জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন। তার সঙ্গে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘাচি। যুক্তরাষ্ট্র ইরানি প্রেসিডেন্ট ও মূল প্রতিনিধি দলের নিউইয়র্ক সফরের অনুমতি দিলেও তাদের চলাচল ও কিছু কেনাকাটার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। একই সময়ে ইরানি প্রতিনিধি দলের কয়েকজন সদস্যকে ভিসা না দেওয়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বৃহস্পতিবার জাতিসংঘে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। গাজা যুদ্ধ ও ফিলিস্তিন ইস্যুতে তার বক্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। একই সময়ে নিউইয়র্কে তার সফর ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং বিক্ষোভের প্রস্তুতির খবরও এসেছে। ইউক্রেন যুদ্ধও এবারের অধিবেশনের অন্যতম বড় ইস্যু। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বুধবার ভাষণ দেবেন। রয়টার্স জানিয়েছে, ট্রাম্প ও জেলেনস্কির মধ্যে নিউইয়র্কে বৈঠকেরও সূচি রয়েছে। যুদ্ধের অবসানে কূটনৈতিক উদ্যোগ কতটা এগোয়, সেদিকেও নজর থাকবে। গাজা পরিস্থিতি নিয়েও জাতিসংঘে জোরালো আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে যুক্তরাষ্ট্র ভিসা না দেওয়ায় তিনি সরাসরি নিউইয়র্কে উপস্থিত থাকতে পারছেন না। তবে তাকে ভিডিওর মাধ্যমে অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর উপস্থিতিতে গাজা ও ফিলিস্তিন ইস্যু আরও গুরুত্ব পাবে। এবারের অধিবেশনে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের পাশাপাশি হুথিদের হামলা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথের নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকি এবং জলবায়ু সংকটও আলোচনায় থাকবে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়েও উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সব মিলিয়ে ইরান যুদ্ধ, গাজা ও ইউক্রেনের সংঘাতকে সামনে রেখে এবারের জাতিসংঘ অধিবেশন বিশ্ব কূটনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হয়ে উঠেছে। যুদ্ধের মধ্যেই ট্রাম্প, পেজেশকিয়ান, নেতানিয়াহু ও জেলেনস্কির মতো গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের একই সময়ে নিউইয়র্কে উপস্থিতি অধিবেশনের আলোচনাকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। তথ্যসূত্র: রয়টার্স, এপি, গালফ নিউজ, আল-জাজিরা।



