জাতীয় সংবাদ

কোটা আন্দোলনকারীদের দাবি ও অনেক বক্তব্য সংবিধানবিরোধী: কাদের

প্রবাহ রিপোর্ট : কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের দাবি ও অনেক বক্তব্য সংবিধানের এবং সাংবিধানিক রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতি বিরোধী বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আন্দোলন সংবিধানের বিরুদ্ধে বা আদালতের বিরুদ্ধে যাওয়ায় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা, সেই প্রশ্নে তিনি বলেন, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। গতকাল শনিবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। পবিত্র সংবিধানের আলোকেই কেবল রাষ্ট্র পরিচালনা হয় উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনা সম্পর্কিত সংবিধানের ১৯ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সব নাগরিকের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করবে রাষ্ট্র। সেখানে আরও বলা হয়েছে, মানুষের সামাজিক-অর্থনৈতিক অসাম্য নিরোধের জন্য নাগরিকদের মধ্যে সুষম বণ্টন নিশ্চিত করার জন্য এবং প্রজাতন্ত্রের সর্বত্র অর্থনৈতিক উন্নয়নে সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। জাতীয় জীবনের সর্বক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণও নিশ্চিত করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অথচ গত কয়েক বছরে সরকারি চাকরিতে মেয়েদের অন্তর্ভুক্তি হতাশাজনকভাবে কমেছে। কোটা না থাকায় পুলিশে মাত্র চার জন নারী অফিসার সুযোগ পেয়েছে, ফরেন সার্ভিসে সুযোগ পেয়েছেন মাত্র দুজন। ৫০টি জেলার নারীরা ক্যাডার সার্ভিসে যোগ দেওয়ার সুযোগ পায়নি। ২৩টি জেলায় একজনও পুলিশে চাকরি পায়নি। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, সংবিধানের উল্লিখিত বিধানের উদ্দেশ্য হচ্ছে, রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সরকারি চাকরিসহ সব খাতে সবাই যেন সমানভাগে সুযোগ পায়। সেজন্যই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, বিসিএস নিয়োগ পরীক্ষার ক্ষেত্রে মেধা তালিকায় নিয়োগ পায় ৭০ শতাংশের মতো। ৩৩, ৩৪, ৩৫তম বিসিএসে ৭২ শতাংশ প্রার্থীকে মেধার ভিক্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যেখানে কোটায় নিয়োগ পেয়েছে ২৮ শতাংশ। শূন্য পদগুলোতে মেধা তালিকা থেকে নেওয়া হয়েছে। কোটায় প্রার্থী না পাওয়া গেলে যেখানে মেধা তালিকা থেকে পূরণ করা হচ্ছে, সেখানে আন্দোলনের যৌক্তিকতা নেই। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশেই কোটার ভিক্তিতে সবচেয়ে কম নিয়োগ দেওয়া হয় জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, বর্তমানে ভারতে ৬০ শতাংশ, পাকিস্তানে ৯২.৫ শতাংশ, নেপালে ৪৫ শতাংশ এবং শ্রীলংকার ৫০ শতাংশ কোটায় নিয়োগ দেওয়া হয়। এই পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, আমাদের আর্থ-সামাজিক বাস্তবতায় কোটার প্রয়োজন রয়েছে। বিদ্যমান অন্তর্ভুক্তি এটা যৌক্তিক। শিক্ষার্থীদের পুঁজি করে একটি কুচক্রী মহল রাষ্ট্রকে অস্থির করার ষড়যন্ত্র করছে- এমন অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘এই অশুভ শক্তি এর আগেও… আমাদের কাছে তথ্য আছে। ২০১৮ সালে যখন কোটাবিরোধী আন্দোলন হয়, তখন রাজনৈতিকভাবে পরাজিত এই অশুভ শক্তি এই আন্দোলনের ওপর ভর করেছিল। নিরাপদ সড়কের আন্দোলনেও ভর করে রাজনৈতিক রূপ নেওয়ার ষড়যন্ত্র করেছে। তখন এই অশুভ শক্তির হাতে আমাদের ধানমন্ডি পার্টি অফিসও আক্রান্ত হয়েছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ওই মহলটি রাষ্ট্রব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ অকার্যকর করার জন্য এবং এদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যের প্রতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরূপ মনোভাব তৈরির ক্ষেত্র প্রস্তুতের চেষ্টা করেছিল। আওয়ামী লীগ তারুণ্যের শক্তিতে আস্থা রাখে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, তারুণ্যের সবাইকে নিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে সমান সুযোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণ করবে।
শিক্ষকদের পেনশন স্কিম শুরু ২০২৫ সাল থেকে: সর্বজনীন পেনশনের ‘প্রত্যয়’ স্কিমে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ২০২৪ সালে অন্তর্ভুক্ত করার যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তা ভুল জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, শিক্ষকদের পেনশন স্কিমের কার্যকারিতা শুরু হবে ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে। আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ১৩ জন শিক্ষক নেতার সঙ্গে কথা হয়েছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ২০২৫ সালের ১ জুলাইতে শিক্ষকদের পেনশন স্কিমের কার্যকারিতা শুরু হবে। এরআগে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ২০২৪ সালের যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তা সঠিক নয়। শিক্ষকদের সুপার গ্রেড প্রদানের বিষয়টি আলোচনা হয়েছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মর্যাদা ও লিখিত দাবিনামা সরকারের উচ্চ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে উত্থাপন করবো। পরবর্তী সময়ে আলাপ-আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিবো। আলাপ-আলোচনায় আশা করি সমাধান আসবে। বৈঠকে শিক্ষকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার করার অনুরোধ জানানো হয়েছে জানিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, শিক্ষকরা বলেছেন, ফেডারশনের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত জানাবেন। এদিকে বৈঠক শেষে বাংলাদেশ শিক্ষক ফেডারেশনের মহাসচিব অধ্যাপক ড. নিজামুল হক ভূইয়া সাংবাদিকদের বলেন, ‘আলোচনা সন্তোষজনক হয়েছে’। তবে তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানাননি শিক্ষকদের এই নেতা। তিনি বলেন, আমরা আমাদের ফেডারেশনের সঙ্গে কথা বলার পরে সিদ্ধান্ত জানাবো। পেনশন স্কিম নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করার কথা, সেটি আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে কেন- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে নিজামুল হক ভূইয়া বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের পাশাপাশি সরকারের মন্ত্রী আমাদের নিয়ে বসেছেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, বি এম মোজাম্মেল হক, আফজাল হোসেন, সুজিত রায় নন্দী, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, শিক্ষা ও মানবসম্পদ সম্পাদক ও শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী শামসুন্নাহার চাপা প্রমুখ। অন্যদিকে শিক্ষকদের প্রতিনিধি দলে ছিলেন- বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. আখতারুল ইসলাম, মহাসচিব অধ্যাপক ড. নিজামুল হক ভূইয়া, ঢাবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা, শিক্ষক নেতা অধ্যাপক ড. আবদুর রহিম ও অধ্যাপক শফিউল আলম ভূইয়া প্রমুখ।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button