স্থানীয় সংবাদ

নগরীর ফুটপাত আর মোড় গুলোতে শীতের পিঠা বিক্রির ধুম

শেখ ফেরদৌস রহমান ঃ খুলনা নগরীর ফুটপাতসহ মোড়ে মোড়ে শীতের পিঠা বিক্রির ধুম পড়েছে। প্রতিদিন বিকাল হতে রাত অবধি ছোট মাটির চুলায় মাটির পাতিলে ভাপা আর চিতাই পিঠার বিক্রি করছে নি¤œ বিত্তের নারীরা। নারিকেল খেজুরের গুড় আর আলো চালের গুড়া দিয়ে এসব পিঠা বিক্রি হয়। শীতের মধ্যে গরম পিঠা খেতে ভিড় জমাচ্ছে সব শ্রেণীর মানুষেরা। এছাড়া অনেকে মৌসুম পিঠা বিক্রি করে বাড়তী উপার্জন করছে। নগরীর হাদিস পার্ক, জাতীসংঘ পার্ক, সাতরাস্তার মোড়, শিববাড়ী সোনাডাঙ্গা খালিশপুরসহ নগরীর অলিগলিতে বিক্রি হচ্ছে পিঠা। তেমনই একজন খালিশপুরে বাস্তহারা এলাকার লাকী বেগম তিনি আর তার স্বামী দুজনই এই পিঠা বিক্রি করে সংসার খরচ মেটাচ্ছেন। আগে তার স্বামী ভ্রাম্মমান মাছ বিক্রি বিক্রি করত। এখন শীতের মৌসুমে পিঠা বিক্রি করে প্রতিদিন খরচ বাদে হাজার টাকা উপার্জন করছে। এছাড়া দেখা যায় সন্ধার খাবার হিসেবে অনেকে শিক্ষার্থীরা এসে ভিড় করছেন পিঠার দোকনে। বিশেষ করে চিতাই পিঠার সাথে ঝোলা গুড় বা সরিষা বাটাসহ বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে তৈরি করছে পিঠা। কথা হয় ক্রেতা রাইয়ানের সাথে তিনি বলেন, ভাই শীত মানে পিঠা আর এই শিতে যদি পিঠা না খাওয়া হয় তাহলে বলতে পারেন শীতকালটা আর শীতকাল মনে হয়না। আমি প্রায় সময় আসি বিশেষ করে চিতাই পিঠা খেতে ভালো লাগে। চুলা থেকে নামানো এসব পিঠা দিয়ে গরম ধোয়া উড়বে আর সরিষা বাটা মিশিয়ে খেতে সেই রকম মজা লাগে বলতে পারেন। এছাড়া দেখা যায় অনেক আসছে একই সাথে ৩০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত পিঠা নিচ্ছে। এর কারণ এখন আর মাটির পাতিলে বাসায় বসে পিঠা বানিয়ে খাওয়া সময় নেই মানুষের। তাই বাসাতে খেজুরের রস আর পিঠার দোকান থেকে পিঠা কিনে খেজুরের রস ভিজিয়ে ভেজানো চিতাই পিঠা খাচ্ছে। এছাড়া কথা হয় পিঠা বিক্রেতা কাকলী বেগমের সাথে তিনি বলেন, শীতের সময় পিঠা বিক্রি করে ভালোই রোজগার হচ্ছে। সব ক্রেতারা গরম পিঠা খেতে ভালো বাসে। বিশেষ করে ভাপা পিঠা তৈরি করতে ছোট্ট কাঠের চুলায় মাটির পাতিলে পানি ভরে মুখ লেপে ছোট করা হয়। তার ওপর পাতলা কাপড়ের আস্তরণ দিয়ে পাতলা কাপড়ে মুড়ে পাতিলের উপর বসিয়ে আগুনের তাপে পানির বাষ্প উঠে তৈরি হয় ভাপা পিঠা। আর এই ভাপা পিঠার চাহিদা বেশি এর জন্য অনেকে আছেন ক্রেতারা যারা দীর্ঘ সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করে পিঠা খাওয়ার জন্য।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button