স্থানীয় সংবাদ

চৌগাছায় হানি ট্রাপের মাধ্যমে অর্থ আদায় চক্রের ৬ সদস্য ডিবি’র খাঁচায়

যশোর ব্যুরো ঃ জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) যশোর কর্তৃক চৌগাছা উপজেলায় ‘হানি ট্রাপের’ মাধ্যমে ফাঁদে ফেলে অর্থ আদায় চক্রের সক্রিয় ৬ সদস্য গ্রেফতার। গ্রফতারকৃতরা হচ্ছে, চৌগাছা উপজেলার কালিতলা জনৈক সাইফুলের বাড়ির ভাড়াটিযা কালিতলা এলাাকর যাত্রাপুর গ্রামের আলমীগর হোসেনের স্ত্রী রুপালী খাতুন, চৌগাছা উপজেলার উত্তর কয়ারপাড়া বর্তমানে কলেজপাড়ার শাহজান আলীর ছেলে নান্নু মিয়া, ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার মান্দারবাড়িয়া বর্তমানে চৌগাছা উপজেলার কালিতলা গ্রামের আয়ূব হোসেনের ছেলে জাহিদ হোসেন, একই উপজেলার মনমতপুর গ্রামের তাজুল ইসলামের ছেলে দেলোয়ার হোসেন,একই গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে হৃদয় মহিফুল, চৌগাছা উপজেলার কয়ারপাড়া বর্তমানে কলেজপাড়ার নান্নু মিয়ার স্ত্রী জাকিয়া সুলতানা।
যশোর চৌগাছা থানাধীন রুস্তমপুর গ্রামের হাফিজুর রহমানের ছেলে ভিকটিমের ভাই মোঃ মোস্তাক হোসেন চৌগাছা থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগে তুলে ধরে বলেন যে, তার ভাই মোঃ আব্দুর রহমানকে বিভিন্ন ধরনের প্রলোভন দেখিয়ে মহিলাকে দিয়ে ডেকে নিয়ে একটি চক্র ‘হানি ট্রাপের’ মাধ্যমে ফাঁদে ফেলে মুক্তিপণ চাচ্ছে। যশোর জেলার সম্মানিত পুলিশ সুপার মোঃ জিয়া উদ্দিন আহম্মেদ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে জিয়া উদ্দনি আহম্মেদ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করেন এবং রহস্য উদঘাটনের জন্য জেলা গোয়েন্দা শাখা বিষয়টি রহস্য উদঘাটনের জন্য জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) কে নির্দেশ প্রদান করেন।
উক্ত অভিযোগ ও তথ্যের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের একটি চৌকস দল গত ২১ জানুয়ারী চৌগাছা থানাধীন চাঁন্দ্রাআফরা গ্রাম অভিযান চালান। অভিযানে অপহৃতা ভিকটিমকে উদ্ধার করে এবং পরবর্তীতে ভিকটিমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী চৌগাছা থানাধীন পৌরসভাস্থ বাসা ভাড়া নিয়ে হানি ট্রাপের মাধ্যমে ফাঁদে ফেলে অর্থ আদায় চক্রের সক্রিয় ৬ সদস্যকের গ্রেফতার করেন।
গ্রেফতারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত ১নং আসামীর সাথে ভিকটিমের পূর্ব পরিচয়ের একপর্যায়ে গত ২১ জানুয়ারী বেলা অনুমান ১১.১৫ ঘটিকায় বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তার বাড়িতে নিয়ে যায় এবং সেখানে আগে থেকে উপস্থিত থাকা প্রায় ৭/৮জন ব্যক্তি ভিকটিম আব্দুর রহমানকে ঘরের ভিতরে নিয়ে এলোপাতাড়ীভাবে মারপিট শুরু করে। এবং সেখান থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে চাঁদআফরা গ্রামের জহুরুলের বাড়িতে আটকে রাখে এবং আসামীরা ভিকটিমের সাথে থাকা নগদ ২ হাজার ৪শ’ ৫৮ টাকা এবং সাথে থাকা মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় এবং ভিকটিমের মোবাইল হতে তার বড় ভাই বাদীর নিকট মুক্তিপণ হিসাবে নগদ ১ লক্ষ টাকা দাবী করে। এরপর ভিকটিমকে তারা এজাহারের ৩নং আসামী জহুরুলের বাড়িতে আটকে রেখে বাদীর নিকট বার বার মুক্তিপণ দাবী করে এবং তারা হুমকি দিতে থাকে যদি যথা সময়ে মুক্তিপণ না দেওয়া হয় তবে তারা ভিকটিমকে মেরে গুম করে দিবে। বাদী তখন বিষয়টি চৌগাছা থানা পুলিশকে অবহিত করে এবং চৌগাছা থানা পুলিশ বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন এবং সম্মানিত পুলিশ সুপার যশোরের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) যশোর ২১ জানুয়ার্রী ভিকটিমকে উদ্ধারপূর্বক রাত পৌনে ১০ টার সময় অভিযান পরিচালনা করে ১নং আসামী রুপালী খাতুনকে চৌগাছা পৌরসভাস্থ ধনী প্লাজার সামনে হতে গ্রেফতার করেন এবং তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে তার সাথে থাকা অন্যান্য আসামীদের নাম ঠিকানা বলে দেয়।
পরবর্তীতে অদ্য ২২ জানুয়ারী বিকাল আনুমানিক পৌনে রাত আড়াইটা থেকে সাড়ে ৩ ঘন্টার মধ্যে চৌগাছা থানাধীন বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় ডিবি পুলিশ। গ্রেফতারকৃত সকলেই পুলিশের নিকট ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
আসামীরা দীর্ঘদিন যাবত যশোর চৌগাছা থানাধীন বিভিন্ন এলাকায় বাসা ভাড়া করে দুষ্কর্মে লিপ্ত নারীদের দিয়ে সুকৌশলে ভিকটিমকে বাসায় ডেকে নিয়ে আসে এবং পরবর্তীতে আগত ভিকটিমকে আটকে রেখে তাদের পরিবারের নিকট ফোন দিয়ে নগদ অর্থ আদায় সহ ভিকটিমের কাছে থাকা ব্যবহৃত মোবাইল, মোটরসাইকেল এবং নগদ অর্থ জোর পূর্বক কেড়ে নিত।
এসংক্রান্তে ভিকটিমের ভাই বাদী হয়ে চৌগাছা থানায় মামলা করতে গেলে চৌগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেন। আদালতের নির্দেশে চৌগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ মামলা হিসেবে রের্কড করেন। পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিজ্ঞ আদালতে সোপার্দ করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button