স্থানীয় সংবাদ

যশোর জেলায় গত এক বছরে কুকুরসহ বিভিন্ন প্রজাতির পশু পাখির কামড়ে জলাতংকর শিকার হয়েছে ১৯,৮১৯জন

# কুকুরসহ বিভিন্ন প্রজাতির পশু পাখির কামড়ে শিকার হলেও সরকারিভাবে ইনজেকশন মেলেনা #

মোঃ মোকাদ্দেছুর রহমান রকি যশোর থেকে ঃ গত এক বছরে যশোর জেলা সদর সহ ৮ উপজেলা এলাকায় জলাতংক রোগে আক্রান্তর শিকার হয়েছে ১৯ হাজার ৮শ’ ১৯জন। এর মধ্যে পাগলা ও পোষা কুকুরসহ বিভিন্ন প্রজাতির কুকুরের কামড়ের শিকার হয়েছে ৮ হাজার ৭শ’ ৪জন ও বিড়াল,ইঁদুর,ছুচোসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণীর কামড়ের শিকার হয়েছেন ১১ হাজার ১শ’ ১৫জন। যশোর জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে আরো বলা হয়েছে, জেলার সদর উপজেলা ছাড়াও চৌগাছা,ঝিকরগাছা,শার্শা,মনিরামপুর, কেশবপুর,বাঘার পাড়া ও অভয়নগর উপজেলা এলাকায় বিভিন্ন বয়সের নারী পুরুষ ও শিশুরা পাগলা ও পোষাসহ বিভিন্ন প্রজাতির কুকুরে কামড়ানোর শিকার হয়েছে। এ সব আক্রান্ত রোগীদের জন্য গত বছরে এআরভি অর্থাৎ আক্রান্ত রোগীর শরীরের চামড়ার নীচে দেয়ার জন্য ১০,৫৯১ এ্যাম্পুল এর মধ্যে ব্যবহার হয়েছে ৫,৯৯২ এ্যাম্পুল মজুত রয়েছে ৪,৫৯৯ এ্যাম্পুল। তেমনই রোগীর ক্ষতস্থানে দেওয়ার জন্য আরআইজি ২,১৮৯ এ্যাম্পুলের মধ্যে ব্যবহার হয়েছে ১,৩২৪ এ্যাম্পুল,মজুত রয়েছে ৮শ’ ৬৫টি এ্যাম্পুল। অপর দিকে,আইডিআরভি ১ম ডোজ এ্যাম্পুল রয়েছে ৮,৬৯৮টি। উক্ত আইডিআরভি ২য় ডোজ ৮,৩২০ এ্যাম্পুলের মধ্যে ৩য় ডোজ ব্যবহার হয়েছে ৮,২১৭ এ্যাম্পুল। বর্তমানে ৪র্থ ডোজ হিসেবে মজুত রয়েছে ১২৬ এ্যাম্পুল। জেলার ৮ উপজেলা এলাকার মধ্যে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল, অন্যান্য উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলিতে প্রতিনিয়ত জলাতংক রোগীদের নিয়মিত চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহনে কাজ করেছে। অপর একটি সূত্র বলেছে, পশু পাখি কামড়ের শিকার ব্যক্তি আক্রান্ত হয়ে উপজেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে যেয়ে সরকারিভাবে মজুতকৃত এআরভি,আরআইজি ও আইডি আরভি ঔষদ পাননি এমন অভিযোগ শোনা যায়। সরকারীভাবে সরবরাহকৃত এ্যাম্পুলগুলো এসব ইনজেশন প্রয়োগকারী ব্যক্তি ও মজুতকৃত ব্যক্তিরা ঔষধ শেষ হওয়ার অজুহাতে সরকারী ঔষধ কৌশল নিয়ে বিক্রি করে থাকেন। হঠাৎ কোন রোগী আক্রান্তর শিকার হয়ে সরকারী হাসপাতালে গেলে প্রতিষেধক ইনজেকশন মেলেনা তার কপালে। তার কারণ প্রয়োগকারী ব্যক্তি ও সরকারী কাজে নিয়োজিত ব্যক্তি রোগী ও রোগীর আত্মীয় স্বজনদের জানিয়ে দেন যা সরবরাহ ছিল তা স্টক শেষ। নতুন করে চাহিদা দিয়ে আবার আনতে হবে। অনেক সময় জলাতংক রোগী কাতরালে তাকে বাইরে থেকে ইনজেকশন কিনতে বাধ্য করা হয়। এমন অভিযোগের কথা শোনা যায় প্রতিষেধক ইনজেকশন দেয়ার কাজে যিনি নিয়োজিত থাকেন। সূত্রগুলো আরো বলেন, এসব এ্যাম্পুল সরকারি ষ্টোর থেকে সরাসরি বাইরে দোকানে বিক্রির তালিকায় চলে যায়। এরজন্য অসাধু প্রকৃতির সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা লাভবান হন। তাই জলাতংক রোগীদের জন্য সব সময় সরকারিভাবে ঔষধ সরবরাহের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন জেলার বিভিন্ন পেশার মানুষ।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button