স্থানীয় সংবাদ

গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সাংবাদিকতা : সংস্কার ও সম্ভাবনায় করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা

স্টাফ রিপোর্টার : দেশের জাতীয়, আঞ্চলিক ও বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে কর্মরত খুলনা বিভাগীয় সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) খুলনার একটি হোটেলে ‘গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সাংবাদিকতা : সংস্কার ও সম্ভাবনা’ শিরোনামে খুলনার সাংবাদিকদের মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়েছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘দৃক’ এ মতবিনিময়ের আয়োজন করে।
সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকতায় সংস্কারের লক্ষ্যে এই আয়োজনকে স্বাগত জানান খুলনার কর্মরত সাংবাদিকরা। পাশপাশি তৃণমূল থেকে শুরু করে সাংবাদিকতার সর্বস্তরে প্রকৃত অর্থেই সংস্কার হবে কি না এনিয়ে হতাশাও ব্যক্ত করেছেন তারা।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকরা জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্টের পক্ষে থাকা আওয়ামী পন্থী অনেক সাংবাদিকরাই সাংবাদিকদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। বিভিন্ন নামধারী সাংবাদিক সংগঠন ও লেজুড়বৃত্তিক নেতৃত্ব নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আওয়ামী, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলপন্থী নেতৃত্ব থেকে সাংবাদিকরা সরে না আসলে সাংবাদিকতাকে রাজনৈতিক প্রভাব মুক্ত করা সম্ভব নয়।
জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও সাংবাদিক নেতারা বলেন, বিগত বছরগুলোতে খুলনায় সাংবাদিকরা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। খুলনার অনেক সাংবাদিক মিথ্যে মামলার শিকার হয়েছেন। দিনের পর দিন বাড়ি থেকে পালিয়ে বেড়িয়েছেন।
এসব দুঃসহ যন্ত্রণা ও অভিজ্ঞতা স্মরণ করে তারা বলেন, জনস্বার্থে আগামী দিনে সরকার ও গোয়েন্দা নজরদারি মুক্ত সাংবাদিকতা করতে চান তারা।
এছাড়া বিগত ৫ আগস্টের আগে দীর্ঘদিন ফ্যাসিস্টের দোসর হয়ে থাকায় এখনও মানসিক দাসত্ব থেকে মুক্তি মেলেনি। ভয়ের সংস্কৃতি ও সেলফ সেন্সরশিপের বাস্তবতা এখনও একইভাবে বহাল রয়েছে। সাংবাদিকরা জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান থেকে উঠে আসা সমন্বয়করাও সাংবাদিকদের নিয়ন্ত্রণের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। সমন্বয়কদের কোনো ধরনের অনিয়ম, অন্যায় তুলে ধরে সংবাদ প্রকাশ করা যাচ্ছে না।
মতবিনিময়ে সাংবাদিকরা আরও বলেন, ঢাকার বাইরে বেশিরভাগ সংবাদমাধ্যমে বেতন নেই। সাংবাদিকদের সংবাদের চেয়ে বিজ্ঞাপনের চাপ বেশি। সংবাদমাধ্যমগুলোর কোনো ধরনের নৈতিক ভিত্তি নেই, কোনো নীতিমালা নেই। নিয়োগপত্রের মাধ্যমে সংবাদকর্মী নিয়োগ, ঝুঁকি ভাতা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি দেশের পত্রিকাগুলোর ভিত্তিহীন ও অবাস্তব সার্কুলেশন নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
সাংবাদিকরা বলেন অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা, নিরাপত্তা, সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করা না গেলে সততা ও বিবেকের সাথে সাংবাদিকতা কখনও সম্ভব নয়। দীর্ঘদিন দেশে সত্যিকার অর্থে সাংবাদিকতা না থাকায় সাংবাদিকতায় সংস্কার অত্যন্ত কঠিন বলেও মত সাংবাদিকদের।
মোটাদাগে সাংবাদিকদের মতে রাষ্ট্র ও সরকারের গণতান্ত্রিক চর্চা প্রতিষ্ঠিত না হলে আলাদা করে সংবাদমাধ্যমের সংস্কার সম্ভব নয়। সংবাদমাধ্যমগুলোকে ব্যবসায়িক ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট মালিকানা থেকে বের হতে হবে। গণমানুষের আস্থা অর্জনের লক্ষ্যে লেজুড়বৃত্তি ছেড়ে আদর্শ ও নৈতিকতার মানদ-ে সাংবাদিকতার সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার আহ্বান খুলনার সাংবাদিকদের।
দৃকের পক্ষ থেকে এই আলোচনা সঞ্চালনা করেছেন সাংবাদিক ও গবেষক সামিয়া রহমান প্রিমা ও ছবি তুলেছেন জয় অধিকারী।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button