কেসিসির পলাতক মেয়র খালেকের ঘনিষ্টজন ফ্যাসিস্ট এ্যানির অনিয়ম দুর্নীতির খোঁজে তদন্ত কমিটি গঠন

স্টাফ রিপোর্টারঃ খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসির) পলাতক মেয়র তালুকদার আঃ খালেকের ঘনিষ্টজন হিসেবে সর্বমহলে পরিচিত সহকারী কনজারভেন্সি অফিসার ফ্যাসিস্ট নূরুন্নাহার এ্যানির বিরুদ্ধে মশক নিধনের ওষুধ পাচারসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। দুর্নীতি ও চাকুরির বৈধ কাগজপত্র নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন। ইতোমধ্যে তাকে এসব অভিযোগে চাকুরি থেকে সাময়ীক বহিস্কার করা হয়েছে। কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লস্কর তাজুল ইসলাম বলেন, নানা অভিযোগে চাকুরি থেকে সাময়ীক বহিস্কৃত নুরুন্নাহার এ্যানীর ব্যক্তিগত শুনানী শেষ হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ তদন্তে গঠন করা হয়েছে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি। গত ৫ মার্চ কেসিসির সচিব শরীফ আসিফ রহমান এ কমিটি গঠন করেন। কেসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কোহিনুর জাহানকে আহবায়ক, কনজারভেন্সী অফিসার মোঃ অহিদুজ্জামানকে সদস্য সচিব ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোল্লা মারুফ রশীদকে সদস্য করে এ কমিটি গঠন করা হয়। ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, কেসিসির বরখাস্তকৃত সহকারি কনজারভেন্সী অফিসার নুরুন্নাহার এ্যানীর বিরুদ্ধে আনীত ৩/২৪নং বিভাগীয় মামলাটি তদন্ত করার জন্য এই কমিটি গঠন করা হয়। তবে কত দিন নাগাদ কমিটি তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করবেন তা উল্লেখ করেননি। বিভাগীয় মামলায় উল্লেখ করা হয়, রেশমা খাতুন গং কর্তৃক গত ৭ আগস্ট’২৪ অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানা যায়, তারা খুলনা সিটি কর্পোরেশনে আউট সোর্সিং-এ বিভিন্ন কাজে শ্রমিক হিসেবে নিয়োজিত আছেন। আপনি (এ্যানী) বিভিন্ন সময়ে তাদের অনেকের কাছ থেকে মাস্টাররোলে চাকুরী দেয়ার কথা বলে লক্ষাধিক টাকা ঘুষ নিয়ে আউট সোর্সিং এ চাকুরী দিয়েছেন। আউট সোর্সিং এ চাকুরী দিলেও তাদের ৩০ দিনের কাজ করিয়ে ১৫/২০ দিনের হাজিরা দেন। যার কারণে তারা যে পারিশ্রমিক পান তা দিয়ে তাদের সংসার নির্বাহ করা সম্ভব হয় না। এছাড়া আপনি সাবেক মেয়রকে বলে তাদের বেতন বৃদ্ধির আশ্বাস দিলেও পরবর্তীতে এ ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। তারা বেতন বৃদ্ধির বিষয়ে একাধিকবার তাগিদ প্রদান করলে আপনি রাগান্বিত হয়ে চাকুরী থেকে অব্যাহতি প্রদানের হুমকি দেন। এছাড়া তাদের পারিশ্রমিক নিয়েও আপনি টালবাহানা করেন। বিধায় তারা আপনার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করেছেন। যেহেতু, এহেন কর্মকান্ডে ২০ আগস্ট’২৪ বিকালে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ কেসিসি’র অন্যান্য কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা ভীষণভাবে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে আপনাকে চাকুরী হতে বরখাস্ত করার জন্য প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে অনুরোধ করেছেন। তাছাড়া আপনি মশক নিধনের যন্ত্রপাতি, তেল, মালামাল রুমে তালাবদ্ধ রেখে অননুমোদিত ভাবে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার ফলে কঞ্জারভেন্সি শাখার কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে আপনার দায়িত্ব প্রাপ্ত স্থানের রুমের তালা ভেঙ্গে কঞ্জারভেন্সি মালামাল বের করে কঞ্জারভেন্সি শাখার কার্যক্রম চালানো হয়। এছাড়া আপনার বিরুদ্ধে নানাবিধ অভিযোগের কারণে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে। এছাড়া আপনার সহকারী কঞ্জারভেন্সি অফিসার পদে চাকুরী পাওয়ার আবেদনে প্যারা মেডিকেল ডিপ্লোমা স্নাতকসহ পাঁচ বছরে অভিজ্ঞতা নেই, এছাড়া একই আবেদনের মার্জিনে আপনার চাহিত অভিজ্ঞতা নেই মর্মে দেখা যায়। আপনি ২০০৩ সালে এসএসসি পাশ করেন এবং ২০০৪ সালে এইচএসসি পাশ করেন। এতে প্রমাণ করে আপনি ভূয়া সনদপত্র দাখিল করে চাকুরীতে যোগদান করেন। আপনার এহেন অপরাধ খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কর্মকর্তা ও কর্মচারী) চাকুরী বিধিমালা ১৯৯৩ এর ৩৮ (ক) (খ) এবং (ঙ) ধারায় বর্ণিত দায়িত্ব পালনে অবহেলা, অসদাচরণ, পলায়ন এবং দুর্নীতি পরায়নের সামিল। এহেন কর্মকান্ডের জন্য কর্তৃপক্ষ আপনার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করার নির্দেশ দিয়েছেন। সেহেতু, আপনি নূরুন্নাহার এ্যানি, পিতা-শেখ নুরুল ইসলাম, সহকারী কঞ্জারভেন্সি অফিসার, এর বিরুদ্ধে খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কর্মকর্তা ও কর্মচারী) চাকুরী বিধিমালা ১৯৯৩ এর ৩৮ (ক) (খ) এবং (ঙ) ধারায় বর্ণিত দায়িত্ব পালনে অবহেলা, অসদাচরণ ও দুর্নীতির অপরাধে অভিযোগ আনায়ন করা হলো। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, এ্যানী সহকারি কনজারভেন্সী অফিসার হলেও সাবেক মেয়রের নাম ভাঙ্গিয়ে নানা ধরনেল অবৈধ সুযোগ সুবিধা ভোগ করেছেন। সাধারণ একজন সহকারি কনজারভেন্সী অফিসার হয়ে সকল নিয়ম কানুন ভেঙ্গে পাঁচ বার বিদেশ ভ্রমণে গেছেন। তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে সকল অনিয়মকে নিয়মে পরিণত করেছেন। মশক নিধন ভেজাল ওষুধ সিন্ডিকেটের সাথে তার সম্পৃক্ততা ছিল। তার ক্ষমতার দাপটে উর্দ্ধতন কর্মকর্তা ছিল অসহায়। ৫ আগস্টের পর ফ্যাসিস্ট এ্যানির অভিযোগ তদন্তের ফাইল অনেকটা কচ্ছপ গতিতে চলছে। প্রশাসকের চোখ ফাঁকি দিয়েই নগরভবনের একটি চক্র এ কাজটি করছে। প্রশাসক দুর্নীতিমুক্ত কেসিসি গড়ে তোলার চেষ্টা করলেও সাবেক মেয়রের সুবিধাভোগী চক্রটি নানা অজুহাতে তাঁর কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।



