কেসিসির সাবেক মেয়র খালেকের ভাইপো খ্যাত ফারুখ তালুকদারের দুর্নীতি তদন্তে কমিটি গঠন

স্টাফ রিপোর্টারঃ খুলনা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র তালুকদার আঃ খালেকের ভাইপো পরিচিত ফারুখ হোসেন তালুকদারের দুর্নীতি তদন্তে গঠন করা হয়েছে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি। গত ৫ মার্চ কেসিসির সচিব শরীফ আসিফ রহমান স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে এ কমিটি গঠন করা হয়। কেসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কোহিনুর জাহানকে প্রধান করে গঠিত কমিটির অন্য দু’ সদস্য হলেন কেসিসির রাজস্ব অফিসার এসকেএম তাছাদুজ্জামান ও সিনিয়র লাইসেন্স অফিসার মোঃ মনিরুজ্জামান রহিম। তবে কবে নাগাদ তদন্ত রিপোর্ট দিতে হবে সেই সময় বেঁধে দেয়া হয়নি। ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক সিনিয়র লাইসেন্স অফিসার (সাময়ীক বরখাস্ত) ফারুখ হোসেন তালুকদারের বিরুদ্ধে আনীত ৫/২৪নং বিভাগীয় মামলাটি তদন্ত করার জন্য এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই বিভাগীয় মামলায় উল্লেখ করা হয়, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক সিনিয়র লাইসেন্স অফিসার মোঃ ফারুখ হোসেন তালুকদারকে গত ১২ অক্টোবর’২৩ তারিখের ১১৩০ নং স্মারকে অটোরিক্সার আটককৃত ৪৮টি মটর কম জমা করার অভিযোগসহ উক্ত মটরের মূল্য বাবদ একলক্ষ বিরানব্বই হাজার টাকা কেসিসির কোষাগারে জমা প্রদানের জন্য নির্দেশনা দিয়ে ১০টি কার্য দিবসের মধ্যে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। কিন্তু আপনি অদ্যাবধি উক্ত পত্রের কোন ব্যাখ্যা দেননি এবং টাকাও জমা প্রদান করেননি। যেহেতু, আপনার এহেন কর্মকান্ড খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কর্মকর্তা-কর্মচারী) চাকুরী বিধিমালা ১৯৯৩ এর ক, খ, ও এবং চ ধারা মতে অর্থাৎ দায়িত্ব পালনে অবহেলা, অসদাচরণ, দুর্নীতি পরায়ন এবং অর্থ আত্মসাথে দায়ে দোষী তথা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এহেন কর্মকান্ডে কেসিসি’র ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে। কেসিসির সাবেক সিনিয়র লাইসেন্স অফিসার মোঃ ফারুখ হোসেন তালুকদারকে খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কর্মকর্তা-কর্মচারী) চাকুরী বিধিমালা ১৯৯৩ এর ক, খ, ও এবং চ ধারায় বর্ণিত দায়িত্ব পালনে অবহেলা, অসদাচরণ, দুর্নীতি পরায়ন এবং অর্থ আত্মসাথের কারণে গুরুদন্ডে দন্ডিত হওয়ার সামিল। সেহেতু, আপনি মোঃ ফারুখ হোসেন তালুকদার, পিতা-আব্দুস ছত্তার তালুকদার, নি¤œমান সহকারী (সাময়িক বরখাস্ত) সাবেক সিনিয়র লাইসেন্স অফিসার, খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কর্মকর্তা-কর্মচারী) চাকুরী বিধিমালা ১৯৯৩ এর ক, খ, ও এবং চ ধারা মতে অর্থাৎ দায়িত্ব পালনে অবহেলা, অসদাচরণ, দুর্নীতি পরায়ন এবং অর্থ আত্মসাথে দায়ে অভিযোগ আনায়ন করা হলো। অভিযোগ রয়েছে, এই ফারুখ হোসেন তালুকদার সাবেক মেয়র তালুকদার আঃ খালেকের ভাইপো পরিচয় দিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করতেন। তার অনিয়মের কারণে পন্যবাহী ইজিবাইকের লাইসেন্স হওয়ার পরও প্রায় দেড় বছর তা মালিকদের নিকট বিতরণ করা হয়। তিনি নি¤œমান সহকারি হলেও ক্ষমতার অপব্যবহার করে হয়েছেন সিনিয়র লাইসেন্স অফিসার। ট্রেড লাইসেন্সের ১১টি বই হারানোর সাথে তিনি জড়িত বলে ভুক্তভোগী কর্মচারিরা জানান। কিন্তু তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে সেই অভিযোগ থেকে কেসিসি কর্তৃপক্ষ দায়মুক্তি দেন। তিনি সাবেক মেয়রের এলাকার লোক হলেও মেয়র তার চাচা হিসেবে পরিচয় দিতেন। এ জন্য উর্দ্ধতন কর্মকর্তারাও তার সাথে হিসাব করে কথা বলতেন। তিনি কোন অন্যায় করলে তা না দেখার ভান করতেন উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা। সকল আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে তার ছোট ভাইকে ট্রেড লাইসেন্স শাখায় চাকুরি দেন। তিনি এতই ক্ষমতাধর ছিলেন একজন কাউন্সিলরের (৩নং ওয়ার্ড) ভাইকে অপমান অপদস্ত করতে দ্বিধা করেননি। এমন কি তার ছোট ভাই ওই কাউন্সিলরের ভাইকে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করে। তা নিয়ে সাবেক মেয়র পর্যন্ত বিষয়টি গড়ায়।



