জাতীয় সংবাদ

চট্টগ্রামে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা: আইসিইউতে শিশুসহ ৩ জন

প্রবাহ রিপোর্ট : চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত শিশু আরাধ্যা বিশ্বাসকে যখন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ২৬ নম্বর ওয়ার্ড থেকে আইসিইউতে নেওয়া হচ্ছিল, তখন তার বাবা দিলীপ বিশ্বাস ও মা সাধনা রাণীর লাশ শ্মশানের পথে; ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে চিকিৎসকদের নির্দেশে সনাতন স্বেচ্ছাসেবী ফাউন্ডেশনের সেবকরা তাকে নিয়ে যান আইসিইউতে। সেখানে আগে থেকেই আছে দুর্ঘটনায় আহত কলেজছাত্রী তাসনিয়া ইসলাম প্রেমা (১৮)। সে নিহত রফিকুল ইসলাম-লুৎফুন নাহার দম্পতির মেয়ে। হাসপাতালের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আরাধ্যার মামাতো ভাই দুর্জয় কুমার বিশ্বাস (১৮)। সে কুষ্টিয়ার একটি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র। আরাধ্যার কাকা অসিত কুমার বাড়ই ঝিনাইদহ থেকে এসে তাদের সঙ্গ দিচ্ছেন। এসেছেন প্রেমার মামি জেসমিন রহমানও। চিকিৎসকরা জানান, আরাধ্যার ভেঙে যাওয়া দুই পায়ে প্লাস্টার করে দেওয়া হয়েছে। তার মাথায় আঘাত পেয়েছে। তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়েছে। অপরিবর্তিত রয়েছে প্রেমার শারীরিক পরিস্থিতি। এছাড়া দুর্জয়ের হাত ও পায়ে প্লাস্টার করা হয়েছে। মাথায় আঘাত থাকায় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এদিকে সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের দেখতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে গেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বীরপ্রতীক এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে তারা চমেক হাসপাতালের ২৮ নম্বর ওয়ার্ড ও আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রোগীদের দেখে আসেন। এ সময় আহতদের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। আহতদের চিকিৎসা কার্যক্রম সম্পর্কে তাদের অবহিত করেন চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দিন এবং উপ-পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াস চৌধুরী৷ তারা বলেন, আহতদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়েছে। গত বুধবার সকাল ৭টার দিকে লোহাগাড়ার জাঙ্গালিয়া চুনতি বন রেঞ্জ কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে বাস ও মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে মারা যান ১০ জন। এদের মধ্যে একই পরিবারের ৫ সদস্য রফিকুল ইসলাম শামীম (৪৬) ও তার স্ত্রী লুৎফুন নাহার সুমি (৩৫), তাদের দুই মেয়ে ৮ বছরের লিয়ানা এবং ১৪ বছরের আনিশা আক্তার, শামীমের ভাগনি ১৬ বছরের তানিফা ইয়াসমিন (১৬) নিহত হন। এছাড়া মাইক্রোবাসের যাত্রী দিলীপ বিশ্বাস (৪৩) ও সাধনা রাণী ম-ল (৩৭) দম্পতি, দিলীপের ভাই ৬০ বছর বয়সী আশীষ ম-ল, মুক্তার হোসেন ও চালক ইউসুফ আলী (৫৫) মারা গেছেন সড়ক দুর্ঘটনায়।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button