নগরীতে একদিনে গৃহবধূসহ দুই খুন

জিন্নাপাড়ায় গৃহবধূকে কুপিয়ে ও গুলি এবং মিস্ত্রিপাড়ায় যুবককে গুলি করে হত্যা করা হয়
স্টাফ রিপোর্টার : আবারও রক্তাক্ত হয়েছে খুলনা নগরী। বৃহস্পতিবার একদিনে গৃহবধূসহ দুইজনকে গুলি ও কুুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এর মধ্যে সকালে নগরীর মিস্ত্রিপাড়া বাজারের পূর্ব পাশের আনসার উদ্দিন লেন এলাকায় মো. তুষার (২৭) নামে এক যুবককে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ সময় তার ব্যবহৃত মোটর সাইকেলটি সড়কে পড়ে ছিল। এ ঘটনার প্রায় ১৪ ঘন্টার ব্যবধানে সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে নগরীর জিন্নাপাড়া বউবাজারের সাত নম্বর গুলিতে খুশি (২৫) নামে এক নারীকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
গৃহবধূকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা : খুলনা মহানগরীর লবণচরা থানাধীন জিন্নাপাড়া এলাকায় খুশি (২৫) নামে এক নারীকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে নগরীর জিন্নাপাড়া বউবাজারের সাত নম্বর গলিতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত খুশি ওই এলাকার বাসিন্দা সুমন সরদারের স্ত্রী।
লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোশারেফ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মাদকসংক্রান্ত বিরোধের জেরে জিন্নাপাড়ার সড়কে দুর্বৃত্তরা খুশিকে গুলি ও কুপিয়ে জখম করে। পরে তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ওসি আরও জানান, নিহতের স্বামী সুমন সরদার ‘ব্লেড বাবু’ নামে পরিচিত। তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি।
ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। হত্যাকা-ে কারা জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানান ওসি।
তবে নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, মিরাজ নামে এক যুবক তাকে গুলি করে হত্যা করেছে। সে পূর্ব পরিচিত। ঘটনার কিছুক্ষণ আগে খুশিকে দেখে মিরাজ বলে ‘আপু ভালো আছো’ এ কথা বলেই সে তাকে গুলি করে।
যুবককে গুলি করে হত্যা : খুলনায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে মো. তুষার (২৭) নামে এক যুবক নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে পুলিশ নগরীর মিস্ত্রিপাড়া বাজারের পূর্ব পাশের আনসার উদ্দিন লেন থেকে তার লাশ উদ্ধার করে। ঘটনাস্থলে নিহত তুষারের লাশের পাশে তার ব্যবহৃত একটি কালো রঙের নম্বর প্লেটবিহীন (আর-১৫) মোটরসাইকেলটি পড়ে ছিল।
নিহত তুষার নগরীর জিন্নাহপাড়ার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে। সে নগরীর শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাধক সম্রাট পলাশের সহযোগী। তার বিরুদ্ধে খুলনা সদর থানায় অস্ত্র ও চাঁদাবাজি মামলা রয়েছে। খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসেন রিপন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোরে নগরীর পূর্ব বানিয়াখামারের লোহার গেট এলাকার একটি মাদ্রাসার সামনে ধস্তাধস্তি ও ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে। পরে তুষার মোটরসাইকেলে সেখান থেকে চলে আসার সময় আনসার উদ্দিন লেনের পূর্ব প্রান্তে পৌছালে তাকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। এতে সে গুলিবিদ্ধ হয়ে মোটরসাইকেলসহ রাস্তায় পড়ে যান। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে। পরে খবর পেয়ে খুলনা থানা পুলিশ তার লাশ ও মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে।
খুলনা থানার ওসি লোকমান হোসেন রিপন বলেন, নিহত তুষার নগরীর শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক সম্রাট পলাশের অন্যতম সহযোগী। তার বিরুদ্ধে খুলনা সদর থানায় অস্ত্র ও চাঁদাবাজি মামলা রয়েছে। হত্যাকা-ের কারণ ও জড়িতদের পরিচয় শনাক্তসহ তাদের গ্রেফতারের অভিযান চালানো হচ্ছে। নিহত তুষারের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে ওসি উল্লেখ করেন।



