খুমেক হাসপাতালের বড় বাবুর বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন প্রদান

স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের বড় বাবু মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় পরবর্তীতে গঠিত তদন্ত কমিটির কর্মকর্তারা তদন্ত কার্যক্রম শেষ করে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালকের কাছে প্রেরণ করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিশ্চিত করে খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ( স্বাস্থ্য) ডা: মো: মনজুরুল মুরশিদ বলেন, আজ ( বৃহস্পতিবার) খুমেক হাসপাতালের বড় বাবু মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। এ বিষয়ে আগামী রোববার তদন্ত কািমটির রিপোর্ট অনুযায়ী মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একাধিক সূত্রে জানা গেছে, খুমেক হাসপাতালের বড় বাবু মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে তা তদন্ত কমিটির কর্মকর্তারা তদন্ত করে সত্যতা পেয়েছেন। উল্লেখ্য, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বড় বাবু মাহাবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম অভিযোগ রয়েছে। গত বছরের ১৭ সেপটেম্বর ভুক্তভোগী বেসরকারী ইন্টার্নি নার্সিং প্রতিষ্ঠান মমতা নার্সিং কলেজ, এশিয়ান নার্সিং কলেজ নিউসিটি নার্সিং কলেজ সিএস,এস নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীরা একত্রে নার্সিং সুপারেন্ট রোকেয়া ও বড় বাবু মাহাবুবুর রহমানের ঘুষ চাওয়া নিয়ে শিক্ষার্থীরা খুমেক হাসপাতালের পরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিলেও নিয়মিত পরিচালক না থাকায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ। এছাড়া একই প্রতিষ্ঠানে গেল প্রায় ৩৬ বছর যাবৎ চাকুরী করছেন তিনি এর মধ্যে এক যুগ আগে অনিয়মের অভিযোগে তাকে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলি করলেও কয়েক মাস পর আবারও খুমেক হাসপাতালে যোগদান করেন। এর পর থেকে হয়ে উঠেন আরও বেপরোয়া এমনকি তার মুল পদ হিসাব রক্ষক হলেও কাজ করছেন অফিসের বড় বাবু হিসেবে। নাম না প্রকাশ শর্তে এক কর্মচারী বলেন, এর আগে হাসপাতালে ডরমিটরির ভাড়া খাতায় না উঠিয়ে তিনি আত্মসাৎ করেছেন। এমন অভিযোগ উঠলেও তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এছাড়া হাসপাতালে সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের তিন বছর পর শ্রান্তি-বিনোদনের ভাতা উঠাতে গেলেও তাকে কমিশন দিতে হয়। এসব বিষয়ে গত ২৫ ডিসেম্বর ‘খুমেক হাসপাতালের বড় বাবুর বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ’ শীর্ষক শিরোনামে বহুল প্রচারিত দৈনিক প্রবাহ পত্রিকায় একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর প্রেরিপ্রেক্ষিতে খুমেক হাসপাতালের পরিচালক ডা: মহসীন আলী ফরাজী নির্দেশনায় ৩ সদস্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির সদস্যরা তাদের তদন্ত কার্যক্রম শেষে বৃহস্পতিবা ( ১৭ এপ্রিল) খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালকের কাছে প্রেরণ করেন।



